September 25, 2018

অবহেলিত মুলাদী পৌরসভার বাসিন্দারা

--- ২২ জুন, ২০১৭

✪প্রিন্স তালুকদার, মুলাদী থেকে ফিরে ॥ বরিশালের মুলাদী পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে ২০১২ সালে। কিন্তু নাগরিকসেবায় এ পৌরসভা তৃতীয় শ্রেণির অবস্থানেও নেই। এ পৌরসভায় ভাগাড় (ডাস্টবিন), পানির ব্যবস্থা নেই। নেই পর্যাপ্ত নালা, রাস্তাঘাটের অবস্থাও বেহাল। এতে পৌরসভার বাসিন্দারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি ওয়ার্ডে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। বাসিন্দারা খালের পানি ব্যবহার করছেন। সড়কগুলো যেন মরনফাদ। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সড়ক। এ ছাড়া ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডেরও কিছু সড়কের বেহাল দশা। পৌর এলাকার কোথাও স্থায়ী ভাগাড় নেই। বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। তবে বন্দর এলাকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়সহ আশপাশ থেকে পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরা ময়লা পরিষ্কার করেন বলে কয়েকজন বাসিন্দা জানান। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ব্যাপারী বলেন, পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই, রাস্তা নেই, ভাগাড় থাকবে কীভাবে? মানুষ যে যেখানে পারে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। একই ওয়ার্ডের মো. ইউসুফ মাঝি বলেন, ‘পৌরসভা থেকে পানির ব্যবস্থা করা হয়নি। আমি ৬০ হাজার টাকা দিয়ে নলকূপ বসিয়েছি।’৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নাছির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘ডাস্টবিন দিয়ে কী করব? রাস্তাই তো নেই। এখানে পৌর সুবিধা বলতে কিছুই নেই। আট বছর আগে এই রাস্তা হয়েছে, এরপর আর সংস্কার হয়নি। এতে আমরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।’৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সেলিমা বেগম বলেন, বাড়িতে কল নেই, খালে গোসল করতে হয়। রান্নাবান্নাসহ সব কাজই খালের পানিতে করতে হয়। আনোয়ারা বেগম বলেন, বর্ষার মৌসুমে কোমরসমান পানি ভেঙে বের হতে হয়। গত পৌরসভা নির্বাচনে এখানে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র মো. শফিক উজ্জামান, বিএনপির মো. আসাদ মাহমুদ, ওয়ার্কার্স পার্টির মো. সেলিম চৌকিদার ও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মঞ্জুর হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। প্রত্যেক প্রার্থী কাছে এসব সমস্যার সমাধানের জোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাঘাট, পানি ও ভাগাড়ের সমস্যা সমাধান করা হবে। কিন্তু সবই ছিল কথার কথা, বিএনপি নেতা আসাদ মাহমুদ অভিযোগ করেন, পৌর এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা বর্তমান মেয়র নেননি। যেখানে নর্দমার দরকার নেই, সেখানে নর্দমা করা হয়েছে। মোট কথা সমন্বিত উন্নয়ন হচ্ছে না মুলাদী পৌরসভায়। মেয়র মো. শফিক উজ্জামান বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হওয়ার পর যেসব স্থানে মাটির রাস্তাও ছিল না, সেখানে রাস্তা করেছি। পৌর এলাকায় স্থায়ী ভাগাড় না থাকলেও পরিচ্ছন্নকর্মী রয়েছেন। তাঁরা বন্দরসহ যেসব স্থানে ময়লা-আবর্জনা বেশি জমে, সেখান থেকে তা পরিষ্কার করেন। পৌর এলাকার বেশির ভাগ সড়কও সংস্কার করা হয়েছে। পানি সরবরাহের কাজও ৬০ ভাগ হয়েছে।ঐ কাজ শেষ হলে পানির কষ্ট দূর হবে।’

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০