September 26, 2018

আইনজীবিদের কাছ থেকে এমন আচরন কাম্য নহে

--- ১২ এপ্রিল, ২০১৫

লিটন বাশার ॥
নগর সভ্যতা আর দ্রুত নগরায়নে গা ভাসাতে গিয়ে ইতিমধ্যেই আমরা নগরীর অনেক পুরানো পুকুর ও খাল বিল হারিয়ে ফেলেছি। চৈত্রের শেষ দুপুরে এখন আর এই নগরীতে শাপলা কিংবা পদ্মা ফুলের ভিরে কোন পুকুরের মাঝে হাসকে সাতার কাটতে দেখা যায় না। ব্যক্তি স্বার্থে দখল হয়ে গেছে অনেক পুকুর। তাই খ্রীষ্টান চার্চ ও আদালতের মধ্যবর্তী পুকুরটি নিয়ে চলমান যে বিরোধ চলছে তাতে যদি ঐ পুকুরটি ভরাট করে বহুতল ভবনে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাতে আমাদের কোন আপত্তি থাকার কথা। আর সত্যি বলতে কোন আপত্তি আমাদের নেই। এই মহানগরীতে খ্রীষ্টানদের অনেক মূল্যবান সম্পত্তি ইতিমধ্যেই গায়ের জোরে আইনের ফাক ফোকরে দখল করে নিয়ে গেছেন ভূমি গ্রাসীরা। বলতে দ্বিধা নেই খ্রীষ্টানদের তথা কথিত ধর্ম যাজক কিংবা এ্যাশোসিয়শনের নেতা সেজে কেউ কেউ ক্ষমতাবানদের হাতে ধর্মীয় সম্পত্তি তুলে দিতে সহায়কের ভূমিকা পালন করেছেন। সেখানে ব্যক্তিগত অনেক প্রতিষ্টান গড়ে উঠতে শুরু করেছে। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রর্দশনের মধ্য দিয়েই খ্রীষ্টান কলোনীর জমি দখল করা হয়েছে। তাই ব্যক্তিগত অভিমতের জায়গা থেকে বলতে চাই আদালত কম্পাউন্ডের পুকুরটিতে যদি বহুতল ভবন গড়ে উঠে তাতে কোন আপত্তি না থাকার কারণ হচ্ছে সেখানে কোন আইনজীবি, বিচারক বা বিচার প্রার্থীর ব্যক্তি স্বার্থের প্রতিষ্টান গড়ে উঠবে না। এটা এই নগরীর আদালত কম্পাউন্ডের মধ্যই একটি বহুতল নতুন বিচারালয় গড়ে উঠবে। তাই পুকুর ভরাট করে সেখানে নতুন আদালত ভবন গড়ে তোলার ব্যাপারে আমাদের কোন আপত্তি নেই। যতদূর জানি আপত্তি করে আসছেন খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজন। তাদের সেই দাবীর প্রতি আমাদের সমর্থন নেই, আবার বিরোধীতাও করছি না। কারন ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসাবে তাদের যে কোন দাবী জানানোর অধিকার রয়েছে। আদালতের যে ভবন নির্মানের জন্য পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে তাতে খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজন কোন বাধা প্রদান করেননি বা বাধা প্রদানের সেই ক্ষমতা কিংবা শক্তি তাদের নেই। তবে তারা গতকাল ফজলুল হক এ্যভিনিউ এলাকায় একটি মানবন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করেছিল। নিরব প্রতিবাদের মতই মানববন্ধন কর্মসূচী সুষ্ট ভাবে করার অধিকার তাদের রয়েছে বলেই আমরা মনে করি। গতকাল সেই শান্তিপূর্ন মানবন্ধন কর্মসূচীতে যে সব আইনযজ্ঞ বন্ধুরা বাধা প্রদানের মধ্য দিয়ে তা ভন্ডুল করে দিয়েছেন তা কি গ্রহনযোগ্য! আমাদের আইনজীবি বন্ধুরা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে একটি মানবন্ধন কর্মসূচী সম্পন্ন হলেই ঐ পুকুর বা পুকুরের জমির মালিকানা খ্রীষ্টানরা ফিরে পেত না। মানবন্ধন কর্মসূচী কোন ভাবেই পুকুর ভরাটের অন্তরায় সৃষ্টি করতো না। সেখানে বহুতল ভবন নির্মানের কোন বাধাই সৃষ্টি করতে পারতো না এই মানববন্ধন কর্মসূচী। তাহলে কেন একটি সুষ্ট মানবন্ধন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করতে আইনজীবিরাই আইন হাতে তুলে নিতে গেলেন। আদালতের দোরগোড়ায় যাদের অবস্থান তাদের তো আমরা সম্মানের চোখে দেখি। দেশের প্রচলিত আইনের প্রয়োগ বা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সুবিচারের আশায় আমরা প্রথম ধাপেই এসব বিজ্ঞ আইনজীবিদের সরনাপন্ন হয়ে থাকি। তাদেরকেই যদি দেখি আইন হাতে তুলে নিতে তাইলে কি আইনের প্রতি আমাদের সম্মানের জায়গাটুকুতে আর মসৃন থাকে! এমন আচরন তো আমরা এই সমাজের সু-শিক্ষিত হিসাবে পরিচিত আইনী পেশার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে আশা করতে পারি না। আইনী পেশার সাথে যুক্ত এ সব বরন্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে আমরা ধর্য্য সহনশীলতা আশা করি। আশা করি তারা আরো বেশী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। যাতে সাধারন নাগরিকেরও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরো বেড়ে যায়।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০