September 25, 2018

আগৈলঝাড়ায় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তিকারী সশস্ত্র জামাত সদস্যকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ ॥ এলাকায় ক্ষোভ

--- ২৫ এপ্রিল, ২০১৩

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া ॥ বরিশালের আগৈলঝাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটুক্তিকারী এক সশস্ত্র জামাত সদস্যকে আটক করেও ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এঘটনায় বাদীসহ ওই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন খান এলাকাবাসির পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগে বলেন, তাদের বাকাল গ্রামের মৃত মফিজদ্দিন সরদারের মেয়ের সাথে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ গাজীর ছেলে আ. গফ্ফার গাজীর সাথে বেশ কয়েকবছর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই গাফ্ফার ঘরজামাই হিসেবে বাকাল গ্রামে বসবাস শুরু করে।
আগৈলঝাড়ায় বসবাসের কিছুদিন নীরব থাকার পর সে নিয়মিত জামাত সংগঠনের সাথে বেঠকে যোগদান করে আসছে। ফলে তার বাড়িতে বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরিচিত লোকজনের অহরহ যাতায়াত ছিল। খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন ১৯৮৫-৮৭ সালে খুলনা থাকাকালীন সে গোপন ইসলামী জঙ্গী সংগঠনের সাথেও জড়িত ছিল। একসময় সে পটুয়াখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন বলেও জানা যায়।
বিষয়টি বাকাল গ্রামে জানাজানি হলে ওই সময় সে খুলনায় গা ঢাকা দেয়। ১০-১২ বছর খুলনায় অবস্থানকালীন সময়ে সে সেখানে আরেকটি বিয়েও করে। ওই ঘরে তার একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে বলে তার আত্মীয়রা জানায়। এরপর পুনরায় সে বাকাল গ্রামে ফিরে আসে। ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে সে ৮-১০দিনের জন্য আবার গা ঢাকা দেয়। পুনরায় বাকাল এসে বাড়ির বিভিন্ন সময় বাড়িরপাশের দোকানপাটে আড্ডা দিয়ে টিভিতে খবর শুরু হলে গাফ্ফার গাজী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উল্লেখ করে বিভিন্ন কটুক্তি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে আসছে। এছাড়া তার কথাবার্তা ও চলাফেরা অত্যন্ত সন্দেহজনক। গভীর রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে তার বাড়িতে মোটরসাইকেলে করে অপরিচিত লোকের যাতায়াত আবার বেড়ে যাওয়ায় এলাকার শান্তিপ্রিয় লোকজন তার আচরণে আশঙ্কা করছে। গাফ্ফার গোপন ইসলামী জঙ্গী সংগঠনের সাথে যোগাযোগ রেখে এলাকায় বড় ধরণের কোন নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে বাদি অভিযোগে জানায়। এলাকায় সে জেএমবি হিসেবেও পরিচিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। এবিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন খান আগৈলঝাড়া থানায় ২৩ এপ্রিল লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে এসআই আলী আহম্মদ ওই রাতে গাফ্ফারকে বাকাল ৩নং ব্রিজ এলাকা থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। তবে ওই রাতেই তাকে ছেড়েও দেয় পুলিশ। এঘটনায় অভিযোগকারীসহ এলাকার লোকজনের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এব্যাপারে এসআই আলী আহম্মদ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে গাফ্ফারকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। থানা ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। বিষয়টি পারিবারিক ও যায়গা জমি সংক্রান্ত বিষয়ের জের ধরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। অভিযোগের ব্যাপারে গাফ্ফার জানান, তিনি দির্ঘ ২৩ বছর বাকাল গ্রামে শশুর বাড়িতে রয়েছেন। গৌরনদীর বাঁকাই এলাকায় একটি স্কুলে পার্ট টাইম চাকুরিসহ প্রাইভেট পরিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। তার স্ত্রীর নামে একটি জায়গা কেনা হয়েছে। ওই জায়গা তার ভাইয়েরা জোর করে তাদের নামে লিখে দিতে বলে। ওই জমি না দেয়ায় তারা ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে গাফ্ফারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে আনা হয়েছিল। অভিযোগকারিরা আমাকে বলেছে যত টাকা লাগে একে হাজতে রাখুন। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়না। তাই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০