May 19, 2019

আন্দোলনে অচল বরিশাল বিশ^বিদ্যালয় ॥ ভিসি বিরোধী শ্লোগানে উত্তাল ববি ক্যাম্পাস ॥ শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা সহ ১০ দফা দাবী ॥ প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, ডিন, চেয়ারম্যান সহ শিক্ষকরা রাত ৯টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ

--- ২৭ মার্চ, ২০১৯

বরিশাল টুডে ॥
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’র অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রন না জানানোর বিষয়ে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলায় বুধবার উত্তাল হয়ে ওঠে বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়। দ্বিতীয় দিনের আন্দোলনে ভিসি বিরোধী নানান শ্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকশত শিক্ষার্থী নানান প্লাকার্ড নিয়ে ভিসি বিরোধী নানান শ্লোগান দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা জানায়, সকাল ৮ টা থেকে ক্লাস শুরু হবার কথা থাকলেও তারা ক্লাসে যোগদান করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচে অবস্থান নেয় তারা। একই সাথে দাবী না মানা পর্যন্ত ক্লাস পরীক্ষা থেকে বিরত থাকার কথা বলেন। পরে শিক্ষকরা আসলে আন্দোলনের জের ধরে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে প্রক্টর সুব্রত বড়–য়া আন্দোলনরদের সাথে বিবাদে জড়ালে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়ে। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা প্রায় দেড়শ শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আটকে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে রাখে। শিক্ষকদের বড় একটি অংশ ভিসি রুমে বাকিরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর জানান, তাদেরকে বিশ^বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেয়া হয়নি। প্রশাসনিক ভবনে তালা মেরে নারী শিক্ষকদের ছেড়ে দিয়ে ৭০ থেকে ৮০ জনকে আটকে রাখা হয়েছে। এদের অনেকেই দুপুরে খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত করতে পারেনি। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত ৯টা) বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচরীরা অবরুদ্ধ থেকে মুক্তি পান।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে বৈকালিক চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না। শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ অনুষ্ঠানের বাইরে প্রতিবাদ জানায়। শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, এই ঘটনায় ভিসি ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলেন। এর প্রতিবাদে এবং ভিসির উক্তি প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছে ১০ দফা দাবি। এরমধ্যে রয়েছে টিএসসিতে পাঠদান না করানো, সেমিনার রুমের ভাড়া ৩ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫শ টাকা করা এবং সকল জাতীয় দিবস শিক্ষক শিক্ষার্থী সমন্বয়ে উদযাপন করা। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এসএম ইমামুল হক বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঐদিন সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফ্লাগস্টান্ডে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। দিনব্যাপী শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠান শেষে বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা এবং প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক এবং তাদের স্ত্রী সহ চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বরিশালের গণ্যমান্যদের নিয়ে এই চা-চক্রের আয়োজন করা হলেও শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের জন্য দুপুরের প্যাকেটজাত খাবার আবাসিক হলগুলোতে পৌঁছানো হয়। শিক্ষার্থীরা হলের দেয়া খাবার ফিরিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বানচালের চেষ্টা চালায়। ভিসি বলেন, যারা আন্দোলনের নামে স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান বানচাল করার ষড়যন্ত্র করেছিল তাদের রাজাকার বলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় একটি কুচক্রী মহল তাদের স্বাথের্র জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় তারা সুবিধা করতে না পেরে তার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছে।
এদিকে দুপুরে বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের চলতি দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালক ফয়সল মাহমুদ কর্তৃক ‘বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক কর্মসূচির প্রেক্ষিতে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য’ বিশ^বিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে এবং গণমাধ্যমে আসলে শিক্ষার্থীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তাদের সাথে বিষয়টি সমঝোতা না করে চলতি দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালক স্বাক্ষরিত এ ধরনের বিবৃতি দেয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদেরকে ভিসির দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ঐ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ‘বরিশাল বিশ^বিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি’ কর্তৃক আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি বলেছেন, স্বাধীনতা দিবসের এই দিনে দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমি তোমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি, আজকে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সকল সম্মানীত শিক্ষক, কর্মকর্তা, বরিশালের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সুধীজন এবং সাংবাদিকদের সম্মানে একটি বৈকালিক চা-চক্রের আয়োজন করেছে। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল স্বাধীনতা দিবসের এমন একটি অনুষ্ঠানকে বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করছে। যারা চেষ্টা করছে তারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ^াসী নয় বলেই আমার কাছে প্রতিয়মান হচ্ছে। তাঁদের কার্যক্রম রাজাকার সাদৃশ্য। ভিসি তাঁর বক্তব্যে কোথাও ঢালাওভাবে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে রাজাকার বলেননি, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতী-নাতনী এবং মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের শক্তির বিভিন্ন শিক্ষার্থীরাও রয়েছে, তারা কোনভাবেই স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানকে বাধাগ্রস্থ করতে পারেনা। কাজেই ভিসি যে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারষ্পরিক ভূল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চলছে তা কোনভাবেই কাম্য নয়। বিজ্ঞপ্তিতে বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের চলমান একাডেমিক কার্যক্রমের গতিশীলতা অব্যহত রাখার স্বার্থে বিশ^বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদেরকে তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

মে ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« এপ্রিল    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১