November 14, 2018

আবে হায়াত—৪

--- ২৯ জানুয়ারি, ২০১৫

মাসুদ আমিন ।। স্ত্রী -এই ওঠো,সেই কখন সকাল হয়েছে, অফিসে  যাবে ওঠো … স্বামী- হু, আরেকটু ঘুমাই না … স্ত্রী- হু ঘুমাও তুমি আরাম করে আর আমি যাচ্ছি পানি আনতে … তোমার মাথায় ঢালবো …। স্বামী-আরে আরে এই দেখো আমি উঠে গিয়েছি। স্বামী ঘুম থেকে জাগলেন , আল্লাহ পাকের শোকর আদায় করলেন , যিনি সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে মরনের কাছাকাছি থেকে আবার জীবিত ফিরিয়ে আনলেন …। স্ত্রী মুচকি হেসে জানতে চাইলেন ঘুম কেমন হলো ? স্বামী- হুম দারুন ঘুম হয়েছে , স্বপ্নও দেখেছি একটা স্ত্রী- ইশ তাই বুঝি, কি দেখলে ? স্বামী- দেখেছি ডজন খানেক পিচ্চি বাচ্চা আমাকে আব্বু আব্বু আর তোমাকে আম্মু আম্মু বলে চিৎকার করে ডাকাডাকি করছে …। স্ত্রী- ইশ হয়েছে অনেক দুষ্টামি , এখন ওঠো জলদি। স্বামী- ইশ দেখো কিভাবে ভাগিয়ে দেয়। স্ত্রী-ফ্রেশ হতে যাবে নাকি পা ধরে টেনে ফেলে দেবো নীচে ? স্বামী- ইশ দেখো পাগলী রেগে গিয়েছে … এই নাও উঠে গেলাম। স্বামী রেডি হয়ে এসে নাস্তা করে অফিসের  উদ্দেশে বের হচ্ছিলেন … স্ত্রী দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন … স্বামী-তুমি অনেক লক্ষ্মী একটা বউ , সেটা জানো ? স্ত্রী- হু হয়েছে দেরী হয়ে যাচ্ছে … স্বামী- এভাবে রোজ বকা ঝকা করে আমাকে অফিসে পাঠিও কেমন ? স্ত্রী-তারপরেও তুমি নিজে থেকে উঠে যাবে না ,  তাইনা ? স্বামী-সকাল সকাল তোমার ডাকে ঘুম ভাঙবে তারপর তোমার তাড়া খেয়ে অফিসে  যাবো , আর এর জন্যই আমি কখনও নিজ থেকে উঠবো না স্ত্রী- তোমাকে কাজের জন্য রেডি করে পাঠাতে আমার অনেক ভাল লাগে। স্বামী- এই জন্যই তো তুমি একটা লক্ষ্মী বৌ। স্বামী-আল্লাহ্ হাফেজ। স্ত্রী- ফি আমানিল্লাহ। তারপর স্বামী মুচকি হাসি দিয়ে অফিসের উদ্দেশে  পথ বেঁয়ে হেঁটে যেতে থাকেন আর মনে মনে বলেন,  “হে আল্লাহ্ , কোনও ভাবেই আমি তোমার শোকর আদায় করে শেষ করতে পারবো না , কিসের বিনিময়ে আমাকে এমন জীবন সঙ্গিনী দিয়েছ আমি তাও জানিনা ”। অন্যদিকে  দরজা আটকিয়ে স্ত্রীও আল্লাহর দরবারে বলে,”হে আল্লাহ্ , এই মানুষটার সাথেই যেন জীবনের শেষ মুহূর্তটা কাটে , আর আখেরাতের শুরুটাও যেন হয় এই মানুষটার হাত ধরেই ”।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০