November 19, 2018

আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া করিতে পারিনি চিৎকার….

--- ২৭ এপ্রিল, ২০১৩

লিটন বাশার ॥ আমি চিৎকার করে কাদিতে চাহিয়া – করিতে পারিনি চিৎকার, বুকের ব্যাথা বুকে চাপায়ে নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার। নিজেকে ধিক্কার জানানো ছাড়া এ মুহুর্তে আমাদের আর কোন পথ খোলা নেই। আমার পথে পথে পাথর ছড়ানো…… রবীন্দ্রনাথের সেই গানের মত যেন পথে পথে আজ কাটা ছড়ানো। শোক, শাস্তি বা প্রতিবাদ – প্রতিরোধের ভাষা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। যখন টেলিভিশনের পর্দায় দেখি সাভারের গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে বিধ্বস্থ ভবনের সামনে দাড়িয়ে প্রিয়তমা স্ত্রী আহাজারী করছে তা প্রিয় স্বামীর জন্য। স্বামী অপেক্ষার প্রহর গুনছে প্রিয়তমা স্ত্রীর মুখটি দেখবার জন্য। মায়ের জন্য সন্তান, সন্তানের জন্য মা কিংবা বাবার আহাজারী ভেদ করে শেষ পর্যন্ত নিয়তির নিষ্টুরতম যবনিকাপাত প্রিয় জনের বিকৃত হয়ে যাওয়া মুখের লাশটি পেয়ে গগন বিদারী কান্নার আওয়াজ। আবার কারো জীবিত অথবা মৃত যে ভাবেই হোক একটু হদিস মেলার আশায় দিনাজপুর, রংপুর, বরিশাল বা গাজীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বজনের প্রতিক্ষা প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে টানা ৮০ ঘন্টা ঘরে।  নির্মম মৃত্যুর ভয়াবহতা টেলিভিশনের পর্দায় দিন রাত লাইভ দেখে বুকের ভিতর চিন চিন ব্যাথা অনুভব করা  আর চোখের লোন  জল নিজের অজান্তে গড়িয়ে পরা ছাড়া যেন আর কিছুই করতে পারছি না। নিজের হাত দু’ টো যেন আর চলছে না। মনের সাথে শরীরের এ এক নিবিড় যোগসূত্র। মন ভাল থাকলে শরীর ভাল থাকে। ভাল কাজ করা সম্ভব হয়। আর মন ভাল না থাকলে শরীরের কোন অংগ প্রতংগই যেন কাজ করতে চায় না। সাভারের  মৃত্যু কুপে কত নিষ্টুর নির্দয় যন্ত্রনা ভোগ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মরতে হয়েছে তা কোন সুস্থ মানুষের জন্য ভাবাও কঠিন। এ মৃত্যুর মিছিল নিয়ে কোন কিছু লেখার ভাষা আমার জানা নেই। আর এ ভাবে কত অসহায় মানুষের লাশের তালিকা দীর্ঘ করে আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি পাবো তার নিশ্চয়তা দেওয়ার মত কেউ কি এ মুহুর্তে আছেন। দিন রাত সমান তালে খেটে যাওয়া দেশের হত দরিদ্র এ মানুষ  গুলোর কি অপরাধ ছিল? তারা তো রাজনীতি – ফিতি বোঝে না। তারা বোঝে শুধুই পেটনীতি। তবে অন্যের সম্পদ লুট করে ভবন তৈরী বা গার্মেন্টস মালিক হওয়ার মত কোন দু:স্বপ্ন ছিল না ওদের চোখে। ওদের দু’ চোখ ভরা স্বপ্নে বিভোর ছিল পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’ বেলা দু’ মুঠো খাবার তুলে দেওয়া। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে ঢুকে নিজের অভাব ঘুচাতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে যে হাত চলেছে পড়ন্ত বিকাল বা কখনো সন্ধ্যা পর্যন্ত। জিএসপি সুবিধা নিয়ে গার্মেন্টস মালিকদের ব্যবসার সম্প্রসারন আর দেশের মন্ত্রী এমপিদের কাছে ধর্ণা দিয়ে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার জন্য কোন দৌড়-ঝাপ ছিল না ওদের । দেশের রেমিন্টেস বাড়ানো আর অর্থনীতিকে সচল করার নামে নিজের বিত্ত বৈভ বাড়ানোর কাজে লিপ্ত গুটি কয়েক মানুষের শিল্প কারখানায় ওরা যে বিশাল জনগোষ্টি আসল কাজটি করেন তাদেরই মরতে হলো নিজ মালিকের লোভ লালসার শিকার হয়ে। এ যেন কতিপয় অসাধু , অযোগ্য দায়িত্ব জ্ঞানহীন দুর্নীতিবাজ পিশাচের কাছে নিজের মূল্যবান জীবনকে সপে দেওয়া।

শুধু সাভারের রানা গার্মেন্টস নয়। এর আগেও তাজিন গার্মেন্টস সহ বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস মালিকদের খাম খেয়ালী ও অতি মুনাফার লোভের শিকার হয়েছেন নিরহ গার্মেন্টস শ্রমিকরা। আমাদের গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমই বস্ত্র রপ্তানীতে জিএসপি সুবিধা সহ দেশের সরকারের কাছ থেকে রেমিটেন্স অর্জনে ভূমিকার অজুহাতে নানান সুবিধা আদায় করে শ্রমিকদের সাথে এমন বিমাতা সুলভ আচরন আমরা যেন মেনে নিতে বাধ্য। পোশাক রপ্তানী করে লাভ করবে গার্মেন্টস মালিক , ভবন মালিক থেকে শুরু করে সুবিধা বাদীরা। আর এ ভাবে ঈদুর বিড়ালের মত জীবন  দিতে হবে নিরহ শ্রমিকদের। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসাবে এটা মেনে নেওয়া মানেই কি আমরা সমাজের ভদ্র লোক কিংবা নিরহ সৎ মানুষের দাবী করতে পারি। প্রবাদ আছে খারাপ মানুষরা সমাজ নষ্ট করে না, সমাজ নষ্ট হয় ভদ্র লোকের নিরবতায়।  আমরা যারা নিজেদের রাস্ট্রের সচেতন নাগরিক দাবী করছি তারা কি খোজ নিয়েছি যে নড়বড়ে এই অবৈধ স্থাপনাগুলো যাদের  মনিটরিং করার কথা ছিল তারা সঠিক মনিটরিং করেছেন কি না। কি ভাবে আইনের উর্ধ্বে থাকেন সোহেল রানা ও তাজনিন ফ্যাশনের মালিক সহ অপরাধ রাজ্যের হায়নারা। তাদের পিছনে কারা রয়েছে। তাদের শক্তির নেপথ্য শক্তি কারা। কেন ঝুকি জেনেও শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয় বার বার। আবার বিপুল জনগোষ্টির মৃত্যু এবং তাদের পরিবারকে অসহায় অনিশ্চিত জীবনের পথে রেখে যাওয়া মানুষ গুলো কেন ধুকে ধুকে মরছে এবং মরবে। বিজিএমইএ কেন টাকার জোরে পার পেয়ে যায় বার বার ?? এ সব প্রশ্নের উত্তর কোথায় খুজবে নিরহ খেটে খাওয়া শ্রমিকরা।

তারা তো দেখলো এতবড় দুর্ঘটনার পরেও খুবই স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের রাস্ট্র ও শাসন যন্ত্র চলছে। আইনের শাসন প্রতিষ্টার নামে সোহেল রানা এখনো আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কারী বাহিনীর সাথে ঈদুর-বিড়াল বা চোর- পুলিশের খেলায় লিপ্ত রয়েছে।  রাষ্ট্র ও নির্বাহী বিভাগের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ট্রেন উদ্বোধন,প্রেসিডেন্টের শপথের মত জমকালো অনুষ্ঠানগুলো ঠিকই যথা রীতি হয়েছে। শুধু কি তাই ! আমাদের স্ব-রাস্ট্র মন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর কি কান্ড ঘটালেন। মেধাবী এই সাবেক আমলা ব্যক্তিটি সব সময়ই সুন্দর করে কথা বলেন। তার কথা বলার বাচন ভঙ্গিতে একটি চমৎকার ব্যতিক্রম রয়েছে। যা একমাত্র তিনিই বহন করেন।  হয়তো যারা আমার মত নিখুত ভাবে নেতাদের টক-শো এবং রাজনৈতিক বক্তৃতা শোনেন তারা মন্ত্রীর অতিকথনের সাথে বিশেষ ফর্মূলার বিষয়টি লক্ষ্য করছেন। এবার তিনি সেই সুন্দর সাবলীল ভাষায় বললেন হরতালকারীরা ভবনের নিয়ে জড়ো হয়ে টানাটানি করায় ভবন ধ্বসে পরেছে। মাননীয় মন্ত্রীর এ রাজনৈতিক মিথ্যাচার শুনে মনে হলো ‘আকাশ তুই এখনো ভেঙ্গে পরো না কেন? অথবা মাটি তুই ভাগ হইয়া যায়, আমি লাফ দিয়া গাছে উঠি’। কারন এত গুলো পাগল আর বিকারগ্রস্থ মানুষের হাতে যখন চলছে রাষ্ট্র যন্ত্র তখন আমাদের মত পানথুরা, ঘাইলসা, ম্যাংগো জনতার বেচে থেকে লাভ কি? রাজনৈতিক বক্তৃতায় লাশের মিছিল নিয়ে ছাড় দিলেন না বিএনপির রাজনীতির বর্তমান সুবিধাবাদী চরিত্র ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তৃতার জবাব দিতে গিয়ে আরো একটা বেফাস কথার জন্ম দিলেন। মওদুদ বললেন ‘ আমরা শুনেছি হরতাল বিরোধীরা সেখানে শ্রমিকদের জড়ো করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ দেশের এই ভয়াল দুর্যোগের সময়ও রাজনীতির উর্ধে উঠতে পারলেন না আমাদের প্রধান দু ’ টি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ববান চরিত্রগুলো। অপরাধীর বিচার বা অসহায় নিরন্ন -বিপন্ন হাহাকারের মাঝে দু:সহ যন্ত্রনাময় নিমজ্জিত মানুষের সাহায্য সহযোগীতার চেয়ে তাদের কাছে এখনও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের বিষয়টিই মুখ্য হয়ে উঠেছে।  এত সীমাবদ্ধতা এ সংর্কীনতার মাঝেও সবার আগে ধণ্যবাদ জানাতে হয় সাভারের স্থানীয় সাধারন মানুষকে। তারা প্রমান করেছেন ভূপেনের গান শুধু শিল্পির কন্ঠে আজ সীমাবদ্ধ নয় ‘ মানুষ মানুষের জন্য’। একটি প্রান রক্ষার জন্য নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে তারা বিধ্বস্থ ভবনের ভিতর সুরংগ তৈরী করে বিরামহীন খুজেছেন নিখোজ আটকে পড়া শ্রমিকদের। যারা দু’ বেলা দু’ মুঠো খাবারের জন্য দেশের দরিদ্র পীড়িত এলাকা থেকে তাদের (সাভারবাসীর) এলাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে কাজ নিয়ে মৃত্যু উপৎতকায় পতিত হয়েছেন। কারো স্ত্রী, কারো স্বামী, কারো ভাই, বোন আর স্বজন প্রিয়জনরা অপেক্ষা করছেন প্রিয় মুখটির জন্য। অথচ সেই প্রিয় মানুষ হয়তো বহুতল ভবনের কোন একটি তলায় আটকে আছেন ভয়াল অন্ধকারে। হাত বা পায়ের  উপর ইট-সুরকীর স্তপ পরে থাকায় বের হওয়ার চেষ্টা পর্যন্ত করতে পারছেন না। শরীর থেকে রক্ত অবিরাম ঝরেই যাচ্ছে। খাবার নেই, নেই শ্বাস – প্রশ্বাস গ্রহনের সুযোগটি। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসছে একেকটি মানুষ। কেউ চিৎকার করছেন মৃত্যু যন্ত্রনায়। কেউ চিৎকার করছেন বাচার আকুতি জানিয়ে। সেই আকুতি হয়তো আমাদের মন্ত্রী বা রাজনৈতিক নেতাদের কর্ণকুহরে পৌছায় না। কেউ কেউ নিশ্চিত মৃত্যু জেনে চিরকুট অথবা মোবাইল এসএমএস কিংবা টিভি ক্যামেরাকে বলে গেছেন ‘ মাকে দেখে রাখিস’। কেউ তার মৃত্যুর পূর্বে উদ্ধারকারী দলের কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন নিজের পরিচয় পত্রটি। এই সম্বলটি নিয়েই যেন স্মৃতির যাদুঘরে প্রিয় জনের শেষ বেলার হাতে স্পর্শ টুকু খুজে নেয় স্বজন-প্রিয়জনরা।  মৃত্যুর পথযাত্রী এ মানুষ গুলোর প্রিয় জনের উদ্দেশ্যে শেষ আবেগঘন সংলাপ বা অন্তিম ইচ্ছার কথাটি তুলে ধরেছেন আমাদের সাহসী কয়েকজন টিভি সাংবাদিক। তারকা খচিত ২/৩ টি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের স্টার নারী সাংবাদিকরা সুরঙ্গের ভিতর ঢুকে যে তথ্য উপাত্ত তুলে ধরছেন তাতে শুধু সংলাপ ছিল না। ছিল স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আরো কিছু প্রানের পুনরায় জীবন ফিরে পাওয়ার মত অলৌক গল্প। সাভারের স্থানীয় বাসিন্দারা প্রমান করেছেন মানুষের জন্য মানুষের কাজ করতে কোন প্রতিষ্টানিক শিক্ষা বা প্রশিক্ষনের প্রয়োজন হয় না। মানুষের জন্য কাজ করতে কোন রাজনৈতিক দলের খাতায় নাম লেখার প্রয়োজন জরুরী নয়। যে যেখানে যে ভাবে আছেন সেখান থেকেই মানুষের জন্য কাজ করা সম্ভব।  মানুষ  ধর্মে ব্রত নেওয়া এ সাহসী যুবকরা বিধ্বস্থ ভবনের  সুরঙ্গ পথে ভিতরে ঢুকে আটকে পড়া মানুষকে অক্সিজেন, পানি , খাবার ও আলো দিয়ে বাচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে কে কোন ধর্মের বা কে নারী কে পুরুষ তার বিচার ছিল না। জাত কুল মানের বিচার নয়, বিবেচনায় ছিল শুধু মৃত্যুর মুখে পতিত অসহায় এ মানুষ গুলোকে যে কোন উপায়ে জীবিত উদ্ধার করা। স্থানীয়রা আটকে পড়া মানুষকে গুলোকে এ  ভাবেই  বাচিয়ে রাখার  কারনেই হয়তো শত শত মানুষ কে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। হয়তো তাদের কারো হাত – পা বা শরীরের একটি অংশ কেটে হলেও চিকিৎসকদের সহযোগীতায় সেনাবাহিনী ও দমকল ইউনিট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

হাত নেই , পা নেই তবুও প্রিয় মানুষটি জীবন নিয়ে ফিরে এসেছেন এটা কম নয়। আবার যিনি নিশ্চিত মৃত্যুর গুহা থেকে হাত-পা হারিয়ে এসেছেন তার জন্যও শান্ত্বনা হচ্ছে তবুও তো এ পৃথিবীর আলো বাতাস দেখে আরো কয়েকটি দিন বেচে থেকে হয়তো স্বাভাবিক মৃত্যুর স্বাদ নিতে পারবেন। কিন্ত আমাদের বিরোধী দল কি দুঘর্টনার সাথে সাথেই হরতাল প্রত্যাহার করে  উদ্ধার কাজটি আরো গতিশীল করতে পারতেন না। উদ্ধারকর্মীদের চাহিদা অনুযায়ী  সামান্য টর্চলাইট,কার্টার,অক্সিজেন,পানি দ্রুত পৌছে দিয়ে মানুষকে বাচার জন্য হাত বাড়ালে দলের জন্য বা রাজনীতির জন্য খুব বেশী ক্ষতি হয়ে যেত।  বিরোধীদল আরো আগেই হরতাল প্রত্যাহার করে উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক,সারঞ্জাম পাঠালে হয়তো প্রানহানী আর একটু কম হতো।  মানুষের জন্য রাজনীতি করার দাবীদার দল দু’টি আমাদের আবারো হতাশ  করেছেন। তাদের গলাবাজীতে মনে হয় না এত বড় দূর্ঘটনায় ব্যাপক প্রানহানীতে তাদের বুকের ভিতর আমাদের মত কোন ভাব বা আবেগ তৈরী হয়েছে। তাদের কথা বার্তায় মনে হয় না তাদের কোন লাজ লজ্জা আছে। সাভারের ইউএনও আগের দিন ভবনের ফাটল দেখে বলেছিলেন কোন সমস্যা নেই। তার কথার বরাত দিয়ে জোর পেয়েছেন গার্মেন্টস মালিক। তিনি শ্রমিকরা ভরসা গিয়ে কাজে এনে যেন খুন করলো।  ভবনের নির্মান শৈলী সম্পর্কে কোন পড়া শোনা বা জ্ঞান না থাকা সত্বেও ভূল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে দায়িত্ববান ইউএনও যে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন তাকেই স্ব-রাস্ট্র মন্ত্রনালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে। যে সংসদ সদস্য মুরাদ জং এর মদদে ফেলে ফুফে উঠেছিলেন ভবন মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানা। সেই সাংসদ মুরাদ জং এর গলাবাজী দেখে মনে হয় না এদের কোন লাজ-সরম আছে। এই আলোচিত সমালোচিত চরিত্র গুলোর প্রতি রাগ ক্ষোভের পাশাপাশি শ্রমিকদের নির্মম মৃত্যুর দৃশ্য আমার মনে উজানী মেঘের মত উথাল – পাথাল করে যায় দিন রাত।  নির্মম ভয়াল দৃশ্য টিভি পর্দায় দেখে গত কয়েকদিন যাবত ঠিকমত ঘুমাতেও পারেনি ।  বুকের কষ্টের কথা চিৎকার করে বলতে পারছি না তাই হায়দারের গানের সুরে বলতে হচ্ছে ‘ আমি চিৎকার করে কাদিয়া চাহিয়া, করিতে পারি না চিৎকার, বুকের ব্যাথা বুকে চাপায় নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার। সত্যি আজ এ দেশের নাগরিক হিসাবে নিজেকে ধিক্কার জানানো ছাড়া আর কোন উপায় খুজে পাচ্ছি না।  এই গানের আরো কয়েকটি শব্দ হচ্ছে আর কত রক্ত গড়ালে জাতি হবে নির্লজ্জ? আমরাও সেই প্রশ্ন সত্যিই আমাদের মানবিক দিক গুলো বিবেচনা করে জাতীয় নেতৃবৃন্দ কবে লজ্জিত হবেন। কবে তারা মানবিক বিষয় গুলো নিয়ে রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে একযোগে কাজ করতে পারবেন।  তাই মানবিক বিষয় গুলো নিয়ে সামাজিক আন্দোলনকারীদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে ভবিষ্যত স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাওয়া ছাড়া আমরা নিরুপায়। রাষ্ট্রের যে অবহেলা দেখলাম তাতে আরেক বার বাক রুদ্ধ হলাম। নিজেকে নিজে ধিক্কার জানালাম। ক্ষমা চাইলাম মেহনতী মানুষ গুলোর কাছে। তারা যেন আমাদের ক্ষমা করে দেন। তারা যেন বোঝেন তাদের মতই আমাদেরও জীবন জোড়া দণ্য। তাই তাদের জন্য আজ কিছুই করতে পারছি না যে।

লেখক : সাধারন সম্পাদক
বরিশাল প্রেসক্লাব।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০