September 25, 2018

ইউএনও’র বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় বরিশালে মন্ত্রিপরিষদের তদন্ত কমিটি

--- ৬ আগস্ট, ২০১৭

মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রাক্তন আগৈলঝাড়া ও বরগুনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ) গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানি মামলা ও এর জের ধরে তাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না সেটা খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি বরিশালে কাজ শুরু করেছে।
রবিবার সকাল দশটা থেকে কাজ শুরু করা তদন্ত কমিটি আলোচিত এই ঘটনায় প্রাক্তন জেলা প্রশাসক গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান ও প্রাক্তন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস সহ সংশ্লিষ্টদের কার কি ভূমিকা ছিল তা জানতেই এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এম বজলুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন করে যুগ্ম সচিব রয়েছেন।
এই কমিটির সদস্যরা সকাল ১০টায় বরিশাল সার্কিট হাউজে যান। সেখানে প্রত্যাহার করা মামলার বাদী সাময়িক বহিস্কৃত জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু, গাজী তারিক সালমনের আইনজীবী মোঃ মোখলেসুর রহমান খান ও ঘটনার দিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়িত্ব পালন করা ৬ পুলিশ সদস্যের সাথে সাক্ষাতে কথা হয় তাদের।
জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটি বরিশালে আসার কথা মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে আগেই তাকে জানানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী প্রত্যাহার হওয়া মামলার বাদী অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সাজু, গাজী তারিক সালমনের আইনজীবী মোঃ মোখলেসুর রহমান খান ও ঘটনার দিন আদালতে দায়িত্ব পালন করা ৬ পুলিশ সদস্যকে সার্কিট হাউজে উপস্থিত থাকতে অবগত করা হয়েছে। তিনি জানান প্রয়োজন মনে করলে তদন্ত কমিটি এর বাইরেও কারো সাথে কথা বলতে পারেন।
মহানগর নগর পুলিশের সিনিয়র সহকরী কমিশনার (এসি প্রসিকিউসন) মোঃ আব্দুর রব জানান, সেদিন মেট্রো আদালতে দায়িত্ব পালন করা ৬ পুলিশ সদস্যকে সার্কিট হাউজে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তারা এখন সেখানে অবস্থান করছেন।
মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তারিক সালমন জানান, গত ১ আগস্ট মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের কনফারেন্স রুমে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি তার কাছ থেকে সেদিন কি ঘটেছিল তা শুনেছেন। এর বাইরে বেশী কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন গাজী তারিক সালমন।
প্রসঙ্গত: স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বঙ্গবন্ধুর ‘বিকৃত ছবি’ ছাপানোর অভিযোগ এনে গত ৭ জুন আগৈলঝাড়ার সাবেক ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। বরিশাল সিএমএম আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারি করে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতে হাজির হলে তারিক সালমনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন বিচারক মোঃ আলী হোসাইন। দুই ঘন্টা পর ঐ মামলায় বরিশাল সিএমএম আদালত থেকে জামিন দেয়া হয়েছিল তারিক সালমনকে। তবে এঘটনায় অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর ফোন কেটে দেন। তারপর থেকে বার কয়েক চেষ্টা করা হলেও ফোন তিনি রিসিভ করেনি।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০