September 25, 2018

ইলিশ নেই ॥ প্রতিদিন ৫ কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতি

--- ২৮ আগস্ট, ২০১৪

লিটন বাশার ॥ নৌ-পথে ট্রলার ভর্তি ইলিশ, তরমুজ সহ নানান উৎপাদিত পন্য আসতো নগরীর যে মোকামে সেই পোর্ট রোড মোকামের এখন বেহাল দশা। ইলিশ নেই। যে খালে ইলিশ সহ বিভিন্ন পন্য ভর্তি ট্রলার আসতো তা শুকিয়ে আছে। মোকাম থেকে পন্য বোঝাই করে পাশ্ববর্তী দেশ ভারত সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক যাতায়াত করতো সেই সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। নগরীর একমাত্র ব্যবসায়িক কেন্দ্র পরিচিত পোর্ট সড়কটি শুকনো মৌসুমে থাকে ধুলায় ধূসর আর বর্ষা মৌসুমে খানা-খন্দে পানি জমে কাঁদা জমে একাকার হয়ে থাকে। এ দুরবস্থার কারণে এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫ কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতি হচ্ছে বলে আড়ৎদার সহ ব্যবসায়ীরা জানান।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু ও মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি ইউসুফ শিকদার জানান- আগে প্রতিদিন এ মোকামে গড়ে  ১০ কোটি টাকার পন্য ক্রয়-বিক্রয় হতো। এখন পন্য ক্রয়-বিক্রয় নেমে এসেছে  ৫ কোটি টাকায়। একদিকে নদ-নদীতে ইলিশ নেই। অপরদিকে যে খালকে কেন্দ্র করে ব্যবসার এ মোকাম গড়ে উঠেছিল সেই খাল এখন ভরাট হয়ে মৃতু প্রায়। আর সড়টি অচল হয়ে পড়ে আছে প্রায় তিন বছর।
মৎস্য আড়ৎদার সমিতির যুগ্ম সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল জানান- দু’সহস্রাধিক পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে গড়ে ওঠা পোর্ট এলাকার ব্যবসা বানিজ্যে ধ্বস নেমেছে। ভরা মৌসুমে ইলিশ না থাকায় গত শুক্রবার সেখানে মিলাদ মাহফিল শেষে কাঙালী ভোজের আয়োজন করা হয়। পোর্ট রোডের পাশ্ববর্তী খালটি ভরাট হয়ে যাওয়া ও সড়ক অচল থাকার কারনে দিনে দিনে এ মোকামটি জৌলুস হারাচ্ছে।  নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হলেও পোর্ট এলাকাটির মালিক বিআইডব্লিউটিএ। এ কারনে বছরের পর বছর বেহালদশায় পড়ে থাকা সড়কটি সংস্কারে  সিটি করপোরেশন কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। নগরীর একতলা লঞ্চ ঘাট থেকে চরমোনাইর ট্রলার ঘাট পর্যন্ত এক কিলোমিটারের পোর্ট সড়কটি চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পরেছে। সড়কটির দু’পার্শ্বে মুদিপণ্য, মাছের আড়ৎ, চালের আড়ৎ, ফলের আড়ৎ, লোহা পট্টি ও ভাঙ্গাড়ির ব্যবসাসহ সব ধরনের পাইকারী পণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় দু’হাজারেরও অধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন এখানে কয়েক’শ পণ্যবাহী ট্রলার ও ট্রাকে মালামাল ওঠানামা করে। তবে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন পন্য বোঝাই ট্ররাল গুলো কীর্তনখোলা নদী থেকে পোর্ট রোডে আসা যাওয়া করে জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে।  ফলপট্ট্রির ফল ব্যবসায়ী মিলন মিয়া জানান- জোয়ারের সময় মালামাল এলেও সড়কের অবস্থা খারাপ থাকায় মালামাল বিক্রি  অর্ধেকে নেমে এসেছে। দত্ত বানিজ্যলয়ের সত্বাধিকারী গনেশ দত্ত অভিযোগ করেন, তিন বছর আগে মেরামতের নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কটিতে প্রলেপ দিয়েছিলো। ওই বছরই বর্ষা মৌসুমে সড়কটি ফের খানাখন্দের আগের রূপ নেয়। মৎস্য আড়ৎদার এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক অজিত কান্তি দাস জানান, এ সব ভারী ট্রাক চলাচল করে যে কারনে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাক ঢুকতে না পারায় ঠেলাগাড়িতে করে পন্য লঞ্চ ঘাটের কাছে নিয়ে ট্রাকে তুলতে হয়। এতে তাদের  বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনেও ট্রলারে পন্য পরিবহন ব্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এ প্রবীন ব্যবসায়ী জানান। তার মনে এমন বেহলাদশায় কখনোই পোর্টরোড মোকামের ব্যবসায়ীদের পড়তে হয়নি।
পোর্ট সড়কের ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, শীত মৌসুমে ধুলায় ভরপুর  আর বর্ষায় কাঁদা-জলে একাকার হয়ে থাকে পুরো এলাকা। যে কারনে ক্রেতার সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন পাইকার ও রপ্তানী কারকরাও। বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক আমিনুর রহমান খান ব্যবসায়ীদের এ দূর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন এখন গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে এ মোকামের। শুধুমাত্র যোগাযোগ মাধ্যমের বেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসায়ীদের পন্য ক্রয় বিক্রয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা জানান- সড়কটি সিটি কর্পোরেশনের অধীনে না থাকলেও  শওকত হোসেন হিরণ মেয়র থাকাকালীন সময় নিজ উদ্যোগে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্ত ঠিকাদার নাম স্বর্বস কাজ করায় তা টিকসই হয়নি। এক বর্ষায় সব জলে মিশে গেছে।  হাটখোলা পদ্মাবতী ঘাটের ইজারাদার হাবিব খান বলেন, সড়কটির বেহালের কারণে প্রতি মাসে তার এক লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। একতলা ঘাটের ইজারাদার এমদাদ আহমেদ জানান, প্রতিমাসে গড়ে তার প্রায় ২ লাখ টাকা কম ইজারা আদায় হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম-পরিচালক মোঃ শহীদ উল্লাহ জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে বলেও তিনি জানান।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০