ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বরিশাল শেবাচিম অসুস্থ ১৮ রোগী

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে ১৮ জন রোগী অসুস্থ হয়ে পরেছে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রোগীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনার তদন্তে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ইউনুস আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির বাকী দুই সদস্যরা হলেন হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. জাহিদ ও মেডিকেল অফিসার ডা. নুরুন্নবী তুহিন।
এছাড়া সমস্যা দেখা দেওয়া একই ব্যাচ নম্বরের সব সেফিউরক্সিম ইনজেকশন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং নতুন ব্যাচ নম্বরের সেফিউরক্সিম ইনজেকশন সরবরাহ করা হচ্ছে। আর সমস্যা দেখা দেওয়া ব্যবহৃত সেফিউরক্সিম ইনজেকশনের ভায়েল (বোতল) সংগ্রহ করা হয়েছে। যা ঢাকায় ল্যাবে পাঠানো হবে। সেখানের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান পরিচালক বাকির।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০ টার দিকে নির্ধারিত সময়ে শেবাচিম হাসপাতালের মোট ৯৪ জন রোগীর মধ্যে ২১ জন রোগীকে হাসপাতালে সরকারিভাবে সরবরাহকৃত সেফিউরক্সিম ইনজেকশন (৭৫০ মিলি লিটার), অমিটিড ইনজেকশনসহ (৪০ মিলি) ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার কিছু সময় পরই আকস্মিকভাবে হাসপাতালের কুদ্দুস, ইমতিয়াজ, বিকাশ চন্দ্র হাওলাদার, অলিয়ার, এনামুলহকসহ ১৮-২০ জনের মতো রোগী ঝাকুনি-কাঁপুনি দিতে থাকেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ শাহআলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সেফিউরক্সিম ইনজেকশন দেওয়ার পরই ওই সব রোগীকে কাঁপতে দেখা দেয়। ঝাকুনি দিতে দিতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি চিকিৎসকদের জানানো হয়। চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিক এসে ওষুধ (কটসন) দিয়ে তাদের সুস্থ করে।
এ ঘটনা ঘটলে রোগীসহ স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের হস্তক্ষেপে অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। পাশাপাশি এ ঘটনার পরপরই একই ব্যাচ নম্বরের সব সেফিউরক্সিম ইনজেকশন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে হাসপাতাল প্রশাসন।
তিনি জানান, হাসপাতালের সরবরাহকৃত ওষুধের মেয়াদ রয়েছে ২০২০ সাল পর্যন্ত। কিন্তু তারপরও কেন এমনটা হয়েছে তা বলা সম্ভব নয়। তবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সমস্যা সৃষ্টিকারী ইনজেকশনের বোতল সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে।
ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও সহকারী রেজিস্ট্রার সুদীপ কুমার হালদার জানান, সেফিউরক্সিম ইনজেকশন দেওয়া রোগীদেরই সমস্যা হয়েছে। যার সংখ্যা ১৮-১৯ জনের মতো। আর একত্রে এতো রোগীর কাপুনি দেওয়া ও ঘাম দেয়ার লক্ষণ ওষুধের পার্শপ্রতিক্রিয়ায় হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত।
তাৎক্ষণিক রোগীদের অন্য ওষুধের মাধ্যমে স্বাভাবিক করা হলেও একজন রোগী বমি করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ১৫ দিন আগেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছিলো ৩ জন রোগীর ক্ষেত্রে। তবে সমস্যা আজকের মতো বড় আকার ধারণ করেনি। আজকের এ ঘটনার পরপরই হাসপাতাল পরিচালককে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তার নির্দেশে ওয়ার্ড তথা হাসপাতালে চলমান ব্যাচের সেফিউরক্সিম ইনজেকশন ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ব্যাচ নাম্বারের সেফিউরক্সিম ইনজেকশন সরবরাহ করার প্রস্তুতিও চলছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতাল পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, ওয়ার্ডে ব্যবহৃত ওষুধের বোতল (ভায়েল) সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। যা টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। পাশাপাশি সমস্যা দেখা দেয়া একই ব্যাচের ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করে নতুন ব্যাচের ওষুধ সরবরাহ করতে বলা হয়েছে ওয়ার্ডে। ###