ক্ষমতায় থাকতে হলে – যেতে হলে ১৩ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে ॥ বরিশালে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতারা

বরিশাল টু-ডে ॥ ১৩ দফা দাবী বাস্তবায়ন ও আগামী ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী সফল করার লক্ষ্যে বরিশালে হেফাজতে ইসলামের বিভাগীয় শানে রেসালাত মহাসম্মেলন জন সমুদ্রে পরিনত হয়। গতকাল দুপুর থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে গন জোয়ারের মত ছুটে আসছে হাজার হাজার রসুল প্রেমী জনতা। গোটা নগরী যেন পরিনত হয়েছে একটা মিছিলের নগরীতে। সকাল থেকেই ফজলুল হক অ্যাভিনিউ রোডে তৈরি হেফাজত ইসলামের মঞ্চে চলে ইসলামিক সংগীত। দুপুর পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বক্তৃতা করেন। দুপুরে বরিশালের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত হলে হাজার হাজার জনতার শ্লোগানে মুখরিত হয় পুড়ো নগরী। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও ঢাকা মহানগরীর আহবায়ক হযরত মাওলানাঃ নূর হুসাইন কাসেমী। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায়  হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও ঢাকা মহানগরীর আহবায়ক হযরত মাওলানাঃ নূর হুসাইন কাসেমী বলেন আগামী ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী মদিনা সনদের নামে মুসলমানের সাথে প্রতারণা করছেন। তিনি বলেন ১৩ দফা বাস্তবায়ন করা না হলে ধরে নেয়া হবে এ সরকার নাস্তিক, মুরতাদ, ব্লগারদের সরকার। আর নাস্তিকদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের লড়াই করে যাওয়াই হচ্ছে ঈমানী দায়িত্ব। আগামী নির্বাচন হবে ১৩ দফা দাবী বাস্তবায়নের নির্বাচন।

সভাপতির বক্তৃতায় হেফাজতে ইসলামের বরিশালের আমীর মাওঃ ওবায়দুর রহমান মাহবুব বলেন, বিভিন্ন বাধা প্রতিবন্ধকাতর জাল ছিন্ন ভিন্ন করে সকল অপশক্তির রক্তচক্ষু এবং তাদের তীব্র ষড়যন্ত্র ও বাধার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে প্রতিকুল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে হেফাজতে ইসলাম এর ১৩ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে এখানকার উলামা মাশায়েখ, ছাত্র শিক্ষক ও তৌহিদা জনতা উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বলেন সংবিধান থেকে আল্লাহর  উপর পূর্ণ আস্থা বিশ্বাস মুছে েিদয় ফিরাউনী ও নমরূদী শাসন ব্যবস্থা কায়েমের অপচেষ্টা দেশে খোদয়ালী গজব অনিবার্য করে তুলেছে। আল্লাহকে কটাক্ষ করার মতো দুঃসাহস দেখানো হচ্ছে। নবী (সাঃ) এবং প্রাণপ্রিয় ধর্ম ইসলামের অবমানান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করার কারনে তার শাস্তির দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হলেও আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের শাস্তির আওতায় আনার কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হাসানাত আমিনি বলেন, এ সরকার তৌহিদী জনতাকে গুলির ভয় দেখাচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের চেয়ে তাদের ভান্ডারে গুলির সংখ্যা অনেক কম উল্লেখ করে তিনি সরকারকে গুলি হিসাব করে নিতে বলেন। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মাওঃ মঈনুদ্দিন রুহী বলেন, বর্তমান সরকার নাস্তিক ব্লগারদের দোষর। তিনি অভিযোগ করেন হেফাজতের আন্দোলনে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার পায়তারা চালাচ্ছে সরকার। তিনি দৈনিক আমারদেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অবিলম্বে মুক্তির দাবী জানান। তিনি হুশিয়ারী করে বলেন মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি না দিলে পরিনতি হবে ভয়াবহ। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মাওঃ মাহমুদুল হাসান বলেন সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে হলে ১৩ দফা দাবী মানতে হবে। কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আঃ হামিদ বলেন, প্রধান মন্ত্রী মদিনা সনদের নামে মুসলমানদের সাথে প্রতারণা করছেন। মদীনা সনদ কি তা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা জানেন। একদিকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে অপরদিকে মদীনা সনদের নামে মিথ্যাচার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। কেন্দ্রীয় নেতা আঃ লতিফ নেজামী বলে ১৩ দফা নিয়ে সরকার বিভ্রান্তি চালাচ্ছে।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা নূরুল হোসেন কাসেমী, ঢাকা মহানগর যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রহমান নেজামী, এডভোকেট আঃ রকিব, অধ্যক্ষ মাওঃ এছাহাক, মাওঃ আঃ লতিফ নেজামী, ঢাকা মহানগর যুগ্ম আহবায়ক আঃ হামিদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব, মাওঃ মাহমুদুল হাসান, সদস্য সচিব জুনায়েদ আল হাবিব, মাওঃ জাফর উল্লাহ খান, আব্দুল্লাহ আবু সুফী, মাওঃ মঈনুদ্দিন রুহী, কেন্দ্রীয় আশ্রাফ আলী, মাওঃ আবুল হাসানাত আমিনী, মাওঃ আঃ লতিফ নিজামী, মাওঃ আঃ রব ইউসুফী, মাওঃ হাবিবুর রহমান চাটগামী, মাওঃ খলিলর রহমান নেছারাবাদী, মাওঃ নূরুর রহমান বেগ, মুফতি শাব্বির আহমেদ, হেফাজত নেতা মাওঃ হারুনর রশিদ, মাওঃ শহিদ উদ্দিন, মাওঃ আঃ হক কাওসারী, মাওঃ আবু সাঈদ, মাওঃ আঃ গাফফার, মাওঃ আবুল কাশেম শাহজাহান, মাওঃ সুলতান মাহমুদ, আতাউল্লাহ মাহমুদী, মাওঃ আঃ হালিম, মাওঃ আঃ খালেক, মাওঃ শরফুদ্দিন বেগ, মাওঃ কাজী আঃ মান্নান, মাওঃ তৈয়ব কাসেমী, মাওঃ মুজাম্মেল হুসাইন, মাওঃ শায়েখ সানাউল্লাহ, অধ্যাপক আবুল কাসেম শাজাহান, মাওঃ আবু সাঈদ, মাওঃ আবদুল কাওছারী, মাওঃ আঃ কাদের, মুফতী সুলতান মাহমুদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, কোরআন সুন্নাহ বিরোধী নারী-নীতি, ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি পাস করা হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম সহ বিভিন্ন মসজিদে নামাজের সময় বিভিন্ন ভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং আলেম, ইমাম, খতিবদের হক কথা বলার কারনে তাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালানো হচ্ছে, হত্যা, হুমকি ধামকি ও হামলা-মামলার মাধ্যমেতাদের দমিয়ে রাখার অপেক্ষা ও চাকুরিচ্যুত করা হচ্ছে।
মহাসম্মেলনে দূর দূরান্ত থেকে আসা হেফাজত ইসলামের নেতা-কর্মী সহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে খাবার পানি, কেক, বিস্কুট, আইচক্রীম, শশা সহ নানান প্রকার খাবার বিতরণ করছে বরিশাল জেলা (উত্তর), (দক্ষিণ) ও মহানগর বিএনপি। বিএনপি’র এই তিন শাখা কমিটির পক্ষ থেকে অস্থায়ী প্যান্ডেল তৈরী করে সমাবেশে আগতদের খাবার সরবরাহ করা হয়। ফজলুল হক এভিনিউ, সিটি কর্পোরেশনের সামনে ও লঞ্চঘাট এলাকায় অস্থায়ী প্যান্ডেলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হয়ে এ খাবার সরবরাহ করে। বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ফজলুল হক এভিনিউতে চিকিৎসা সেবা দিতে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে।