September 25, 2018

গনতন্ত্রকে গন ধর্ষন করে চলছে কিছু লোক ॥ আমরা যাবো কোথায় !

--- ২২ জানুয়ারি, ২০১৫

লিটন বাশার ॥ বেশ কয়েক মাস যাবৎ অফিস ও বাসার মধ্যেই আমার জীবন চলার পথটি সীমাবদ্ধ । এক সময়ের আড্ডা পাগল আমি নিজেই নিজের মত করে বদলে গিয়ে ঘরকুনো বনে গেলাম। তাও খারাপ না। মনে মনে ভাবতে শুরু করি এমনি করে দিন যদি যায় , যাক না! কিন্ত সে একাকিত্ব জীবনেও প্রভাব পড়েছে দেশের চলমান পরিস্থিতি।
দিন বদলের হাওয়ায় জীবন চিত্র পাল্টে গেলেও পাল্টায়নি ব্যক্তিগত জীবনের রুটিন গুলো। যেমন প্রতিমাসেই মাছ তরকারী কেনার জন্য আমাকে ২ / ১ বার বড় বাজারের দিকে পা বাড়াতে হয়। মাছ, মাংসা থেকে সব্জীর দোকানীরাও বেশ পরিচিত। পয়সা একটু বেশী নিলেও পচা বা নিন্ম মানের জিনিস আমাকে দেয় না। বেশ খাতির যতœ করে বলেই এবার সব জিনিস পত্রের আকাশ চুম্বি মূল্যের কারন জানতে চাইলাম। প্রায় সবার কাছ থেকেই একই উত্তর:- আলু, পটল, পিয়াজ, রসুন, আদা, চিনি , বিস্কুট আসে না বললেই চলে। মাঝে মধ্যে জীবনের ঝুকি নিয়ে যে সব যানবাহন চালকরা এ সব মালামাল পৌছে দেন তাদেরকে ভাড়া গুনতে হয় কয়েক গুন। তাই পন্যের মূল্য সংগত কারনেই অস্বাভাবিক। এমনকি মাছের আকালের এই কলি কালে যে ভারতীয় গরুর মাংস মানুষ হালাল হিসাবে খেয়ে থাকেন তার মূল্যও প্রতিকেজি ৩’শ টাকার উপরে। আমার মত স্বল্প আয়ের মানুষ যারা বাজারে শিঘ্রই গেছেন তারা নিশ্চয়ই উপলদ্ধি করতে পেরেছেন জীবনে দুই টাকা ও এক টাকার নোটের মূল্য কতটা। প্রিয় পাঠক শুধু মাছ, তরকারী আর মাংসের বাজারেই চলমান অবস্থার নেতিবাচক প্রভাব সীমাবদ্ধ নয়। আপনি যে সাদা কাগজে এই ছাপার হরফের লেখা পড়ছেন তার দামও বেড়েছে প্রতি রিম কাগজের দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। কাগজের সাথে ছাপার উপকরনের দাম সবগুলোরই হু-হু করে বাড়ছে। আর কারন জানতে চাইলে একই কথা ‘ মাল আসছে না, আনতে হলে ঝুকি নিয়ে বেশী খরচে আনতে হয়’। এই মহামূল্যবান টাকা ব্যায়ে পত্রিকা ছাপার পর তা বিপনন ব্যবস্থাও কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে চলমান রাজনৈতিক অবস্থার কারনে। অর্থাৎ যারা ক্ষমতায় বসে আমাদের ‘মধ্য আয়ের দেশ, ভিশন-টুয়ান্টি, টুয়ান্টি ওয়ান সহ নানা স্বপ্নে বিভোড় করে রেখেছেন তারা এবং যারা ক্ষমতার স্বাদ গ্রহনের জন্য দেশ প্রায় অচল করে তুলছে তাদের উভয় পক্ষের মুখেই শোভা পাচ্ছে গণতন্ত্রের মিথ্যা বুলি।
আমাদের মত মানুষের কাছে গণতন্ত্রের চেয়ে বেশী প্রয়োজন পরিবার -পরিজন নিয়ে তিন বেলা ভাত খাওয়া। নিরাপদে ঘুমানোর জন্য ছোট্ট একটি আবাসস্থল। তাতেই আমরা খুশী। কারন ‘ আমরা তো অল্পে খুশী,’। আমরা তো জন্মলগ্ন থেকেই দেখে আসছি ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বরাবরই গণতন্ত্রকে অস্তিত্ব সংকটে ভূগতে। কত সহ¯্র স্বপ্নের ফুল ঝড়ে গেছে হারিয়ে মুকুলে এই গণতন্ত্রের জন্য। এখনো তো কিছু লোক গণতন্ত্রের লেবাসে সন্ত্রাস করে বেড়ায়। আমাদের মত কিছু নিরহ লোক যখন উদাসীন হয়ে জীবনকে বয়ে চলছে তখনও গণতন্ত্রকে গণধর্ষন করে চলছে কিছু লোক। অসংখ্য বেদরকারী চ্যানেলের মাঝে স্বপ্ন যখন টিভি পর্দায় তখন শয়তান জীভ কাটে লজ্জায়। তাই হাল ভাঙ্গা মন প্রায়ই হাল ছেড়ে দিয়ে বলে ‘ যা হবার তাই হোক। আবার রাতের নিস্তবতা কেটে গিয়ে ঘোর অন্ধকারে আপন মনেই আমায় প্রশ্ন করে এই কি স্বাধীনতা!, এই কি গণতন্ত্র!, গত ৪৩ বছর যেখানে আমরা বিশ্বাস খুজে চলছি সেখানকার গুহায় যে এখনো হায়নাদের বাস। যে বিশ্বাস ভাঙ্গে সে তো আসে হাজার কিংবা শত বছর পর। নূরুল দ্বীনের মত একবার এসেছিল এই বাংলায় ১৯৭১ সালে। আমাদের পরস্পরের প্রতি আস্থা আর বিশ্বাসের কারনেই সেদিন অর্জন এসেছিল। আমাদের বুক ভরা আশা, দু’ চোখ ভরা স্বপ্ন সেদিন রক্তের ¯্রােতের মাঝেও আমাদের বাচতে শিখিয়েছিল। সেই স্বপ্ন যেন আজ অকালেই ঝড়ে পড়ছে। আমাদের রাজনীতির মাঠ থেকে সমাজ জীবন আর অর্থনীতি সর্বত্র ছাপিয়ে এখন ব্যক্তি পর্যায়ে জীবনকে সংকটময় করে তুলছে। কিন্ত এ ভাবে আর চলবে কত দিন। সেই প্রশ্ন করা ছাড়া আমাদের নেই তো করার কিছু। পারছি না তাই করতে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০