September 26, 2018

গমক্ষেত থেকে উদ্ধারকৃত নবজাতক ‘ময়না’ ভাল আছে !

--- ২২ এপ্রিল, ২০১৪

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া ॥ ‘অনেক সাধের ময়না আমার বাঁধন কেটে যায়।’ শিল্পী বশির আহম্মেদের গাওয়া সেই বিখ্যাত গান অনুসারে নাম রেখেছে বরিশাল বিভাগীয় বেবীহোমের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যে শিশু ভূমিষ্ট হবার পর ঠাঁই হওয়ার কথা ছিল মায়ের কোলে, কিন্তু জন্মের পর হত্যার জন্য সেই গর্ভধারিণী কুমারী মা ও নানী তাকে মাটি চাপা দিল জীবন্ত। ‘সত্যের যে মৃত্যু নেই’ এই কথা প্রমাণের জন্য সৃষ্টিকর্তা অলৌকিকভাবে প্রায় দশঘন্টা বাঁচিয়ে রাখলেন মাটি চাপা অবস্থায় নবজাতক শিশুটিকে। ফুটফুটে ময়নাকে গত সোমবার দেখার জন্য বেবীহোমে উৎসুক জনতার ভিড় লেগেই আছে।

এজাহার, পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, পার্শ¦বর্তী মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার কাজী বাকাই ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাউতলী গ্রামের ট্রাকচালক দম্পত্তি আবুল ঢালী ও মনোয়ারা বেগমের ৫ মেয়ে ও ২ ছেলের মধ্যে মাহমুদা আক্তার চতুর্থ। সীমান্তবর্তী গৌরনদী উপজেলার মেদাকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল সে। স্কুল ছুটি থাকার সুযোগে গত রমজানে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার উত্তর বনগ্রামে বড় দুলাভাই রতন শেখ ও বোন হাজেরা বেগমের বাড়ি বেড়াতে যায়। বেড়ানোর সময় একদিন ঘরে একা পেয়ে দুলাভাইয়ের ছোটভাই আকবর শেখের ছেলে শামীম শেখ (২৫) মাহমুদাকে ধর্ষণ করে। লোক লজ্জার ভয়ে গ্রাম্য সহজ সরল মেয়ে মাহমুদা পরিবার এমনকি তার বান্ধবীদের কাছেও কারো কাছেই ঘটনাটি প্রকাশ করেনি। প্রথমে বুঝতে না পারলেও একসময় ঠিকই বুঝতে পারে সে ধর্ষণের ফলে অন্তসত্বা হয়ে পরেছে। যখন বুঝেছে তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে। অপেক্ষা করতে থাকে সন্তান প্রসবের। এরই মধ্যে গত শুক্রবার মাহমুদা তার মাকে নিয়ে ছোটচাচী নুরুন্নাহারের বাবা শাহআলম মোল্লার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাংতা গ্রামের বাড়িতে আসে। নুরুন্নাহার বলেন,  মাহমুদা ও তার মা আমাকে বলে, মাহমুদা মহিলা বিষয়ক কিছু সমস্যায় ভুগছে। তাকে ভাল ডাক্তার দেখাতে হবে। ওই রাতেই মাহমুদা একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান প্রসব করে। লোক লজ্জা আর সামাজিকতার ভয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই শিশুর গর্ভধারিণী মা মাহমুদা ও নানী মনোয়ারা বেগম বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি গম ক্ষেতে জীবন্ত মাটি চাপা দেয় শিশুটিকে।

স্থানীয় আনোয়ার হোসেন ফকির বলেন, জমির আগাছা পরিস্কার শেষে বাড়ি ফেরার পথে পার্শ¦বর্তী গম ক্ষেতে শনিবার বিকেলে একটি শিশুর কান্না শুনতে পাই। ক্ষেতের মধ্যে এগিয়ে গেলে গলা পর্যন্ত মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তার উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করাই। স্বল্প সময়েই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে শিশুটি। লোক জানাজানি হয়ে বাচ্চা পাবার ঘটনাটি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয় আগৈলঝাড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায়। রবিবার সকালে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয় আগৈলঝাড়ার গৈলায় অবস্থিত বিভাগীয় বেবীহোম বা ছোটমনি নিবাসে। বেবীহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ‘ময়না আক্তার’। বর্তমানে আমাদের তত্ত্বাবধানে ময়না ভাল ও সুস্থ রয়েছে। সোমবার অনেকেই শিশুটিকে পিতা-মাতার স্নেহে লালন পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে আইনগত বাধ্য বাধকতার কারণে কারো ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে দেয়া সম্ভব হয়নি। তাদের মধ্যে অনেকেই ময়নাকে দুগ্ধজাত খাবার ও পোষাক কিনে দিয়েছেন। মামলার বাদী আগৈলঝাড়া থানার উপ-পরিদর্শক শহিদুর রহমান বলেন, মাহমুদাকে বরিশাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান ও মেডিকেল পরীক্ষা শেষে রবিবার রাতে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামী মাহমুদার মা মনোয়ারা বেগমকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ধর্ষক শামীম শেখকে গ্রেফতারের জন্য একাধিক স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০