November 19, 2018

গৌরনদীতে স্কুলছাত্রের আতœহনন অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত

--- ৪ এপ্রিল, ২০১৩

বরিশাল টু-ডে ॥  গৌরনদী উপজেলার ২নং মেদাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র নাঈম সরদারসহ আরো দুই ক্ষুদে শিক্ষাথী পড়া না পারার অপরাধে বাথ রুমে আটকে রেখে শাস্তি প্রদান করে। ভবিষৎতে পড়া না পাড়লে আরো কঠিন শাস্তি দেয়া হবে বলেও হুসিয়ারী উচ্চারণ করে শ্রেণী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম লালন। এ সংক্রান্ত সংবাদ বৃহস্পতিবার জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম লালণকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপর ২টার দিকে মাদারীপুর  মর্গে ক্ষুদে শিক্ষার্থী নাঈমের ময়নাতন্ত্র সম্পন্ন হয়। মর্গ থেকে তার পিতা এসকেন সরদার লাশ গ্রহণ করেন। বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। নাঈমের জানাজায় সর্ব্বস্তরের জনসাধারন উপস্থিত ছিলেন।  অপর দিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল মড়িয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, ‘ বিভিন্ন পত্রিকায় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংবাটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়। পরবর্তীতে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলামকে সরেজমিনে গিয়ে তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম লালনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলি’। উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ পত্রিকায় সংবাদের সুত্র ধরে আমি সরেজমিন তদন্ত শেষে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম লালনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে আবেদন করি। বিকেল ৪টার জেলা শিক্ষা অফিসার শাহ আলম শিক্ষক লালনকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত ভাবে নিদের্শ দেন। বিকেল পোনে চারটায় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। জানাজায় সর্ব্বস্তরের জনসাধারন উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক লালনকে রক্ষার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল মড়িয়া হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২নং মেদাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম লালন বাংলা ক্লাশের সময় নাঈমসহ অপর দুই ক্ষুদে শিক্ষার্থী পড়া না পারারার অপরাধে স্কুলের বাথরুমে আটকে রাখেন। তাদের ডাকচিৎকারে অন্যান্য শিক্ষরা তাদের উদ্দার করে। এসময় ওই শিক্ষক তাদের উদেশ্যে বলেন, আগামি কাল পড়া না পাড়লে তোদের আরো কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। এ ঘটনার পর তাদের সহপাঠীরা উপহাস করে। বুধবার সকালে নাঈম স্কুলে যাবেনা বলে পরিবারকে জানান। এতে তার বাবা-মা বকুনি দেয়। বকুনি খেয়ে দুপুর ১টার দিকে নাঈম পড়ার ঘরের আড়ার  সাথে রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আতœহত্যা করে। তার মা মিনারা বেগম ঝুলন্ত অবস্থায় নাঈমকে দেখে ডাক চিৎকার দেয়। প্রতিবেশিরা তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত  চিকিৎসক নাঈমকে মৃত্যু ঘোষনা করেন।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০