November 14, 2019

চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও ঘন্টার পর ঘন্টা থাকছে লোডশেডিং

--- ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বরিশালে পিক কিংবা অফপিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ থাকলেও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সেবা মিলছে না। জরাজীর্ণ ট্রান্সফরমার অহরহ বিকল এবং বজ্রপাতে ভয়াবহ বিদ্যুত বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তার উপরে ধারণ ক্ষমতার অধিক বিদুৎ প্রবাহিত হওয়ায় বৈদ্যুতিক ক্যাবল সহ সরঞ্জামাদীও বিকল হচ্ছে। ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এখানকার পাঁচ লক্ষাধিক বিদুৎ গ্রাহক। যে কোন সময় বড় ধরনের বিদুৎ বিপর্যয়ের আশংকা করা হচ্ছে। জোড়াতালি দিয়ে চালানো দীর্ঘ দিনের পুরানো ট্রান্সফরমার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এখানে বিদ্যুৎ বিভ্রান্ট লেগেই আছে। সরবারহ থাকলেও এই গরমে অন্ধকারে থাকতে হয় নগরবাসীকে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই ভেঙ্গে পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।
গত কয়েকদিনের তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ঘন্টায় ৪ থেকে ৫ বার লোডশেডিং চলছে। এত বিদ্যুৎ বিভ্রান্ট হলেও লোডশেডিং মানতে নারাজ বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিতরন বিভাগ জানিয়েছে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে এ অঞ্চলে চাহিদা ১শ’ মেগাওয়াটের অনুকুলে সমপরিমান বিদ্যুত সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু কি কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং চলছে এর জবাবে বিতরন বিভাগ থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল বিদ্যুতের একাধিক ফিডারের দায়িত্বরতরা জানান, বানিজ্যিক এলাকা সহ বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। এ কারনে ট্রান্সফরমার সহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি বিকল হচ্ছে। বিতরন ট্রান্সফরমারের সংকটের কারনে ধারন ক্ষমতার অধিক পরিমানে বিদ্যুত সরবরাহ হওয়ায় বিকল হচ্ছে ক্যাবল। তাছাড়া প্রচন্ড গরমে এসির ব্যবহারের কারনে ধারন ক্ষমতার বেশি বিদ্যুত ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক লাইনে প্রবাহিত হওয়ায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিপর্যয় হচ্ছে। এসব কর্মকর্তারা আরো জানান, বর্তমানে মাটির নিচ দিয়ে লাইন স্থাপনে চলছে সার্ভে কাজ চলায় বিদ্যুত বিভাগ বড় ধরনের কোনো সংস্কার করছে না। ফলে দিনে দিনে সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে কয়েক বছর লেগে যাবে অথচ বর্তমানে কাজ করতে হচ্ছে জোড়াতালি দিয়ে। নতুন উন্নত মানের সরঞ্জামাদী না আসায় দিন-রাত সমান তালে কাজ করেও গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানান তারা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে- বিদুৎ বিতরন ও বিক্রয় ডিভিশন-১ ও ২ জোনের অধীনে প্রায় পাঁচ শতাধিক ট্রান্সফরমার রয়েছে। যার গ্রাহক সংখ্যা এক লাখের উপরে। পল্লী বিদুৎ সমিতি-১ ও ২ এর ট্রান্সফরমার রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার। তাদের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১০০ কেবিএ’র ট্রান্সফরমার দিয়ে সর্বোচ্চ ৭০জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবারহ করা যায়। ২০০ কেবিএ’র ট্রান্সফরমা ১৪০জন। মহানগরীতে বিদুৎ বিতরন বিক্রয়ের দু’টি জোনে যে ট্রান্সফরমা রয়েছে তাতে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে দু’টি ডিভিশনের অধীনে গ্রাহক এক লাখ ছাড়িয়েছে। সরেজিমেন নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ট্রান্সফরমারই জোড়াতালি দেওয়া। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ট্রান্সফরমার উপরই দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত সংযোগের এ বাড়তি লোড। সামান্য ঝড় কিংবা হালকা বাতাস এলেই ট্রান্সফরমারগুলো অচল হয়ে পড়ে। এছাড়া বজ্রপাতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদী বিকল হওয়া সহ নানান ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রেবিশন কোম্পানীর (ওজোপাডিকো)’র এখানকার তত্ত্বাবধায়ক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিং না থাকলেও বিভিন্ন সময় সংস্কার করতে সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে ঘনবসতি ও বহুতল ভবনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন সংযোগ দিতে হচ্ছে এতে পূর্বের ধারণ ক্ষমতার চাইতে বেশি ধারণ ক্ষমতার সরঞ্জামাদী ব্যবহার করতে হচ্ছে। এছাড়া বজ্রপাতে প্রতি মাসেই বিদ্যুৎ বিভাগের ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন এসব ভোগান্তি থেকে উত্তোরনের জন্য মাটির নিচ থেকে বিদ্যুতের লাইন স্থাপনের কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সার্ভের কাজ শুরু করেছে। পরবর্তীতে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির কাজ করা হবে। ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির মাধ্যমে প্রকল্পটি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, মাটির কনডিশন, প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণসহ নানা বিষয়ে তুলে ধরে ওজোপাডিকোর কাছে প্রতিবেদন সাবমিট করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান।
মহানগরীর গ্রাহকদের যখন এমন বেহালদশা তখন পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের দূর্ভোগের যেন কোন শেষ নেই। পল্ল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি- ১ এর অধীন গ্রাহক রয়েছে ২ লাখের বেশি। বিপুল সংখ্যক এ গ্রাহকদের বিদুৎ সরবারহ করতে (৫ কেবিএ) ১২ হাজারেরও বেশি ট্রান্সফরমার প্রয়োজন। ট্রান্সফরমার রয়েছে মাত্র ৮ হাজার। নতুন করে গ্রাহক বৃদ্ধি করা হলেও বাড়ানো হয়নি ট্রান্সফরমার। পল্ল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন গ্রাহক রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ। ট্রান্সফরমার রয়েছে সাড়ে ৬ হাজার। পল্ল¬ী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর নতুন গ্রাহকও বেড়েছে।
পল্ল¬ী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুন সংযোগ দেওয়ায় যে বেহালদশা চলছে তার উপরে পল্লী বিদুৎ সমিতির সরবারহ লাইন মাইলের পর মাইল গ্রামের গাছ পালার উপর দিয়ে টানা হয়েছে। সামান্য বাতাস শুরু হলেই পুরো পল্লী বিদুৎ সরবারহ লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঝুকি পূর্ন ট্রান্সফরমার আর লাইনের কারনে পরবর্তীতে আবার পুরোটা লাইন অনুসন্ধান করে ত্রুটি মুক্ত করার পরই সরবারহ স্বাভাবিক হয়। যে কারনে একবার সরবারহ বন্ধ হলে পুনরায় বিদ্যুৎ পেতে একদিন পার হয়ে যায়।
তথ্য সূত্র ঃ দৈনিক ইত্তেফাক

ফেইসবুকে আমরা