November 13, 2018

টাইব্রেকারের ভাগ্যে জিতল ব্রাজিল

--- ২৮ জুন, ২০১৪

অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেরও শেষপর্যায়ে চলে এসেছিল ব্রাজিল-চিলির নক আউট পর্বের প্রথম ম্যাচটি। ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে মরিসিও পিনিলার দিকে বল বাড়িয়েছিলেন আলেক্সিস সানচেজ। পিনিলাও সঙ্গে সঙ্গেই নিয়েছিলেন জোড়ালো শট। কিন্তু চিলির এই স্ট্রাইকারের শটটি ফিরে আসে ব্রাজিলের গোলপোস্টে লেগে। ভাগ্যদেবী এভাবে বিমুখ না হলে ২-১ গোলের জয় দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেই চলে যেতে পারত চিলি। কিন্তু শেষপর্যন্ত তাদের নামতে হয় পেনাল্টি শুটআউটের ভাগ্যপরীক্ষায়। সেখানেও চিলির পক্ষে গঞ্জালো হারার নেওয়া শেষ শটটা আঘাত হেনেছে ব্রাজিলের গোলপোস্টে। টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানের জয় দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক ব্রাজিল।

টাইব্রেকারে অরিসিও পিনিলা ও সানচেজের প্রথম দুইটি শটই ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক হুলিও সিজার। ব্রাজিলের পক্ষেও দ্বিতীয় ও চতুর্থ শট থেকে গোল দিতে পারেননি উইলিয়ান ও হাল্ক। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে বল পাঠিয়েছেন ডেভিড লুইজ, মার্সেলো ও নেইমার।

ব্রাজিলের কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারি কেন স্পেন বা হল্যান্ডের চেয়ে চিলিকেই বেশি ভয় পাচ্ছিলেন, সেটা আজ বেশ ভালোই বোঝা গেছে। বিশ্বকাপে আগের তিনটি মুখোমুখি লড়াইয়ে চিলির বিপক্ষে হারেনি ব্রাজিল। কিন্তু আজ সেলেসাওদের প্রায় আটকেই দিয়েছিল তাদের লাতিন আমেরিকান প্রতিবেশীরা। শেষপর্যন্ত টাইব্রেকারের জয়টা যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো অনুভূতিই দিয়েছে ব্রাজিলের সমর্থকদের।

পুরো ম্যাচের ৫১ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল চিলির কাছে। যদিও বেশি আক্রমণ শানাতে দেখা গেছে ব্রাজিলকেই। প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের কাছে গিয়ে ২৩টি শট নিয়েছেন নেইমার-অস্কার-ফ্রেড-হাল্করা। অন্যদিকে চিলি নিয়েছে মাত্র ১৩টি। এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র পাঁচটি। যার একটি থেকেই সমতাসূচক গোলটি পেয়েছিল চিলি। আর ব্রাজিল অনেক বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারেনি। সতীর্থদের পাস দেওয়ার বদলে বল নিয়ে বেশি কারিকুরি করতে গিয়ে কয়েকবার বল হারিয়েছেন নেইমার। অস্কারকেও আজ দেখা যায়নি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করে খেলতে।

আজ জ্বলে উঠতে দেখা গেছে হাল্ককে। ১-১ গোলের সমতা নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্থে, ৫৪ মিনিটের মাথায় চিলির জালে একবার বলও জড়িয়ে দিয়েছিলেন হাল্ক। কিন্তু হ্যান্ডবলের কারণে সেটা বাতিল হয়ে যায়। উল্টো হলুদ কার্ডও দেখতে হয়েছে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারকে। ৭৪ মিনিটে হাল্কের দারুণ একটা ক্রসে পা ছুঁইয়ে গোল করার খুবই সহজ সুযোগ হেলায় হারিয়েছেন ফ্রেডের বদলি হিসেবে মাঠে নামা জো। শেষ ১০ মিনিটে আরও দুই-তিনবার চিলির রক্ষণভাগে আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পাননি অস্কার-হাল্করা।

৬৪ মিনিটে চিলিও পেয়েছিল দারুণ একটি সুযোগ। কিন্তু চার্লস আরানগুইজের শটটা দারুণভাবে রুখে দিয়েছেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক হুলিও সিজার। প্রথমার্ধে ব্রাজিলের জমাট রক্ষণভাগে খুব বেশি ফাটল ধরাতে পারেনি চিলি। বলার মতো আক্রমণ চালিয়েছিল মাত্র দুই-তিনবার। এরই মধ্যে একটি সুযোগ পেয়েই সেটা কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি চিলির তারকা স্ট্রাইকার সানচেজ। ৩২ মিনিটে সানচেজের এই গোল থেকেই খেলায় সমতা ফিরিয়েছিল চিলি।

এর আগে ১৮ মিনিটের মাথায় নেইমারের কর্নার কিক থেকে আসা বলে মাথা ছুঁইয়েছিলেন ব্রাজিলের অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা। সেটাই জালে জড়িয়েছিলেন কিছুটা ফাঁকায় দাঁড়ানো ডেভিড লুইজ। ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল।

প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময়ই চিলির রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা। বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগও পেয়েছিলেন নেইমার, ফ্রেডরা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে বল পাঠাতে পারেননি।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০