September 15, 2019

দেড় যুগ পরে মূল স্রোতে  ফিরেছে মহানগর আওয়ামী লীগ দলীয় পট পরিবর্তনে নগরীতে তারুন্যের জোয়ার

--- ২১ অক্টোবর, ২০১৬

আসাদুজ্জামান ॥
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বরিশাল মহানগর কমিটি ঘোষনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পরে মূল স্রোতে ফিরেছে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ। নব গঠিত কমিটিতে সাবেক শহর কমিটির সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালকে নবগঠিত কমিটির সভাপতি এবং এ্যাড. এ.কে.এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি অনুমোদন করেছেন দলীয় সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই কমিটিতে সিনিয়র সহ সভাপতি পদে রয়েছেন সাবেক নগর সম্পাদক এ্যাড. আফজালুল করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে তরুণ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বারবার নির্বাচিত কাউন্সিলর গাজী নঈমুল ইসলাম লিটুও পেয়েছেন যুগ্ম সম্পাদকের পদ। যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পদ পেয়েছেন আর এক নন্দিত কাউন্সিলর প্রেসক্লাব সদস্য দৈনিক মতবাদ পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন। প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ রয়েছেন ১নং সদস্য পদে, এছাড়াও বরিশাল নগর আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ন পদ।
জাতীয় পার্টি জেপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করার কয়েক বছরের মাথায় অন্যান্য সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমান করে দলের আহবায়ক ও পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে মহানগর আওয়ামী লীগকে ৩০টি ওয়ার্ডে ঢেলে সাজিয়েছিলেন। ২০০৮ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নগরীতে একক নেতৃত্ব প্রতিষ্টা করেন হিরন। দলীয় কর্মীদের কাছে তার জনপ্রিয়তা আকাশ ছোয়া সাফল্য পেলেও নগরবাসীর ভোটে তিনি হেরে যান বিএনপি দলীয় প্রার্থীর কাছে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সদর আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গত ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে। ২০১২ সালের ১০ এপ্রিল হিরনের অকাল মৃত্যু হলে নগর সভাপতির পদ শূন্য হয়। হিরনের হাতে গড়া কমিটি ঐ শূন্য পদে হিরন পতœী জেবুন্নেছা আফরোজকে নির্বাচিত করার জন্য রেজুলেশন করে ঢাকায় পাঠায়। স্বামী দলের নিবেদিত প্রান হওয়ার কারনে স্ত্রী জেবুনেচ্ছা আফরোজকে দেওয়া হয় দলীয় মনোনয়ন। সদর আসনে হিরনের শূন্য পদে এমপি নির্বাাচিত হন জেবুন্নেছা আফরোজ।
কিন্ত একজন গৃহবধু হিসাবে রাজনীতির মাঠে নিজ দলের শক্ত প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করে তিনি টিকতে পারেননি। অভিবাবকহীন কর্মীদের পাশে এসে দাড়ান যুব সমাজের অহংকার তারুন্যের প্রতিক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি পরোপকারী আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চীফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর পুত্র। সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ধমনীতে বয়ে যাওয়া রক্তে রয়েছে রাজনীতির ছোয়া। রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়ে উঠা সাদিক আব্দুল্লাহ তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় দীর্ঘ সময় ধৈয্য ধরে নেতা-কর্মীদের বুকে টেনে নিয়েছেন। এ কাজে তাকে অনেক বৈরী পরিবেশ মোকাবেলা করতে হয়েছে। তবুও ধৈয্য হারা হননি সাদিক আব্দুল্লাহ। সংগঠনকে ধরে রাখতে দিন-রাত কাজ করেছেন তিনি। ফলে পর্যায়ক্রমে শওকত হোসেন হিরনের আস্থাভাজন বেশিরভাগ নেতাকর্মীরাই আলেকান্দা ছেড়ে কালিবাড়ী রোডে সাদেক আব্দুল্লাহর ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহন করেন। নেতাকর্মীরা তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রদানের জন্য সোচ্চার হয়ে উঠেন। তৎকালীন সময় দেশে চলমান পরিস্থিতি ও নানান জটিলতার কারণে কমিটি ঘোষণা করতে দীর্ঘ সুত্রিতার সৃষ্টি হয়। এদিকে নগর আওয়ামী লীগের পদ পেতে জেবুন্নেছ্ াআফরোজ এমপি, কর্নেল জাহিদ ফারুক শামিম, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, এ্যাড. আফজালুল করিম, তৃনমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত জোর লবিং করেন। মধ্যবর্তী সময়ে আলোচনায় চলে এসে সাবেক নগর সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরীর নাম। বরিশাল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নগর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনার ঝড় চলে। চলে লবিং গ্রুপিং। ২০১২ সালের সর্বশেষ কাউন্সিলে নগর সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এ্যাড. আফজালুল করিমের নিকট হেরে যান এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর। এক যুগের বেশি সময় বরিশাল আওয়ামী লীগের মূলধরার রাজনীতিকরা থাকেন পদ পদবীর বাইরে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের পোর খাওয়া রাজনৈতিক হলেও নানান সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের আর্দশে অবিচল থাকা মুল স্রোতের রাজনীতিবিদরা। বার বার দল পরিবর্তন কারী সুবিধাবাদীদের কাছে চলে যায় দলের নেতৃত্ব। দলের মধ্যে শুরু হয় নতুন আর পুরানের দ্বন্দ্ব। পুরানোরা মুল স্রোতে হলেও হাইব্রীড ও মাস্টার রোল নেতাদের কাছে উপেক্ষিত হতে থাকে। দলের মুল স্রোতের  নেতা-কর্মীদের চেয়ে অন্যান্য দল থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করেছেন। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পরে মূল স্রোতে রাজনৈতিক নেতাদের কাছেই ছুটে আসেন সিংহভাগ কর্মী ও সমর্থক। তবুও হিরনের আর্দশে অবিচল থেকে কয়েক জন নেতার উপর ভরসা করেই কর্মী সমর্থকরা টিকে ছিলো। তাদের আশা ছিল মহানগর সাধারন সম্পাদকের পদে আফজালুল করিম বহাল থাকার পাশাপাশি সভাপতির পদটি তাদের বা প্রতিপক্ষের গ্রুপের কেউ না পেয়ে মাঝামাঝি কেউ পেলেও টিকে যাবেন। আর যদি সাধারন সম্পাদকের সাথে সভাপতির পদটিও তাদের গ্রুপের নেতারা পেয়ে যান তাহলে বীর দর্পে রাজনীতি করতে পারবেন তারা। কিন্ত বিধি বাম ঘটেছে উল্টো। প্রথমেই গণেষ উল্টে যায়। আফজাল সাধারন সম্পাদক হিসাবে পূর্নাঙ্গ কমিটির স্বাধ পাওয়ার আগেই বিদায় বা পদোন্নতি পেয়ে সহ-সভাপতি হয়েছে। যার নাই কোন গতি সে হয় সহ-সভাপতি। তেমনি কোন গতি খুজে না পাওয়া আফজালের মত সভাপতির পদ প্রত্যাশীরাও ছিটকে পড়েন। নব গঠিত কমিটির সভাপতি সম্পাদক দু’ জনই উত্তর মেরুর। যে কারনে দক্ষিন মেরুর রাজনীতি শনির গ্রাসে পড়েছে। কমিটি ঘোষনার পর উত্তর মেরুর নেতা যথা যথ পদটি না পেলেও তারা হতাশ নয়। কর্মীরা বলছেন আকাশ ছোয়া সাফল্য পায়নি মুল স্রোতে তবে আমরা দলকে নিয়ে পাহাড়ের চুড়ায় উঠেছি। দলের মধ্যে তাদের আর কোন প্রতিপক্ষ রইলো না। তাইতো মুল স্রোতে এত আনন্দ উল্লাস। গতকাল নগরীতে নব গঠিত কমিটির নেতারা ভেসেছেন তারুন্যের জোয়ারে। গতকালের উত্তর মেরুতে যে উল্লাস শুরু হয়েছে এবং সেই উল্লাসিত তরুনদের সাথে টানা ১৬ বছর পর আবার পায়ে পা মিলিয়ে হাটতে শুরু করেছেন গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল। বরিশালবাসীর কাছে একজন ভদ্র বিনয়ী এবং দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসাবে তার জনপ্রিয়তা থাকলেও দেড় যুগ রাজনীতির এ পথ মাড়াননি। আবার এই ১৬ বছর যাদের কব্জায় ছিল আওয়ামী লীগের রাজনীতি সেখানে পট পরিবর্তনের এক অশুভ ইঙ্গিত বিদায় ঘন্টা বাজাতে শুরু করেছে। গতকাল নগর সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং তরুন রাজনৈতিক নেতা আ’লীগ কর্মীদের ভরসা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ দলীয় কার্যালয়ে পৌছলে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা কোনরকম আমন্ত্রন ছাড়াই দলে দলে ভিড় করেন দলীয় কার্যালয়ে। বিকালে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা জড়ো হন সেখানে। অঘোষিত ভাবে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি জন সমাবেশে রুপ নেয়। তাৎক্ষনিক ভাবে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। সুন্দর কমিটি উপহার দেয়ায় নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বরিশাল আ’লীগের অভিবাবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের হয়। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ফেইসবুকে আমরা