November 14, 2019

নদীপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে অব্যবস্থাপনা ॥ হুমকির মুখে নৌ-চ্যানেল

--- ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-সংরক্ষন ও পরিচালনা বিভাগের অধিন নৌ-যান চলাচলে সহায়তার জন্য পাইলটেজ সার্ভিস থাকলেও তা বাস্তবে কার্যকর নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌ-পথ থাকলেও তার মধ্যে বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার ও শুকনো মৌসুমে ৩৯শ’ কিলোমিটার নৌ-সংরক্ষন ও পরিচালনা বিভাগ সংরক্ষণ করে। সংরক্ষনকৃত নৌ-পথ ছাড়াও নতুন নৌ-পথ খুঁজে বের করা এবং জরীপ পরিচালনা সহ নৌ-পথের ড্রাফট, ভার্টিক্যাল ও হরাইজেন্টাল ক্লিয়ারেন্স মাত্রা উল্লেখ করে মাসিক ভিত্তিতে নদী বিজ্ঞপ্তিও জারী করা হয়।
জাহাজ চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে জাহাজগুলোর নিরাপদ আসা-যাওয়ার জন্য বিআইডব্লিটিএ থেকে সরকারী পাইলটেজ সার্ভিস নেয়ার বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বরিশাল নদীবন্দরের পাইলট বিশ্রামাগারে ১৬ জন পাইলট ও ৮ জন মাস্টার পাইলট থাকলেও প্রতি ২৪ ঘন্টায় শতাধিক পন্যবাহী জাহাজের মধ্যে মাত্র ৪/৫ জনের বেশি পাইলটেজ সার্ভিস নেয়া হচ্ছে না। সরকারি এ পাইলটেজ সার্ভিসে প্রতি ৮ ঘন্টার জন্য ৪শ’ টাকার রাজস্ব আদায় হয়। অভ্যন্তরীন রুটে চলাচলকারী পাইলটদের বলা হয় বিট পাইলট আর আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী পাইলটদেরকে বলা হয় মাস্টার পাইলট। পাইলট ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যক্রমে বাস্তবে নেই বললেই চলে। যে সকল জাহাজ এ নিয়ম মানছে না তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের নিয়ম থাকলেও ২০১৮ সালে গাবখান চ্যানেলে মাত্র একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। চলতি বছরের এ পর্যন্ত দু’টি অভিযানের খবর পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পাইলট জানান, নদীপথে চোরাই তেল সহ নানান পন্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। এসব জাহাজ কখনোই পাইলট নেয়না। এতে করে পাইলটদের অলস সময় পার করা ছাড়া আর উপায় থাকে না। তবে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে পাইলট নেয়া বাধ্যতামূলক হতো এবং সরকারী পাইলটরা কাজ করতে পারতো বলে তারা জানান। পাইলটরা জানান, নদীপথে অবৈধ পন্য পরিবহনে রাজস্ব ফাঁকি সহ নদী পথে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। গত কয়েক মাসে এখানকার মেঘনা, গজারিয়া নদীতে পণ্যবোঝাই জাহাজ নিমজ্জিত হয়। সরকারী পাইলটরা জানান মেঘনা নদীতে ডুবোচরের পাশাপাশি কার্গো নিমজ্জিত থাকায় নদী পথ সরু হয়ে যাওয়ায় চলাচল অত্যান্ত ঝুঁকিপুর্ণ। বরিশাল নৌ-বন্দরের পাইলট সুপারভাইজার মৌজে আলী জানান, হাইড্রোগ্রাফি সার্ভের মাধ্যমে নদী পথের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে সরকারী পাইলটরা অভিজ্ঞ। সরকারীভাবে প্রতিবছর বিআইডব্লিউটিএ’র মাধ্যমে নদীর নাব্যতা, ঝুকিপূর্ণ ¯্রােত, ডেঞ্জার জোন, ডুবোচর সহ সার্বিক অবস্থা রেকর্ড করে তা সরকারি পাইলদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। যেকারণে বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ আসা-যাওয়ার জন্য পাইলট অত্যাবশ্যক হয়ে পরে।
অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, আসা-যাওয়া নিয়ে দুবার ট্রিপে ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত যেতে চাঁদপুর, লক্ষীপুর, বরিশালসহ খুলনা বন্দর থেকে প্রতিবার ট্রিপে তিনটি সহ মোট ছয়টি কুপন নিতে হয় সরকারী পাইলট নেয়ার জন্য। বরিশাল নৌ বন্দর থেকে দৈনিক প্রায় শতাধিক জাহাজ ঢাকা-বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ পায়রা বন্দরে আসা-যাওয়া করে। এরমধ্যে রয়েছে তেলবাহী ট্যাংকার, মালবাহী বড় কার্গো, মালবাহী কোস্টার, দাহ্য পদার্থবাহী ট্যাংকারসহ সিমেন্টের কিলিংকারবাহী জাহাজ। কিন্তু বন্দরে আসা-যাওয়ার পর জাহাজ নিয়মানুযায়ী পাইলট নেয়ার জন্য সংকেত (সাইরেন) বাজাবে। আর পাইলট ভবন থেকে তা প্রত্যক্ষ করে ট্রলারযোগে জাহাজে থাকা পূর্বের স্টেশনের পাইলট অবতরণ করবে এবং পাইলট হাউজ থেকে আবার একজন অত্র জাহাজে উঠবে। অথচ বরিশাল নৌবন্দরে এর কোনটিই হয়না বললেই চলে।
বরিশাল নৌ-সংরক্ষন বিভাগের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, গড়ে দৈনিক ১০/১২টি পন্যবাহী জাহাজ পাইলট সরবরাহ করে। যে সকল পন্যবাহী জাহাজ পাইলট নেয়না সেসব জাহাজের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়ম অনুযায়ী তিন মাস পর পর ভিজিলেন্সটিম নিয়ে বিভিন্ন চ্যানেলে অভিযান পরিচালনা হয়ে আসছে।
তথ্য সূত্র ঃ দৈনিক ইত্তেফাক

ফেইসবুকে আমরা