December 7, 2019

নৌ-যান শ্রমিকদের ধর্মঘটে দূর্ভোগে বরিশালের যাত্রীরা

--- ৩০ নভেম্বর, ২০১৯

বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সহ ১১ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষে সারা দেশের সাথে একযোগে বরিশালেও শুরু হয়েছে নৌ-যান শ্রমিকদের কর্ম-বিরতী। শনিবার সকাল থেকে বরিশাল নদী-বন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটের কোন লঞ্চ ছেড়ে যায়নি।
বরিশাল লঞ্চ টার্মিনাল থেকে অভ্যান্তরীণ ১১ টি রুটে প্রায় ৫০ টি লঞ্চ প্রতিদিন যাতায়াত করে। অপর দিকে প্রতিদিন ঢাকা টার্মিনাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে প্রায় ২৫ টি লঞ্চ ছেড়ে আসে, তদ্রুপ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায়। আর কর্ম-বিরতীর কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় দূর্ভোগে পড়েছে নদী বেষ্টিত বরিশাল অঞ্চলের সাধারণ যাত্রীরা।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার মধ্যরাত বারোটা একমিনিট থেকে শুরু হয় কর্ম-বিরতী। ২০১৬ সালের গেজেট অনুযায়ী বেতন প্রদান, নৌপথে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজী-ডাকাতি বন্ধ, নিয়োগপত্র প্রদান, দূর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারন, ভারতীয় শ্রমিকদেও ল্যান্ডিং পাশ প্রদান, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মেরিন আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও সকল প্রকার শ্রমিক হয়রানী বন্ধ, মালিক কর্তৃক সকল নৌ-শ্রামকদের খাদ্য ভাতা প্রদান সহ ১১ দফায়ার দাবি বাস্তবায়নে এই কর্ম-বিরতী চলছে। তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এক কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে বলে জানান নৌ-যান শ্রমিকরা।
ধর্মঘটের প্রথম দিনে শনিবার ভোর ৬টায় বরিশাল নদীবন্দর থেকে ছেড়ে যায়নি অভ্যন্তরীণ ১১ রুটে কোনো লঞ্চ। ফলে লঞ্চগুলো নদীবন্দরে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। রাত ১২ টা ১ মিনিটে এ ধর্মঘট শুরু হয়।
নৌ-বন্দরে দেখা গেছে, দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য যাত্রী ঘাটে গিয়ে জানতে পারেন লঞ্চ চলাচল বন্ধ। গন্তব্যে যেতে না পেরে তাদের আবার ফিরে যেতে হচ্ছে। দ্বীপ জেলা ভোলায় যাওয়ার জন্য বরিশাল নৌ-বন্দরে সকাল ৯টায় আসা আ. রহিম বলেন, হঠাৎ এসে জানতে পারেন লঞ্চ চলবে না।
সুন্দরবন-৯ লঞ্চের মাস্টার মজিবর রহমান বলেন, তিনি দীর্ঘ বছর কাজ করেন, কিন্তু কোনো পরিচয় নেই। ১১ দফা দাবি লঞ্চ মালিকরা বাস্তবায়ন না করলে লাগাতার ধর্মঘট চলবে।
তবে লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, নৌযান শ্রমিকদের সঙ্গে আগেই একটি চুক্তি হয়েছে। ওই চুক্তিতে সব ধরনের দাবি মানা হয়েছে। যা ২০২১ সাল পর্যন্ত চলবে।
এ ব্যাপারে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি শেখ আবুল হাসেম বলেন, ২০১৬ সাল থেকেই নৌযান শ্রমিকদের স্বার্থে ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে আন্দোলন করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো দাবি মানেনি লঞ্চ মালিকরা। তাদের খেয়ালখুশি মতো শ্রমিকদের ব্যবহার করছে। বিভিন্ন সময়ে ১১ দফা দাবি মানার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করিয়েছে। এবার ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের নৌ-ধর্মঘট চলবে।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল শাখা ও লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশনের আওতাভুক্ত শ্রমিকরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে সকল ধরনের নৌ-যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে এবং বরিশাল বন্দর পন্টুন থেকে যাত্রীবাহি লঞ্চগুলো সড়িয়ে নিয়েছে।

ফেইসবুকে আমরা