November 19, 2018

পদ্মা সেতু নিয়ে বর্তমান সরকারের শেষ নাটক!

--- ২৬ জুন, ২০১৩

লিটন বাশার ॥  পদ্মা সেতু নির্মান ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রধান অঙ্গীকার। দেশের বৃহত্তর এ সেতু নির্মানের ফলে দখিনের মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে এমন আশায় বুক বেধেছিল দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ। ক্ষমতায় যাওয়ার পরও বড় গলায় সরকার বলেছিলেন এ সেতু তারা নির্মান করে দিবেন। অযোগ্য ও চরম দূর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত পদ্মা পাড়ের ছেলে আবুল মানে সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেওয়া হলো এই স্বপ্নের সেতু নির্মানে কাজ। ফলে নানান বঞ্চনা ও দূর্ণীতির অপবাদে বাঙালীর মুখে কালিমালেপন ছাড়া আবুল কিছুই করিতে পারেন নাই। তবুও তিনি দেশ প্রেমিক খেতাব পেয়েছেন দলীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। বিশ্ব ব্যাংক এই দূর্ণীতিবাজ মন্ত্রীকে মামলার আসামী না করায় হাত গুটিয়ে নিয়েছে। তাদের পাশাপাশি চলে গেছেন জাইকা। ঢাল নাই, তরোওয়াল নাই, নিধিরাম সরদারের মতই গতকাল বর্তমান যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ওরফে ফাটা কেস্ট এক হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে এ সেতু নির্মানের জন্য দরপত্র আহবান করেছেন। এর চেয়ে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে হাস্যকর আর কি খবর হতে পারে যা কেউ বুঝে উঠতে পারছে না। কারন শুরুতেই সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন নাটকীয় সব বক্তব্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ন এ সেতুর বিষয়ে সরকার গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করতে পারবেন না তা প্রমান করে বিদায় নিয়েছেন। এখন সরকারের শেষ সময় এ সময়ে মধ্যে সেতু নির্মান করা সম্ভব নয় তা সকলের কাছে স্পষ্ট। একই সাথে স্পষ্ট হচ্ছে নির্বাচনের পূর্বে ঝুলিয়ে ধরা মুলা দক্ষিনের মানুষ খেতে পারবে না। কারন এই আওয়ামী লীগ যদি আবারো ক্ষমতায় যায় তখনও তাদের বিদেশী দাতা সংস্থার কাছে যেতে হবে এ সেতু নির্মানের জন্য। অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এ সেতু নির্মান কোন মতেই সম্ভব যে সম্ভব নয় তা টেন্ডার আহবানকারী যোগাযোগ মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী থেকে শুরু করে সকলেই বুঝেন। বুঝে শুনে কেন এই দরপত্র আহবান নাটক ?
বলতে দ্বিধা নেই এ সেতুর দরপত্র আহবানের দিন দক্ষিনাঞ্চলের ঘরে ঘরে মিষ্টি বিতরনের কথা ছিল, মসজিদ মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের জন্য বিশেষ প্রার্থনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত দরপত্র আহবানের দিন দক্ষিনাঞ্চলের খোদ আওয়ামী লীগ নেতাদের  চোখে মুখে শুধুই হতাশার ছাপ। বিএনপি সহ বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলোর নেতা-কর্মীদের মুখে বিদ্রুপের হাসি। আর আমাদের মত সাধারন মানুষের চোখের পর্দায় ভেসে উঠল এই সেতু নিয়ে বর্তমান সরকারের নানান নাটকের দৃশ্য গুলো।  সেই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্টানে তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের  সচিব মোশারফ হোসেন ভূইয়ার  উপস্থিতিতে বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবস্থপনা পরিচালক কি বলেছিলেন?  ‘চোরে শোনে না ধর্মের কাহিনী’। অভিযুক্ত চোরের দল সেই কথা কি শুনেছিল? পদ্মা সেতুর কলংকিত ইতিহাস বলছে বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিদায় হওয়ার পর সাবেক পররাস্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর সাথে এসএনসি লাভালিনকে কাজ দিলে কে কত ভাগ টাকা পাবেন তা নিয়ে দরকষাকষি করতে থাকেন বিদায়ী অভিযুক্ত যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। এক সময় সব কিছু খোলসা হয়ে যায় দেশবাসীর কাছে। কিন্ত প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের নিকটতম ঘনিষ্ট হিসাবে পরিচিত আবুল বরাবর নিজেজে নির্দোষ দাবী করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত বাংলা লিংকের মতই দেশ প্রেমিক খেতাব পেয়ে যান আমাদের পদ্মা সেতুর খল নায়ক আবুল মামা। পদ্মার ঘোলা জলে পদ্মা সেতু প্রকল্প ভাসিয়ে দিয়েও আবুলের মুখের হাসি কমেনি। তিনি সর্বদা হাসি খুশি।  আবুল অধ্যায়য়ের যবনিকাপাত ঘটার পরও সরকার সেতু নির্মানের পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো আবুলদের দূর্ণীতি ঢাকতেই মহা ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন।  আবুল মামাকে দেশ প্রেমিক খেতাব দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের সাথে লড়াই করেই সরকার ক্লান্ত হয়ে পরেন। দখিনের মানুষকে দিতে পারেননি কিছুই।  শেষ পর্যন্ত টেন্ডার আহবানের মধ্য দিয়ে আরো একটি তামাশা করলো সরকার। যা দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের সাথে প্রতারনা ছাড়া আর কিছু নয় বলে মনে করছি আমরা। ভোটের রাজনীতির জন্যই সেতুর দরপত্র আহবান নাটক করা হলো। এই নাটক বুঝতে কি দখিনের মানুষের খুব বেশী অসুবিধা হবে বলে আমাদের চতুর সরকার বা সরকারের চতুর মন্ত্রীরা মনে করছেন! যতি মানুষকে এত বোকা মনে করেন সরকার বাহাদূর তাইলে বলতে হবে মুলত সরকার নিজেই বোকার স্বর্গে বাস করছেন।  

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০