December 8, 2019

প্রদ্বীপের আলোয় আলোকিত বরিশাল মহাশ্মশান

--- ২৬ অক্টোবর, ২০১৯

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী দুই দিনব্যাপী দিপাবলী উৎসব উপলক্ষ্যে প্রদ্বীপের আলোয় আলোকিত হয়েছিলো নগরীর কাউনিয়া এলাকার মহাশ্মশান। প্রিয়জনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে দ্বীপ জ্বেলে নানা উপাচার ও ফুল দিয়ে সমাধী সাজিয়ে প্রার্থনা করে স্বজনদের। পরিবারের ছোট-বড় সবাই এসেছিলেন তাদের প্রিয়জনকে স্মরণ করতে। বাদ যাননি বৃদ্ধ ও শিশুরাও। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে মোমের আলোয় আলোকিত হয়েছিল পুরো এলাকা।
বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডু জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস কালি পূজার আগের দিন ভূত চতুর্দশী তিথিতে পূজা অর্চনা করলে মৃত ব্যক্তির আত্মা শান্তি লাভ করে। তাই স্বজনহারা ব্যক্তিরা সমাধীবেদীতে প্রদীপ জ্বেলে সৃষ্টিকর্তার কাছে হারানো স্বজনদের জন্য স্বর্গীয় সুখের প্রার্থনা করেন। তিনি আরও জানান, শনিবার ২টা ৩২মিনিট থেকে শ্মশান দিপালীর তিথির সূচনা হয়। যা রবিবার দুপুর ১২টা ১৪মিনিট পর্যন্ত থাকবে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় বিকেল থেকেই ভীর বাড়তে থাকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।
প্রতিবছর ভূত চর্তুদশীর পূণ্য তিথিতে দু’শ বছরের প্রাচীন ও দেশের অন্যতম বৃহৎ এ মহাশ্মশানে দিপাবলী উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রতিবারের মতো এবারও এ দিপাবলী উৎসবে যোগদিতে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো মানুষ এসেছিলেন। পুরনো শ্মশানের অধিকাংশ সমাধি ধংস হয়ে গেলেও এখনো সেখানে ব্রাক্ষ্মদের ২/৩টি সমাধি রয়েছে। এ মহাশ্মশানে মৃত্যুর ৮০ বছর পর ঠাই হয়েছে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের সমাধি। ২০১২ সালে ভারতের কেওড়া তলা মহাশশ্মান থেকে চিতাভস্য এনে এ মহামশশ্মানে স্থাপন করা হয়েছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ বিল্পবী দেবেন ঘোষ, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী মনোরমা মাসিমা, শিক্ষাবিদ কালি চন্দ্র ঘোষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সমাধি রয়েছে এ মহাশ্মশানে।
দিপাবলীকে ঘিরে মহাশ্মশান এলাকায় বসেছে দু’দিনের মেলা। মহাশ্মশানের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক তমাল মালাকার জানান, নতুন পুরনো মিলিয়ে এখন ঐ মহাশশ্মানে সমাধি প্রায় ৬০ হাজার। আজ রবিবার সেখানে কালিপূজার মাধ্যমে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। তমাল মালাকার বলেন, বেওয়ারিশ সমাধিগুলোকে রং করে যতটুকু পরিচয় পাওয়া গেছে তা পাথর খোদাই করে লেখা হয়েছে। এদের বংশধররা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে চলে গেছেন। সামান্য পরিচয় পাওয়ার পর বংশধরদের কয়েকজন ইতিমধ্যেই তাদের পূর্ব পুরুষদের সমাধি চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে।
মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সেখানে দিপাবলী উৎসব ও কালিপূজা যাতে শান্তিপূর্ন ভাবে সমাপ্ত হতে পারে তার জন্য সর্বাতœক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান।

ফেইসবুকে আমরা