September 15, 2019

প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের মাত্র ৪৮ ঘন্টার মাথায় বরিশাল আওয়ামী লীগ!

--- ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

লিটন বাশার ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে ১৪ সেপ্টেম্বর গণ ভবনে সাক্ষাৎ করিয়াছেন বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। নেত্রী বিগত দিনের চাওয়া – পাওয়া লইয়া সকল দু:খ কষ্ট ভূলিয়া মান-অভিমান দূর করিয়া সকলকে এক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করিবার জন্য নির্দেশনা দিয়াছে। আগামী নির্বাচনের জন্য সকল বিভেদ পরিহার করিয়া  কাধে কাধ মিলাইয়া ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করিবার জন্য পরামর্শ দিয়াছেন। এ খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশের পর দিনই বরিশাল আওয়ামী লীগের যে চিত্র ফুটিয়া উঠিলো তাহাতে বোঝা গেল  মাননীয় নেত্রী যাহা বলেন তাহার বিপরীত কাজটি করিতেই নেতা-কর্মীরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন । সর্বদা দলীয় প্রধানের নির্দেশনা সর্বত্র মানিয়া চলা যায় না কিংবা কোথাও কোথাও ত্র“টি বিচ্যুতি  হইয়াই থাকিতে পারে। কারন মানুষ মাত্রই ভূল রহিয়াছে। তাই বলিয়া কি মাননীয় নেত্রী’র নির্দেশনা মাত্র ৪৮ ঘন্টাও মানিতে পারিলো না বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। তাহারা নিজেদের স্বার্থে দলকে ব্যবহার করিতে গিয়ে প্রায়ই রাজপথে রক্তপাত ঘটাইয়া থাকেন। অনেক বিষয় মাননীয় নেত্রীর গোচরীভূত হয় না। কিন্ত দোষ নিতে হয় দলকে। যেমন সিলেটে সিপিবি ও বাসদের সমাবেশে রবিবার সেখানকার স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যে হামালা চালাইয়াছে তাহার সাথে মুল দল বা কেন্দ্রের জরিত থাকার প্রশ্ন উঠে না। বরং বাম নেতাদের উপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলায় সরকার বিব্রত হইয়াছে। যে কারনে সিলেট ছাত্রলীগের কমিটি রবিবার হামলার পর পরই বিলুপ্ত করা হইয়াছে।  

সোমবার বরিশালে যখন বিবাদমান আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সমর্থকদের সংঘাতে লিপ্ত হইতে দেখা গিয়াছে তখন নগর জুড়িয়া মানুষের মনে প্রশ্ন উঠিয়াছে কি এমন হইলো যে ৪৮ ঘন্টাও দলীয় নেত্রীর নির্দেশনা মানা সম্ভব হইলো না। দলীয় নেত্রীর বাইরে শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী। সে অনুযায়ী তাহার হুকুম মানিয়া লওয়া প্রতিটি সু-নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। শেখ হাসিনার হয়ে যাহারা  স্থানীয় পর্যায়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রন করিয়া থাকেন। তাহারাও সম্মানিত ব্যক্তি হিসাবে বিবেচিত আমাদের কাছে। তাহাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এই সু- নাগরিকগন নিজেদের কানে শুনিয়া আসিয়াছেন। অথচ তাহারা বিষয়টি স্মরন রাখিতে পারেন নাই কিংবা আমলে নিতে কুন্ঠাবোধ করিয়াছেন। কারন প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ কারী নেতাদের বেশ কয়েক জনকে উভয় শিবিরে বিভক্ত হইয়া শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করিবার লক্ষ্যে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের উস্কানী দেওয়ার পাশাপাশি সংঘাতে জড়িয়ে পরতে দেখা গিয়াছে।

রাজপথে এই দৃশ্য দেখিয়া আমরা হতবাক হইয়াছি। বিস্মিত হইয়াছি। ইহা কাহারো কাম্য হইতে পারে না। শুধু আওয়ামী লীগ নহে, বিএনপি সহ সকল রাজনৈতিক দলের কাছেই আমাদের প্রত্যাশা থাকিবে দলীয় প্রধানের মর্যাদা হানীকর কিছু বরিশালের রাজনীতিবিদরা করিবেন না। আমাদের বরিশালের অহংকার বোধের স্থানটিকে জাতীয় পর্যায়ে খাটো না করিয়া উচু স্থানেই রাখা হউক। দলের মধ্যে বিভাজন। ভাইয়ের রক্তের নিজের হাত লাল করিবার মধ্যে কোন বীরত্ব নাই। ইহা নতুন প্রজন্মকে বোঝাইতে হইবে। নিজেরা প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান না দেখিয়ে দলীয় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করিবার লক্ষ্যে যদি সন্তানের বয়সী কর্মীর হাতে অস্ত্র তুলিয়া দিয়া বা সংঘাতে শরীক হইয়া নিজেদের গর্বিত মনে করিয়া থাকেন তাহাদের বুঝিতে হইবে ভবিষ্যতে তাহাদের কথাও কর্মীরা শুনিবে না।

সন্তানের কথা অমান্য করিলে বাবা যেমন ব্যথিত হইয়া থাকেন তেমনি কর্মীরা বেপরোয়া হইয়া উঠিয়ে নেতা-নেত্রীরা শুধু ব্যথিত হন। অবাধ্য সন্তানকে  পিতা ত্যাজ্য করিয়া  সামান্য ক্ষোভ নিবারন করিলেও সংসার সুখ আসে না। তেমনি অবাধ্য নেতা-কর্মীদের বহিস্কার করিয়া দলীয় প্রধান সামান্য সুখ খুজিয়া থাকেন বটে তাহাতে দলের ভিতর শান্তি ফিরাইয়া আনিয়া দলকে শক্তিশালী করিবার কাজ দুরহ হইয়া পরে। তাই শান্তির অন্বেষনে সকলকেই যার যার স্থান হইতে শৃঙ্খলা মানিয়া চলিতে হইবে।

ফেইসবুকে আমরা