November 14, 2018

বরিশালের প্রায় অর্ধশত ঝুকিপূর্ন ভবনে বসবাস করছে মানুষ

--- ৩ আগস্ট, ২০১৭

প্রিন্স তালুকদার ও রাসেল সিকদার ॥
নগরীর প্রায় অর্ধশত ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনে অসংখ্য মানুষ বসবাস করছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে ৩৪টিতে সিটি কর্পোরেশন চিহ্নিত চূড়ান্ত চিঠি দিলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি নেই। বর্ষা মৌসুমে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দুর্ঘটনার আশংকা করছেন খোদ নগর ভবনের কর্মকর্তারা। বিসিসি’র প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা নন্দিতা বসু জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে বিশেষ করে জনবহুল এলাকার ভবনগুলোতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি ভবন মালিক ও বাসিন্দাদের এসব ভবনে বসবাস না করার পরামর্শ দেন।
সিটি কর্পোরেশন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের হাবিবুর রহমান ছাত্রাবাস, বিএম কলেজের সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাস, বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী হোস্টেল ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শহীদ আলমগীর ছাত্রাবাস, কাউনিয়া প্রধান সড়কের সিরাজ মহল, কাউনিয়া জানুকি সিংহ রোডে মতি লস্করের বাড়ি, পূর্ব বগুড়া রোডের রবীন্দ্রনাথ সেনের ভবন, আগরপুর রোডের মনু মিয়ার বাড়ি, কাটপট্টি সড়কে সাধনা ঔষধালয় ভবন, সৈয়দ জুম্মান ব্রাদার্স, অমৃত ভবন, আহম্মদ ক্লথ স্টোর, চন্দ্রিকা ব্রাদার্স, মিল্লাত ফার্মেসি, সার্কুলার রোডের সৈয়দ মনসুর আহমেদের ভবন, ঈশ্বর বসু রোডের সৈয়দ মঞ্জিল, হাসপাতাল রোডের মান্নান মৃধার ভবন, কালুশাহ সড়কের জালাল আহমেদের ভবন, বগুড়া রোডের সালাম চেয়ারম্যানের পুরনো ভবন, হাজি ইসরাইলের বিল্ডিং, নগর ভবনের পেছনের সাবেক হাজতখানা, সদর উপজেলা পরিষদের পুরনো ভবন, সদর রোডের সৈয়দ ভবন, কাউনিয়া প্রধান সড়কের বেণীলাল গুহের বাড়ি ও রূপাতলীর নলছিটি প্লাজা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে সিটি কর্পোরেশন কর্র্তৃক চিহ্নিত ৩৪টি ভবন ছাড়াও নগরীতে দেড়শ বছরের পুরনো বেশ কিছু ভবন রয়েছে। এসব ভবনগুলোর মধ্যে নগরীর বগুড়া রোডের মহালয় নিবাস, ওবায়েদ মঞ্জিল, সদর রোডের ব্রাহ্ম সমাজের বাড়ী, বিএম কলেজের ছাত্রী হোস্টেল দেবেন্দ্র ভবন, মহিলা কলেজের গোড়াচাঁদ রোডস্থ ছাত্রী নিবাসের মুল ভবন, জেলেবাড়ির পোল সংলগ্ন আইনুদ্দিন হাওলাদারের বাড়ির পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করছে অসংখ্য মানুষ। এরবাইরে সরকারী অফিসগুলোর পরিত্যক্ত ভবনেও কেউ কেউ বসবাস করছে গোপনে। সরকারী অফিসের তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীরা বিনা ভাড়ায় গোপনে কেবলমাত্র রাতেই ঐসব ভবনে থাকেন।
এসব ভবনের বসবাসকারী ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিতদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, নগরীর সদর রোডের শহীদ মিনারের বিপরিত দিকে ব্রাহ্ম সমাজের বাড়িটির বয়স দেড়শ বছর। সেখানে একটি সংগীত বিদ্যালয় চলছে। মারাতœক ঝুকির মধ্যে রয়েছে এ ভবনের পাশ্ববর্তী বাসিন্দারা। বটতলা হোমিওপ্যাথিক কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে জরাজীর্ণ একটি ভবনের বসবাস করছে কয়েকটি পরিবার। একই ভাবে কাউনিয়া প্রধান সড়কের এ, কাদের চৌধুরী স্কুলের বিপরিত পার্শ্বের বাড়ীতে ঝুকি নিয়ে বাস করছে একাধিক পরিবার। এ সব ভবনগুলোর অধিকাংশই মালিকানা নিয়ে বিরোধ, সরকারী দেবোত্তর সম্পতিতে গড়ে উঠা কিংবা বহু বছর আগে ফেলে রেখে দেশান্তরীত হওয়া মানুষের বাড়ী ঘর। গোড়াচাঁদ দাস রোডের ঝুঁকিপূর্ণ যে ভবনে মহিলা কলেজের ছাত্রীরা বসবাস করছে সেই ভবনটি ব্রিটিশ আমলে তৈরী করা হয়েছিলো বলে স্থানীয় প্রবীন ব্যক্তিরা জানায়।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের এস্টেট অফিসার মাহবুবুর রহমান শাকিল জানান গত বছর মন্ত্রনালয়ের চিঠির পর তারা ৩৪টি ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড লাগালেও অধিকাংশ ভবনের মালিকরা তা সরিয়ে ফেলেছে। গত ২৪ জুলাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মালিকদের নিয়ে জেলা প্রশাসক’র কার্যালয়ে বৈঠকের জন্য চিঠি দেয়া হলেও সেখানে ৩৪ ভবনের মাত্র ১৫ জন ভবন মালিক এসেছেন। ঐ বৈঠকে ভবন মালিকরা তাদের অধিকাংশ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে পুনঃতদন্তের দাবী জানান। তিনি জানান বেসরকারী ভবন মালিকদের মধ্যে ১৫ জন আসলেও সরকারী অধিক ঝুকিপূর্ণ থাকলেও তারা কেউ আসেননি। এমনকি জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রনাধীন নগর ভবন সংলগ্ন সাবেক হাজতখানার ভবনটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তারা সংস্কার করা হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে বার বার চিঠি দেয়া হলেও তারা কোনো কর্নপাত করেননি। তিনি জানান, ভূমিকম্প ঝুঁকিতে থাকা ও বসবাসের অনুপযোগী চিহিৃত করে সংশ্লিষ্টদের চূড়ান্ত চিঠি দিলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি বলেন বিএম কলেজ ও সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ অধ্যক্ষকে বার বার চিঠি দিলেও তারা

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০