বরিশালের বাকেরগঞ্জের গোমা ফেরীঘাটে ৪০-৪৫ জন যাত্রী নিয়ে নদীতে বাস নিমজ্জিত ॥ উদ্ধার অভিযানে র‌্যাকার

বরিশাল টু-ডে ॥ বরিশালের বাকেরগঞ্জের গোমা ফেরিঘাটে মায়ের আঁচল পরিবহনের একটি বাস ৪০-৪৫ জন যাত্রী নিয়ে বুধবার দুপুরে নদীতে নিমজ্জিত হয়েছে। খবর পেয়ে বিকেলে বরিশালের ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। যাত্রীদের মধ্যে ৪ জন নদী সাতরিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে আচল পরিবহনের বাসটি চরকাউয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে গোমার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ফেরিঘাটে ব্রেক ফেল করে দুর্ঘটনা কবলিত হয়। ফেরিটি নদীর পূর্বপ্রান্তে থাকা অবস্থায় পশ্চিম প্রান্ত থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। সুপারভাইজার সহ ফেরিঘাটের কর্মকর্তারা ঘাটে উপস্থিত ছিলেন না। খবর পেয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। তবে নিখোঁজের সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিমজ্জিত বাসটি পানির নিচ থেকে টেনে তোলার  জন্য উদ্ধারকারী র‌্যাকার সন্ধ্যায় অকুস্থলে পৌছে উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে। এরপূর্বে ডুবুরিরা প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে বাসটিতে রশি বেধে উদ্ধার অভিযানের চেষ্টা চালান। কিন্ত দমকল ইউনিটের ক্রেন দিয়ে ততক্ষন ভারি বাসটি টেনে উপরে তোলা সক্ষম হয়নি। দূঘর্টনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক শহিদুল আলম ও পুলিশ সুপার একেএম এহসানউল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার অভিযানে তদারকি করেন। দমকল ইউনিটের ডুবুরীরা জানিয়েছেন নিমজ্জিত বাসটি ২০/২৫ হাত পানির নীচে রয়েছে। নিমজ্জিত বাসে রশি বাধার পর সেখানে কোন ক্রেন না থাকায় উদ্ধার অভিযান থমকে দাড়ায়। এরপর র‌্যাকার দিয়ে কাজ শুরু করা হয়।
দূর্ঘনা কবলিত বাসটি উদ্ধারে বিকেল সোয়া ৬ টায় বিআইডব্লিটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বরিশাল থেকে রওনা হলেও দূর্ঘটনাস্থলে পৌছতে কমপক্ষ ১০ ঘন্টা সময় লাগবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে জেলা পুলিশের  উদ্ধারকারী যান রেকার ঘটনাস্থলে পৌছে ফায়ারসার্ভিস ও ডুবরীদের পাশা পাশি উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার একেএম এহসানউল্লাহ জানান, বাসটি ফেরীতে উঠতে চাইলেও ঘটনা স্থলে ফেরী ছিলোনা। ফলে বাসটি সরাসরি নদীতে পরে তলিয়ে যায়। দূর্ঘটনার পর কিছু যাত্রী তীরে উঠতে পারলেও নদীর স্রোতের কারনে অনেকেই উঠতে পারেননি। এ কারনে বহু লোক হতাহতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে দূর্ঘটনার ঘটনার খবর হাজার হাজার মানুষ স্বজনদের খোজে গোমা ফেরীঘাটে জড়ো হয়েছে। তাদের কান্নার রোলে ভারি হয়ে উঠছে আকাশ বাতাস। ঘটনার পরপরই বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ও পুলিশ সুপারসহ প্রসাসনের কর্তাব্যাক্তিরা ঘটনা স্থলে পৌছেছেন।