বরিশালের মাছের আড়ত দখল করেছে তরমুজ ॥ প্রতি হেক্টরে ফলন বেড়েছে ৩টন

শাহীন হাফিজ ॥ বরিশালের মৎস্য আড়তগুলো এখন তরমুজের দখলে। যেখানে ট্রলারে প্রতিদিন শত শত মন ইলিশ আসতো এবং বিক্রি হতো এখন সেখানে আসছে তরমুজ। ইলিশের মোকাম পরিনত হয়েছে তরমুজের মোকামে। পোর্টরোডের মৎস্য আড়তগুলো থেকে তরমুজ ইলিশের মতই ট্রাকে তুলে পাঠানো হচ্ছে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
বর্তমানে নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ রয়েছে। তাই ইলিশের সরবরাহ নেই। একই সময় তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষক ও পাইকাররা বিক্রয় কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়ে মৎস্য আড়তগুলো। কৃষি বিভাগের মতে গত মৌসুমের চেয়ে এবার তরমুজের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রতি হেক্টর ৩ টন। গত বছর তরমুজের ফলন ছিলো হেক্টর প্রতি ৪২ টন। এবার প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে ৪৫টন।

এখন পর্যন্ত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসায় কৃষকরা ভালো ভাবেই উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন বলে আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খোন্দকার সিরাজুল করিম জানিয়েছেন। ঐ দপ্তর জানায় চলতি বছর এ বিভাগের ৬ জেলায় ৩০ হাজার ৮৯৩ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। মোট ১৩ লাখ ৯০  হাজার ১৮৫ টন উৎপাদিত তরমুজ কৃষকরা বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বিপুল পরিমান তরমুজ বিক্রি করে কৃষকরা বিপুল টাকা মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।

দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজ আবাদ হয়েছে পটুয়াখালী জেলায়। এ জেলায় ১৪ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছে কৃষকরা। ভোলা জেলায় ১১ হাজার ৭৭৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে, বরগুনা জেলায় ৩ হাজার ১২০ হেক্টর, পিরোজপুরে ৭৫০ হেক্টর, বরিশালে ৪৭৬ হেক্টর ও ঝালকাঠীতে ৪৩ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে।
উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষক ও পাইকাররা মাঠ থেকে তরমুজ ট্রলারে তুলে নগরীর পোর্টরোডস্থ মৎস্য আড়তগুলো নিয়ে আসছে। দিন-রাত সমানতালে একের পর এক ট্রলারবোঝাই করে তরমুজ আসছে। মৎস্য আড়তদাররা এ তরমুজ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন। আবার কোনো কোনো আড়তদার রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তরমুজ বিক্রির জন্য ট্রাকযোগে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

মাত্র এক যুগ আগেও এ অঞ্চলে তরমুজের কোনো ফলন হতো না। নাটোর সহ উত্তরাঞ্চল থেকে আসা তরমুজ এ অঞ্চলের মানুষ ক্রয় করে খেতো। এখন প্রতি বছর তরমুজের ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা ধান ও রবি শস্যের চেয়ে তরমুজ চাষে বেশি লাভবান হচ্ছেন। যে কারনে তারা তরমুজ চাষের প্রতি ঝুকে পড়ছেন বলে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানান।