December 8, 2019

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নাস্তিক-মুরতাদরা সারাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে

--- ২২ মার্চ, ২০১৩

বরিশাল টুডে ॥ বরিশালে ইসলামী মহাসম্মেলন ও তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে বক্তারা বলেন, সাম্রাজ্যবাদীদের প্রত্যক্ষ মদদে শাহবাগের নাস্তিক-মুরতাদ ব্লগাররা একত্রিত হয়ে ইসলাম অবমাননায় মেতে উঠেছে, ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা এসময় নির্লিপ্ত থাকতে পারেনা। এজন্য দেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে সাড়া দিয়ে সকল মু’মিন মুসলমানদেরকে তাগুতি শক্তির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। বরিশাল বিভাগীয় কওমি মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের আয়োজনে নগরীর হেমায়েতউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে শুক্রবার থেকে এই সম্মেলন শুরু হয়। আজ শনিবার সম্মেলন শেষ হবে।
সম্মেলনের প্রথম দিনের আলোচনাসভায় চরমোনাই’র পীরে কামেল নায়েবে আমিরুল মুজাহিদীন হযরত মাওঃ সৈয়দ মুফতী মোঃ ফয়জুল করিম বলেছেন নাস্তিক মুরদাতদের পীর আউলিয়ার পূণ্য ভূমি বরিশালের মাটিতে পা রাখতে দেয়া হবে না। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন সিংহের লেজ দিয়ে কান চুলকানোর চেষ্টা করবেন না। সিংহ গর্জন দিলে ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকতে পারবেন না। মুফতী ফয়জুল করিম বলেন শাহবাগে দুধ কলা দিয়ে নাস্তিক নামক যে কাল সাপ লালন-পালন করছেন, ঐ কাল সাপ-ই আপনাকে ধ্বংস করবে। ভারতের দাদারা আপনার শেষ রক্ষা করতে পারবে না। তিনি সংসদে নাস্তিক-মুরতাদদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন পাস করার আহবান জানান।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম ও কওমি মাদরাসা ঐক্য পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি এবং নগরীর মাহমুদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব ।
মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন হজরতুল আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন চরমোনাই পীরে কামেল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। বক্তব্য রাখেন মুফতি শিব্বির আহমাদ, মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী, মাওলানা আবদুল হালিম, মুফতি মাহবুব বিন মোশাররফ, মুফতি রফিকুল ইসলাম ও মুফতি মাহফুজুল হক।
বক্তারা বলেন, দেশ আজ দুভাগে বিভক্ত, একদিকে নাস্তিক অপরদিকে মুসলমান। তাই সরকারকে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাদের অবস্থান পরিস্কার করতে হবে। নচেৎ জনগন এই সরকার থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হবে। সমাবেশে বক্তারা আগামী ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ সফল করতে তৌহিদী জনতার প্রতি আহবান জানান।
বক্তারা বলেন, ১৭৫৭ সালে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদীরা যখন ভারতবর্ষ দখল করে নিল, উলামায়ে কেরাম তখন এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েন। তখন ওলামাদের উপর নেমে আসে জুলুমের খড়গ, হাজার হাজার আলেম ওলামাকে ফাঁসি দেয়া হয়, মসজিদগুলোকে বানানো হয় আস্তাবল ও ফৌজি ছাউনি। এক পর্যায়ে এই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনা ধারন করে ইংরেজ বিতাড়নের মহান লক্ষকে সামনে রেখে ১৮৬৬ সালের ৩০ মে ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দ গ্রামে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়। কওমী মাদ্রাসাগুলো তারই শাখা। তাই ঐতিহ্য সূত্রেই ওলামায়ে কওমী সর্বযুগে সকল সাম্রাজ্যবাদী ও তাগুতি শক্তির বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম করে চলছেন।
সম্মেলনে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে কওমী মাদ্রাসার হাজার হাজার শিক্ষক শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলন উপলক্ষে মুফতি সুলতান মাহমুদের সম্পাদনায় ‘উদ্দীপন’ নামে একটি বিশেষ বুলেটিন প্রকাশিত হয়েছে।

ফেইসবুকে আমরা