বরিশালে কালবৈশাখীর ছোবল ॥ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ॥ বিদ্যুত ও পানি সংকট তীব্র

বরিশাল টু-ডে ॥ মঙ্গলবার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা এবং কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়ায় নগরীতে তীব্র বিদ্যুত ও পানি সংকট দেখা দিয়েছে। একাধিক এলাকার বাসিন্দারা জানান ঝড়ের পড় গত রাত থেকে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে করে বিদ্যুত নির্ভর কাজ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিসিক শিল্প এলাকা সহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। নগরীর জীবন যাত্রায় নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিদ্যুতের অভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় নগরবাসীর তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছ। নগরীর জনপ্রিয় যানবাহন হিসেবে পরিচিত বিদ্যুত চালিত অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে কালবৈশাখীর ঝড়ে যার ফলে নগরীর যাফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাত ৭টা ৪০ মিনিটে নগরী সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক আঘাত হানে কালবৈশাখী ঝড়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী কালবৈশাখী ঝড়ে এখানকার জনজীবনে নেমে আসে স্থবিরতা। ঝড়ে নগরীর পলাশপুর, সাগরদী, কাশিপুর, রহমতপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ সময় ঘরের নিচে চাঁপা পরে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। পলাশপুরের বাসিন্দা সাগর জানান কালবৈশাখীর ঝড়ে তাদের বসত ঘর উড়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী স্থানে পড়ে যায়। সকাল হওয়ার পর তা অর্ধেকটা উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
 আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আনিছুর রহমান জানান ঝড় চলাকালে রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে বাতাসের গতিবেগ ছিলো প্রতি ঘন্টায় ৭৪ কিলোমিটার। তিনি জানান ঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুরু হয়ে দক্ষিন-পূর্ব দিকে বয়ে যায়ে। ঝড়ের পাশাপাশি গত রাত ৯টা পর্যন্ত ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বরিশাল বিদ্যুৎ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম জানান, ঝড়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে গাছের ডালপালা পরে বিদ্যুতের তার ছিড়ে গেছে। রাত থেকে তাদের ২১ ফিডারের (সঞ্চালন লাইন) সবকটি বন্ধ ছিল। সকালে ২টি ফিডার সচল করা হয়েছে। তবে বাকি ১৯টি ফিডার কখন সচল হবে তা নিশ্চিত নয়। ফিডারগুলো সচল করতে দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী জানান।