বরিশালে পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে বিএনপি’র পৃথক মিছিল

বরিশাল টু-ডে ॥ বরিশাল নগরীতে হরতালের সমর্থনে মিছিল-সমাবেশ করেছে মহানগর ও জেলা বিএনপি। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় নগরীর নাজিরের পোল থেকে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি’র নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ে যেতে চাইলে জেলখানা মোড়ে বাঁধা দেয় পুলিশ। পরে পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মহানগর বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি। অন্যান্যনের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমন, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মাসুদ হাসান মামুন প্রমুখ।
সকাল ৭টায় নগরীর বগুড়া রোড বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জেলা (দক্ষিন) বিএনপি। সভাপতি আহসান হাবিব কামাল এবং সাধারন সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের নেতৃত্বাধীন মিছিলটি কিছুদুর অগ্রসর হলে বাঁধা দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে বাঁধা উপক্ষো করে সদর রোড, কাকলী হল মোড় হয়ে মিছিলটি বিডিএস ক্লাব মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য করেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি আহসান হাবিব কামাল, সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহানগর যুবদল সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান শামীম, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মোমেন সিকদার, জেলা ছাত্রদল যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন প্রমুখ।
বেলা একটায় আবদুর রব সেরনিয়াবাত আইনজীবী সমিতি ভবন এলাকা থেকে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও ইসলামিক ল’ইয়ার্স ফোরাম নেতৃবৃন্দ। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বরিশাল শাখা আহবায়ক অ্যাডভোকেট আলী আহমেদ। বক্তব্য রাখেন মহানগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
এর আগের রাতে নগরীর নতুন বাজার এবং হাসপাতাল রোড এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে হরতাল সমর্থকরা।
হরতালে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রূপাতলী টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীন এবং দুরপাল্লা রুটের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে নগরীর অভ্যন্তরে এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে সীমিত সংখ্যক রিক্সা, অটো রিক্সা, মাহেন্দ্র আলফা (টেম্পো) চলাচল করছে। বন্ধ রয়েছে নগরীর বেশীরভাগ দোকানপাট।
যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানে মোতায়েন ছাড়াও টহল দিচ্ছে পুলিশসহ অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী।