বরিশালে বর্ষবরণ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা-বৈশাখী মেলা সহ জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন

আসমা আক্তার ॥ ‘মেলায় যাইরে- বাসন্তী রং শাড়ী পড়ে ললনারা হেটে চলে’…। মেলা নিয়ে এ গানের মাঝেই ‘এ বুঝি বৈশাখ এলো’ কানে ভেসে আসে। নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ, হালখাতা আর বৈশাখী মেলা যেন এখনো এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে প্রাণের স্পন্দন হয়ে আছে। তাই প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বাংলা নব বর্ষকে বরণ করে নিতে চলছে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন। সর্বত্রই বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে চলছে বর্ষ বরনের ব্যাপক প্রস্তুতি। গান-বাজনা-নাটক আর হরেক রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বৈশাখী মেলার জোড়ালে প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। বরিশালে পহেলা বৈশাখে সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হয় চারুকলার উদ্যোগে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো প্রভাতে রাখি বন্ধন ও বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চারুকলার শিল্পীরা। রং বে রংয়ের নানান ধরনের মুখোশ, তালপাখা, হাতি, ঘোড়া নিয়ে শুরু হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। চারুকলার শিল্পীরা গত একমাস যাবত তৈরী করছেন নানান সামগ্রী। এবার থাকছে কৃত্রিম কুমির, ঘোড়া, রাজাহাঁস, বাঘ ও বিভিন্ন পাখির প্রতিকৃতি নিয়ে শুরু হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। মুখোশ, টুপি, টোপড়, ফোমের ফুল, শোলার পাখি ও কুলা তৈরী করা হয়েছে বিপুল পরিমাণের। চারুকলার শিল্পীরা দিন-রাত সমানতালে এসব জিনিস তৈরী করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের চোখে ঘুম নেই।
বর্ষবরণ উপলক্ষে ইতিমধ্যে ঐতিহ্যেধারায় বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থা জেলা কমিটি আয়োজন করেছে লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শনিবার বিকেল ৫টায় প্রতি বছরের ন্যায় বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে এ লোকজ সন্ধ্যায় পরিবেশিত হবে রবীন্দ্র, নজরুল, লালন, হাসন, ভাটিয়ালী, মুরশিদী, লোক নৃত্য। নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন সংগঠনের সভাপতি শান্তি দাস। সঙ্গীত পরিবেশন করবেন, তপন সরকার, অধ্যাপিকা দিপ্তী সরকার, অধ্যাপক মনোজ হালদার, বিনয় হালদার, সঞ্জয় হালদার, সাঈদ পান্থ সহ আরো অনেক শিল্পী।