বরিশালে মহানগর হেফাজতের আমীর আটকের পর আন্দোলনের মুখে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

শাহীন হাফিজ ॥ গত রাতে গ্রেফতারকৃত মহানগর হেফাজতে ইসলামের আমীর ও নগরীর মাহমুদিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুবকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ পুলিশ। হেফাজতে ইসলামীর আমীরসহ ৫ নেতাকর্মীর মুক্তির দাবীতে ভোর থেকেই কোতয়ালি মডেল থানা ঘিরে অবস্থান নেয়ায়  সকাল ১১ টায় তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। মুক্তির পর মহানগর হেফাজতের আমীর মাওলানা ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে নগরীতে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করা হয়। মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে বাধা উপেক্ষা করে নগরীতে বিক্ষোভ করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মিরা। বিশাল মিছিল চলাকালে নগরীর সদর রোড অধিকাংশ এলাকার দোকান-পাট বন্ধ করে দেয় ব্যবসায়ীরা।
রবিবার রাতে রূপাতলী বাস টার্মিনালে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের নিয়ে মাওলানা ওবায়দুর রহমান হরতালের সমর্থনে গণসংযোগ করতে যান। টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলরর সুলতান মাহমুদ তাদেরকে মারধর করে র‌্যাবের কাছে সোপর্দ করে। রাত সাড়ে ১২টায় আটক নেতাকর্মীদের কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করা হয়। ঘটনার পরপরই নগরীর বাজার রোড খাজা মাইনুদ্দিন মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলন করে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি না দিলে দক্ষিণাঞ্চল অচল করে দেয়ার হুমকি দেয়। সে অনুযায়ী আজ সোমবার ফজরের নামাজের পরপরই বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার মুসুল্লীরা এসে বিক্ষোভ সহকারে কোতয়ালী মডেল থানা ঘেরাও করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ওবায়দুর রহমানের মুক্তির দাবীতে নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হলে এক পর্যায়ে অবস্থা বেগতিক দেখে কোতয়ালী থানার ওসি তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। মহানগর হেফাজতে ইসলামের সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, হরতাল সফল করার আহ্বান জানিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে গত রাতে বাস না চালানোর অনুরোধ নিয়ে রূপাতলী বাসষ্ট্যান্ডে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে স্থানীয় কাউন্সিল ও আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগ কর্মীরা অতর্কিত তাদের উপর হামলা চালায়। তাদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তিনি জানান, হামলায় মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব ছাড়াও হেফাজতে ইসলামের সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মাওলানা আল আমিন, মাওলানা রুহুল আমিন খান, মাওলানা রুহুল আমিন ও সাব্বির আহম্মেদ আহত হয়েছেন। পরে র‌্যাব হেফাজতে ইসলামের ৫ নেতাকর্মী ও ৪টি মোটরসাইকেল আটক করে।
র‌্যাব-৮ এর ১নং কোম্পানী কমান্ডার ক্যাপ্টেন আবুল বাশার জানান, বাসে ভাংচুরের অভিযোগে শ্রমিকরা কয়েকজনকে মারধরের পর অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে র‌্যাব গিয়ে তাদের ৫ জনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে। রাতেই তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়।
কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এস.আই গোলাম কবির জানান হেফাজতে ইসলাম মহানগর শাখার আমীর মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুকে শারিরিক অসুস্থতার জন্য ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অপর আটককৃদের বিরুদ্ধে যানবাহনে হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।