September 15, 2019

বরিশাল জগদীশ স্বারস্বত বিদ্যালয়ের নানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির সাক্ষ্য গ্রহন

--- ২৩ মার্চ, ২০১৯

বরিশাল টুডে ॥ বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র কালিবাড়ী রোডের জগদীশ স্বারস্বত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাত সহ নানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে জেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক দপ্তর থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি। বিদ্যালয়ের প্রধানক শিক্ষকের নানান অনিয়মের বিষয়ে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক আবেদন করে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ। এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে একাধিক তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছে বরিশাল নগরীর জগদীশ স্বারস্বত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম। নানান অনৈতিক কাজের জন্য প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষিকা ইতিমধ্যে কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় মাধ্যমিক দপ্তরেও অভিযোগ দিয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে ১২শ শিক্ষার্থী সমৃদ্ধ স্বারস্বত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বিরোধ চলাকালীন ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর যোগদান করেন প্রধান শিক্ষক শাহআলম। এরপর থেকে তিনি কতিপয় পদক্ষেপ নেয়। উন্নয়নের নামে যোগদানের সময় থেকে ৭ মাসের ব্যবধানে ভুয়া ভাউচার দিয়ে ৬০ লাখ টাকা বিদ্যালয়টির অগ্রণী ব্যাংক হিসেব নং০২০০০০৩৪১৪৪০৯ থেকে সভাপতির সাথে যোগসাজস করে উঠিয়ে নেয়। এ টাকা দিয়ে ২টি কক্ষ টাইলস করা, রং করা, ফলস সিলিং, দুটি কেসি গেইট, দশটি কাঠের চেয়ার ক্রয়সহ বিভিন্নধরণের ভাউচার দেখান তিনি। কিন্তু স্কুল ম্যনেজিং কমিটির নিয়মানুযায়ী সকল আয় দিন শেষে ব্যাংক হিসেবে সংরক্ষিত থাকার কথা। তিনি যোগদানের পর শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ব থেকে ধার্যকৃত টিফিন খরচ এক লাফে তিনি ১৪০ টাকা বৃদ্ধি করে ২শ’ টাকা করে। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন সহ অন্যান্য মিলিয়ে ১শ’ টাকার স্থলেও ২শ’ টাকা করেন তিনি। টিফিন বাবদ প্রতি মাসে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করে। ২০১৮ সালে টিফিন বাবদ ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করে ব্যয় করে ১লাখ ২০ হাজার। ২০১৯ সালে অধ্যবধি কোন টিফিন দেয়া হয়নি। অথচ চলতি বছরে টিফিনের বিপরীতে ১২শ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিন মাসে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। টিফিন দেয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রীদের হাজিরা খাতা অনুযায়ী শ্রেণী শিক্ষকের স্বাক্ষরিত নোট তৈরী করে মোট উপস্থিতি অনুযায়ী টিফিন দেয়া হয়। এতে রয়েছে ৫ টাকা দামের সিঙ্গারা, ৫ টাকা দামের কেক, ৪ টাকা দামের বনরুটি। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান বছরের ৬ থেকে ৭ মাস পাঠদান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বাকি মাসগুলো পরীক্ষা, বিভিন্ন দিবস, বিশেষ বন্ধ, পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ায় পাঠদান বন্ধ থাকে। অথচ টিফিন খরচ নেয়া হয় ১২ মাসে। গত বছরের শেষের দিকে এ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দেয়ায় পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক এডহক কমিটির সভাপতি হন। সেই থেকে প্রধান শিক্ষক নিজ নামের একাউন্টে বিদ্যালয়ের টাকা জমা এবং তা থেকে ইচ্ছেমাফিক খরচ করছে। এসব বিষয়ে গতকাল জেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে তদন্ত টিম বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রধান শিক্ষক শাহআলম বলেন, তদন্ত টিম এসেছে আমি বিব্রত। এনিয়ে আপনাদের সাথে পরে কথা বলবো।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ অজিয়র রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এডিসি রাজস্ব ও একজন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাসহ একটি তদন্ত টিম গঠিত হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে সকল বিষয় স্পষ্ট হবে এবং প্রকৃত দোষীকে উদঘাটিত হবে।
অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়গুলোর এ বিশাল অংকের টাকা লুটপাট নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি, প্রধান শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত থাকায় পড়াশোনা বিঘিœত হয়ে থাকে। টাকা আয়ের নেশায় পড়ে শিক্ষকরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে পাঠিয়ে পড়াশোনা করাতে হচ্ছে বলে ভূক্তভোগী অভিভাবকরা জানান।

ফেইসবুকে আমরা