November 14, 2018

বাবুগঞ্জের রাজগুরু-কেদারপুর খেয়াঘাটে গলাকাটা ভাড়া আদায়

--- ২২ জুন, ২০১৭

✪রাকিবুল হাসান॥ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বন্দর বাজার সংলগ্ন রাজগুরু-কেদারপুর খেয়াঘাটে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ইজারাদার মানছে না জেলা পরিষদের ইজারা প্রথা। হয়রানির শিকার হাজার হাজার নারী-পুরুষের ভোগান্তীর কথা জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল খেয়াঘাটে গিয়ে ইজারাদারকে আইন মেনে টাকা আদায় করার নির্দেশ দিয়ে আসলেও পূর্বের ন্যায় চলায় চরম ভোগান্তীতে দুই পারের লক্ষাধীক জনগন। জানা যায়, সম্প্রতি বরিশাল জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ বাবুগঞ্জ উপজেলার রাজগুরু খেয়াঘাট ইজারার জন্য দরপত্র আহবান করে। ওই খেয়াঘাটের দীর্ঘদিনের ইজারাদার গোলাম রসুলকে হটিয়ে গোপন আতাত করে জনৈক মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি ঘাটের ইজারা নেন মোটা অংকের ইজারা মূল্য দিয়ে। কিন্তু ওই মোটা অংকের ইজারার খেসারত টানতে শুরু করে দিয়েছে খেয়া পারাপারের হাজার হাজার জনগন। জেলা পরিষদ সুত্রে জানা যায়, জনপ্রতি মানুষকে ৩টাকা, সাইকেল (একটি) ২ টাকা, মোটরসাইকেল (একটি) ৯টাকা, রিকসা/ভ্যান/ঠেলাগাড়ি ৭টাকা, গরু/ মহিষ ৭টাকা, ছাগল ৩টাকা মালামাল (১৫ কেজির উপরে) ২০ পয়সা, সিমেন্ট/সার/ চালের বস্তা ৫টাকা, হাঁস/মুরগি (খাচা ভর্তি) ৫টাকা আদায়ে নিয়ম বেঁধে দেয়। কিন্তু তার একটিও মানছে না ইজারাদার। প্রতিজন মানুষের কাছ থেকে ৩টাকার স্থলে ৫টাকা ও সামান্য কিছু মালামাল নিলেই তাদের কাছ থেকে ২০/২৫টাকা নেয়া হচ্ছে জোড়পূর্বক। একটি হাঁস, মুরগি অথবা বাজার থেকে মাছ কিনে খেয়ায় উঠলেই টাকা হাকিয়ে বসে ইজারাদারের বাহিনী। এদিকে, ইজারাদার মোশাররফ হোসেনের খেয়া দেয়ার জন্য নিজস্ব কোন ট্রলার বা নৌকা না থাকায় ভাড়ায় দুটি ট্রলার মোটা অংকের বিনিময়ে এনে তার ভাড়াও জনগনের কাছ থেকে তোলা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। গত ১ বৈশাখ থেকে শুরু হওয়া নতুন ইজারাদারের জুলুমবাজিতে অসহায় হয়ে গত সপ্তাহে স্থানীয়রা বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি (ইউএনও) সরেজমিনে এসে ইজারাদার ও তার লোকজনকে নিয়মের মধ্যে টাকা আদায়ের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় জানান, কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে জেলা পরিষদকে জানালে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইজারাদারের পার্টনার মো. পলাশ জানান, আগের থেকে ইজারা মূল্য অনেক বেশী, তাই ৩টাকার স্থলে ৫টাকা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন যাত্রীকে রিজার্ভ বলে হয়রানি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে না।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০