November 13, 2018

বাবুগঞ্জে সৌখিন পাখি পালন করে সাবলম্বী যুবক

--- ২১ জুন, ২০১৭

✪আরিফ আহমেদ মুন্না, বাবুগঞ্জ ॥ ছোট বেলায় শখের বশে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতো কিশোর ছেলেটা। বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোরও একটা কারণ ছিল তার। কারণটি হলো পাখি শিকার করা। গাছে গাছে বাগানে বাগানে ঘুরে ঘুরে পাখি ও পাখির বাচ্চা ধরে এনে পালন করা ছিল তার নেশা। এই নেশা থেকেই বর্তমানে পাখি পালন করা এখন তার পেশায় পরিণত হয়েছে।বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের মেঘিয়া গ্রামের নবীন ডাক্তার কবির মাহমুদ রাজ। বাবা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার মুনসুর আলী খান। পাখি পালনের নেশা মাধ্যমিক পাশ করার পর থেকেই।পেশায় একজন নবীন চিকিৎসক হলেও পাশাপাশি পাখি পালন সহপেশা  হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দেশি বিদেশি বিভিন্ন জাতের পাখি নিয়ে ছোট আকারে পাখি পালনের জন্য নিজের বাড়িতেই একটি খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে খামারটি বাণিজ্যিক খামারে পরিণত করেছেন রাজ। এখন তার খামারে দেশি বিদেশি নানা জাতের পাখি রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নবীন ডাক্তার কবির মাহমুদ রাজ মানজমিনকে বলেন, ‘শখের বশে পাখি পালন করা শুরু করি আমি। ২০১৩ সাল থেকে শখের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন শুরু করি। প্রথমে আমি পাঁচ জোড়া বাজরিকা এবং এক জোড়া পকাটেল পাখি নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করি। বর্তমানে আমার খামারে বিভিন্ন প্রজাতির দুইশ এর অধিক পাখি রয়েছে। যার মূল্য তিন লাখ টাকার অধিক।” তিনি জানান, বর্তমানে এই পাখি পালন করে তার বাড়তি আয় হচ্ছে। এখান থেকে তার প্রতি মাসে আনুমানিক ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা আয় হয়। পাখি পালনের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পাখি পালন একটি সৌখিন কাজ। পাখিকে ভালোমত যত্ন না করলে লাভবান হওয়া যায় না। পাখিদের দৈনিক ২-৩ ঘণ্টা পরিচর্যার দরকার হয়। পাখিদের একদিন পর পর খাবার দেওয়ার প্রয়োজন হয় এবং প্রতিদিন পাখির বিষ্ঠা পরিষ্কার করতে হয়। এসব পাখির খাবার এই অঞ্চলে তেমন পাওয়া যায় না। এজন্য দেশের ভিন্ন স্থান যেমন, ঢাকা, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রভৃতি জেলা থেকে পাখির খাবার সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমানে এখান থেকে ঢাকা মোহাম্মদপুরের কাটাবন, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা পাখি কিনতে আসেন।আমার এ খামারে বর্তমানে বাজরিকা, বাজিগার, লাভ বার্ড, প্রিন্স, পকাটেল, কাকাতুয়া, ডাইমন্ড ডাবসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে।” নবীন ডাক্তার কবির মাহমুদ রাজের বাবা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার মুনসুর আলী খান বলেন, “প্রথম প্রথম পাখি পালনকে আমি পছন্দ করতাম না। তারপরে আমি দেখলাম যে পাখি পালন বেশ লাভজনক। তাই আমি আমার ছেলেকে পাখি পালন করতে সাহায্য করি।” বরিশালের বাবুগঞ্জ  উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার খালেদ হোসেন স্বপন জানান, সমাজে অনেক বেকার যুবক আছে। যারা বেকারত্বের দোহাই দিয়ে ঘরে বসে থাকে। কিন্তু রাজ পাখি পালন করে আজ প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে। সে সমাজের একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।#

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০