September 26, 2018

বিশ্ব মা দিবসে সকল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা

--- ১০ মে, ২০১৪

রেশমা ইয়াসমিন ॥ রবিবার বিশ্ব মা দিবস। এই শুভ দিনে সকল মায়ের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।
বহু বছর পুর্বে ইংল্যান্ডে মায়েদের সম্মান জানানোর রীতি প্রচলিত ছিল এবং তা ‘মায়ের জন্য রোববার’ হিসেবে পালন করা হোত। একে আবার মিড লেন্ট সানডে বলা হয় ‘মা’ দিবস পালনের দাবিদার ‘অ্যান মেরি জারভিস’ এর। তিনি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ওয়েবস্টারে ১৮৬৪ সালের ১লা মে তারিখে জন্ম গ্রহণ করেন। এই ভদ্র মহিলা কেবল নিজ মায়ের কথা চিন্তা করে নিজে বিয়ে না করে সব সময় মায়ের কাছাকাছি থাকতেন। সেই প্রিয় মা অ্যানারিস জারভিসের মৃত্যুর পর তিনি তার বন্ধুদের নিয়ে চিঠিপত্র চালাচালির মাধ্যমে মা দিবস প্রতিষ্ঠা করার প্রচারণা চালানো শুরু করেন। শুধু চিঠি পত্রের চালাচালিই নয় মন্ত্রী, ব্যবসায়ী, কংগ্রেস সদস্যসহ সকলের কাছেই তদবীর শুরু করেন । তার অক্লান্ত চেষ্টায় ১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়া, দিনাডেলদিয়া, পেনসিলভেনিয়ায় প্রথম মা দিবস পালিত হয়।

আবার অনেকে মনে করেন অ্যানা জারভিসের পূর্বে এবং ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জুলিয়া ওয়ার্ড হোউই-এর পরে ১৯৮৭ সালের দিকে মেরী টাওলাস সাসসিন নামে একজন স্কুল শিক্ষক মাদার্স ডে উদ্যাপনের আয়োজন করে। ১৯০৪ সালে ফ্রান্স মাদার ডে নিয়ে প্রচারাভিযান শুরু করেন। এরপর তিন বছর পর অ্যানা জারভিস জাতীয় ভাবে মাদার্স ডে পালনের উদ্যোগ নেন। তিনি মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মাদার্স ডে হিসেবে নির্ধারণ করেন। ১৯১০ সালে পূর্ব ভার্জিনিয়াতে সেই দেশের সরকার প্রধান আনুষ্ঠানিক ভাবে মা দিবসের ঘোষণা দেন। ১৯১১ সাল থেকে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই মা দিবস পালিত হয়ে আসছে। আর্ন্তাতিক মা দিবস সংগঠন ১৯১২ সাল থেকে মা দিবস পালন করে আসছে এবং অ্যানা জারভিসকে মাদার্স ডে-র প্রবর্তক হিসেবে ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি, তাঁর মন্ত্রীসভা, কংগ্রেসের সদস্যগন এবং সকল কর্মকর্তার অনুরোধে সাদা ফুল পরিহিত ঘর ভর্তি প্রতিনিধি দল ১৯১৩ সালের মে মাসে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘মা’ দিবস পালনের ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের কল্যাণে ১৯১৪ সালের ৯ মে মাদার্স ডে সর্বপ্রথম জাতীয় স্বীকৃতি পায় এবং পরের বছর তিনি মাদার্স ডে জাতীয় ভাবে পালনের উদ্যোগ নেন। ১৯৪৮ সালে ৮৪ বছর বয়সে মহিয়সী নারী ইহধাম ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নার্সিং হোমের সেই কক্ষটি আজও প্রতিটি মা দিবসে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অজস্র কার্ড আর ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। মিস জারভিসের মায়ের প্রিয় ফুল ছিল কার্নেশন। তাই মায়ের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে মিস জারভিস এ ফুলকে বেঁছে নিয়ে ছিলেন। আজও প্রতি মাদার্স ডে’তে পশ্চিমারা তাই রক্তরাজ (লাল) কার্নেসন ফুল দিয়ে সন্তানেরা জীবিত মাকে এবং শ্বেতশুভ্র (সাদা) কার্নেসন দিয়ে সন্তানেরা মৃত মাকে শ্রদ্ধা জানান।

মা সম্পর্কে আব্রাহাম লিংকন বলেছেন “আমি যা হয়েছি বা যা হতে চাই তার সবটুকুর জন্যই আমি আমার মায়ের কাছে ঋণি। আমার মায়ের প্রার্থনাগুলো সব সময় আমার সঙ্গে সঙ্গে ছিল”। এ বিষয়ে বালজাক বলেছেন “ মায়ের হৃদয় হচ্ছে এক গভীর আশ্রয়, সেখানে আপনি সহজেই খুঁজে পাবেন মমতার সুশীতল ছায়া” এবং জন গে বলেছেন, “মা, মা-ই তার অন্য কোন রূপ নেই।” এ সম্পর্কে আল-হাদিসে আছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহশত্ এবং আল-কোরআনে আছে, যে গর্ভ তোমাকে ধারণ করেছে সে গর্ভধারিণী মায়ের প্রতি কর্তব্য কর ও শ্রদ্ধা নিবেদন কর।

একজন মা দশ মাস দশ দিন পেটে ধারণ করে অবশেষে জন্ম দেয় সন্তান। হাজারো কষ্টে লালন পালন করে সেই সন্তানটিকে আস্তে আস্তে তাকে বড় করে। কেননা মাতৃসত্ত্বা হচ্ছে একজন মায়ের কাছে সবচেয়ে বড় সত্ত্বা। মাতৃত্ব তাই নারীর অহংকার ও গর্ব। সব মায়ের ভালোবাসাই অকৃতিম ও এক। প্রতিটি মানুষের কাছে তার মা তুলনাহীনা ও অনন্যা। সবাই এক বাক্যে বলবে, তার নিজের মায়ের মতো পৃথিবীতে মা দুর্লভ। এই মাকে তুলনা করা যায় সাগরের মতো বিশালতার সঙ্গে। মা কখনও পুরানো হয় না, ঠিক আকাশের মতো। যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয় সবচেয়ে বড় সুখ কিসে? নিশ্চই তার জাবাব হবে মায়ের বুকে। মায়ের কাছে গেলে কখনও অপ্রাপ্তি থাকে না। তাই হয়ত কখনও কখনও প্রাপ্ত বয়স্ক কোন সন্তানও নবজাতকের মতো অসহায় হয়ে যায় মাকে ছাড়া। মায়ের বুক হচ্ছে সন্তানের জন্য নিরাপদ আশ্রয়।

আপনার মা কি বেঁচে আছেন? বেঁচে থাকলে আপনি তাকে কতটা ভালবাসেন, ‘মা’ মারা যাওয়ার আগেই তাঁকে জানতে দিন। বিশ্ব ‘মা’ দিবসে তার প্রতি আলাদা মনোযোগ দিন তাঁকে কিছু একটা উপহার দিন। যে ভাবেই হোক মাকে খুশি রাখার চেষ্টা করুন। তাঁর প্রতি আপনার প্রাণভারা ভালোবাসা তাকে টের পেতে দিন। তাকে বলুন, মা তোমার জন্য আমার ভালোবাসা অন্তহীন। তোমার কারণেই বুঝতে পেরেছি পৃথিবী কত সুন্দর। তুমি আছ বলেই এই প্রকৃতি কি বিষ্ময়কর! কি মধুর! আপনার এই অনুভূতি টুকুই হতে পারে মায়ের শ্রেষ্ঠ উপহার।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০