December 7, 2019

ভিড় বেড়েছে বরিশাল বিআরটিএ’র কার্যালয়ে

--- ২৭ নভেম্বর, ২০১৯

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটির (বরিশাল) কার্যালয়ে ভিড় বেড়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যারয়ের তৃতীয় তলায় বিআরটিএ’র দফতরে প্রতিদিন সকল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপচে পড়া ভিড় লেগেই রয়েছে। আগতের বেশিরভাগই যানবাহনের চালক। এ কার্যালয়ে জনবল সংকট থাকায় চালকের লাইসেন্স সহ গাড়ির যাবতীয় গাড়ির রেজিস্ট্রেশনসহ যাবতীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ভূক্তভোগীদের। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় মাত্র ২টি কক্ষ নিয়ে বিআরটিএ’র কার্যক্রম। সেবা প্রত্যাশীদের অবাধ যাতায়াতের কক্ষ হলো সহকারি পরিচালক মো. আতিক এর কক্ষটি। ঐ কক্ষটিতে অফিস সহকারীসহ অন্যরাও বসেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে প্রায় শতাধিক সেবা প্রত্যাশীকে অপেক্ষমান দেখে গেছে। বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা জানান, নতুন সড়ক আইনে মোটা অংকের জরিমানা ও শাস্তি থেকে বাঁচাতে গাড়ি চালক ও মালিকদের এহেন দৌঁড়ঝাপ দেখা গেছে। সীমিত জনবল দিয়ে যথাযথ সার্ভিস তো দুরে থাক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স দিতে পারছেনা বলে স্বীকার করেন কর্মকর্তারা। আর এ সুযোগে দালালরাও হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চিহ্নিত দালাল সুমন, হারুনসহ অনেকেই বিআরটিএ দপ্তরে কর্মরতদের সাথে সংখ্যতা দেখিয়ে কাজ হাসিল করছেন। এমনকি কর্তব্যরতদেরকে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে রোষানলে রেখে কাজ হাসিলের জন্য চাপ প্রয়োগও করছেন বলে জানিয়েছেন কর্মরতরা। ভূক্তভোগীরা জানান, ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে সিরিয়াল না পেলেও দালালদের মাধ্যমে যারা করাচ্ছেন তারা সকল স্থানেই সিরিয়াল আগে পাচ্ছেন। ফলে প্রায় ১০/১৫ জনের দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সেবা নিতে আসা মানুষরা।
এব্যপারে বরিশাল বিআরটিএ দপ্তরের সহকারি পরিচালক মোঃ আতিক বলেন, দালাল কে আমরা তো চিনিনা তবে নানান পরিচয় দিয়ে অনেকেই আসে সুবিধা নেয়ার জন্য সেক্ষেত্রেও আমরা সিস্টেম ভঙ্গ করিনা। সহকারী পরিচালক বলেন আমাদের জনবল সংকটও রয়েছে যেকারণে যথাযথ নিয়ম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা যেমন ২০টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছে ১২ জন। পাশাপাশি অফিস কক্ষও অপর্যাপ্ত। তিনি জানান বিআরটিএ’র বরিশালের জন্য নতুন জায়গা নির্ধারন হয়েছে। সেখানে ভবন সহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধিন রয়েছেন। বিআরটিএ বরিশাল কার্যালয় সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন প্রায় ৪ শতাধিক আবেদন জমা হয় চালক লাইসেন্স পেতে এবং এরমধ্যে বেশিরভাগই মটরসাইকেল ও থ্রিহুইলার। শিক্ষানবিস চালক লাইসেন্স আবেদনকারী সাব্বির হোসেন বলেন, গত দু’দিন ধরে দীর্ঘক্ষণ সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে ঢুকতে না পেরে ফিরে গেছেন। টেবিলে টেবিলে ভীড় থাকায় দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। এ আবেদনকারী অভিযোগ করেন তিনি বার বার এসে ফিরে গেলেও বাড়তি টাকা দিয়ে দালালদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই। তাকে বাড়তি টাকার কথা বলা হলেও তিনি রাজি না হওয়ায় সিরিয়াল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।
ট্রাফিক বিভাগের মামলা ও জরিমানা বেড়েছে
গত ১০ মাসে বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালিয়ে অবৈধ গাড়ি আটক সহ প্রায় তিন কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) খায়রুল আলম জানান গত ১০ মাসে আটকের তালিকায় মোটরসাইকেলই প্রায় ৮০ শতাংশ। এছাড়াও নিষ্পত্তিকৃত ৩১ হাজার ১৩৬টি মামলায় ২ কোটি ৮৮ লাখ ৬৩৩৮ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ট্রাফিক পুলিশ। তিনি বলেন, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোড় গতিতে আমাদের কাজ চলছে। শীঘ্রই আরো ভালো ফলাফল আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারবো। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারী মাস থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ৬৩৭টি গাড়ি আটক করে ট্রাফিক পুলিশ। এর মধ্যে ৫৩৮টি মোটরসাইকেল, থ্রি হুইলার ২৭টি, বাস ও ট্রাক ৪২টি, ব্যাটারী চালিত অটো ২২টি এবং টমটম ৮টি আটক করা হয়। এর মধ্যে ট্রাফিক অফিসে মামলা নিস্পত্তি করা হয়- মোটরসাইকেল ৪৮৬টি, থ্রি হুইলার ২১টি, বাস ট্রাক ৪১টি এবং ব্যাটারী চালিত অটো ১টি। এছাড়া আটক যানের মধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হয় বাস-ট্রাক ১টি, ব্যাটারী চালিত অটো ২১টি এবং টমটম ৮টি। সর্বমোট ৪৫টি যান আদালতে প্রেরণ করে ট্রাফিক বিভাগ। এছাড়াও অভিযানে আটক ব্যাটারী চালিত রিক্সার ১৪৫টি মোটর, ৫৭৯টি ব্যাটারী, ১টি কাঠের ভ্যান গাড়ি এবং ১৪টি গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করা হয়।

ফেইসবুকে আমরা