November 13, 2018

মাদকের গন্ধে মাতোয়ারা বাবুগঞ্জ

--- ২২ জুন, ২০১৭

মাদকের হাটে পরিনত হয়েছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নতুন হাট এলাকা। বাবুগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী রাকুদিয়া গ্রামের এ অঞ্চলটি এখন মাদকের ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী। নতুন হাটের মাঝখান থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এবং সড়ক ও নৌপথে পাশর্বর্তী উজিরপুর উপজেলার সাথে যুক্ত থাকায় ভৌগলিক সুবিধার কারণেই এখানে বিস্তার ঘটেছে মাদকের। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানে পুলিশ অভিযান চালালেও তার আগেই খবর পেয়ে সটকে পড়ে অপরাধীরা। ফলে নতুন হাট এলাকার মাদক নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ। সরজমিনে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশের তালিকা সূত্রে জানা যায়, রাকুদিয়া গ্রামের ৪ ব্যবসায়ীর একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে নতুন হাট এলাকার মাদক ব্যবসা। এরাই নতুন হাট এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য। সেবনকারীদের হাতে মাদক নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এদের প্রত্যেকের রয়েছে ৪/৫ জন করে বিশ্বস্ত এজেন্ট তথা সরবরাহকারী। মোবাইলে যোগাযোগ করে তারা চাহিদামত পৌঁছে দেয় ইয়াবা। সারাদিন টুকটাক বিক্রি হলেও মূলত বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মূল বেচাকেনা। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নতুন হাট থেকে একদিকে দোয়ারিকা বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু এবং অপরদিকে শিকারপুর মেজর এম.এ জলিল সেতু পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাদকের ওই হাট বসে। দূর-দূরান্ত থেকেও মাদকসেবী ক্রেতারা মোটর সাইকেল নিয়ে এসে ভীড় জমায় নতুন হাটের দুই প্রান্তের ওই দুই সেতুতে। বিকেলে থেকে সন্ধ্যায় দোয়ারিকা ও শিকারপুর সেতুতে ভ্রমনে আসা দর্শনার্থীদের সাথে মিশে যায় মাদকের ক্রেতা-বিক্রেতারা। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছেও তাদের সনাক্ত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাকুদিয়া গ্রামের রাকুদিয়া এলাকার আনিস আকন, সেন্টু তামিদার, কবির ও মিজান নামের ৪ মাদক ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রণ করছে নতুন হাট এলাকার মাদক ব্যবসা। এদের মধ্যে মিজান ওরফে বাবা মিজানকে কয়েকদিন আগে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন বাবুগঞ্জ থানার এস.আই রাসেল মাহমুদ। এসময় তার কাছ থেকে ইয়াবা ও গাঁজাসহ বেশ কিছু পরিমান মাদক উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এর আগেও ওই চিহ্নিত ৪ মাদক ব্যবসায়ী র্যাব ও পুলিশের হাতে কয়েকবার আটক হলেও আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আবার তাদের ব্যবসা শুরু করে। এর সত্যতা স্বীকার করে বাবুগঞ্জ থানার এস.আই রাসেল মাহমুদ আরো জানান, বরিশালের বর্তমান পুলিশ সুপার ও ওসি স্যারের নেতৃত্বে আমরা বাবুগঞ্জ থানা এলাকার মাদক এবং নির্মূলে বদ্ধ পরিকর। এক্ষেত্রে জনগনের সহযোগীতা অন্যতম প্রধান বিষয়। শুধু কথায় নয়, কিছুদিনের মধ্যে কাজেও দেখতে পাবেন বলে চ্যালেঞ্জ করেন চৌকস এ পুলিশ কর্মকর্তা। এদিকে দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান জানান, নতুন হাট এবং মহাসড়কের দুই ব্রিজসহ দেহেরগতি ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা মাদকের ছোবলে আক্রান্ত। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে যুবক ও এলাকাবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধ করার চেষ্টা চলছে। নতুন হাটসহ কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে সচেতন যুবক ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে সন্ত্রাস, নাশকতা ও মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এজন্য প্রশাসনের ভূমিকার দিকে জনগন তাকিয়ে আছে। নতুন হাট এলাকার সন্ত্রাস, নাশকতা ও মাদক প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক মনির আকন জানান, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এখন আমি এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত আমাকে হত্যার হুমকি ও নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। বাবুগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আবদুস সালাম বলেন, ভৌগলিক সুবিধার কারণেই নতুন হাট এলাকায় মাদকের কিছুটা বিস্তার লাভ করেছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ। নতুন হাটসহ থানা এলাকার বিভিন্ন স্পটে সন্ত্রাস আর মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান পরিচালিত হবে বলে তিনি আশস্ত করেন।#

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০