November 14, 2018

মুলাদীতে টিআর কাবিখাসহ পাঁচ প্রকল্পে পিআইও’র হরিলুট প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ॥ ব্যবস্থা নিতে ডিজিকে এমপি টিপু’র চিঠি

--- ১১ ডিসেম্বর, ২০১৫

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা), এতিম অসহায়দের জন্য বরাদ্দ (জিআর) ও ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচী (ইজিপিপি) প্রকল্পে মুলাদী উপজেলায় প্রায় কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে এ সব প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে। ঐ কর্মকর্তার সীমাহীন দুর্নীতির কারণে এসব প্রকল্পে হরিলুটের মহাৎসব অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অনিয়ম ও দূর্নীতিকে সহযোগীতা করার জন্য নিজের শ্যালকসহ তিনজনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়- কোন কাজ না করেই কাবিটা কর্মসূচীর আওতাধীন ১০টি প্রকল্পের অর্থছাড় করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কে.এম নজরুল ইসলাম। তার এ অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট টিপু সুলতান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এমপি নিজেও এই অনিয়ম দূর্ণীতিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন বলে পত্রে উল্লেখ করেন।
অনুসন্ধানকালে জানা যায়- টিআর কর্মসূচীর আওতায় মুলাদীর চরলক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার জামে মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ৪০ হাজার টাকা, কাবিটা প্রকল্পের আওতায় একই ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি বজায়শুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সোলাল প্যানেল স্থাপনে ৪০ হাজার টাকা, টিআর কর্মসূচীর অধীনে পৌরসভার মোল্লাবাজার জামে মসজিদে ২০ হাজার টাকা, ৮নং ওয়ার্ডের মেহেদী হাসানের বাড়ি হতে জিসিআর রাস্তা পর্যন্ত মাটি কাটা বাবদ টিআর থেকে ১ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, এসকল প্রকল্পের কোনোটিতেই সামান্যতম কাজ হয়নি। এমনকি একই স্থানের ভিন্ন নাম ব্যবহার করেও অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে পৌরসভার মোল্লারবাজার জামে মসজিদে সোলার স্থাপন ও মোল্লার বাজার জামে মসজিদে সোলার নাম দিয়ে দু’টি প্রকল্প দেখিয়ে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু মোল্লারবাজারে একটিই জামে মসজিদ রয়েছে। এছাড়া ওই মসজিদটিতে প্রকল্পের অর্থদিয়ে কোনো সোলার স্থাপন করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভূয়া কমিটি গঠন করে পিআইও ওইসব বরাদ্দের অর্থ আত্মসাত করেছেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় ধাপের বিশেষ বরাদ্দের ৫৬টি কাবিটা প্রকল্পের প্রত্যেকটিতেই সোলার স্থাপনে ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০৯টি টিআর প্রকল্পের বেশিরভাগই সোলার স্থাপনে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে কিছু প্রকল্পে সোলার স্থাপন বাবদ ৫০ হাজার টাকা করেও বরাদ্দ দেয়া হলেও বেশীর ভাগ প্রকল্পেরই কোন কাজ হয়নি। যে সব প্রকল্পে কিছু কাজ হয়েছে তাও ১০-১৫ হাজার টাকার মধ্যে সোলার স্থাপন করে বাকি টাকা পিআইও এবং প্রকল্প সভাপতি ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন। একই ভাবে সংসদ সদস্যর প্রথম পর্যায়ের বরাদ্দের প্রকল্প গুলোর নামেও পিআইও তার সহযোগীদের নিয়ে টাকা লোপাট করেছেন বলে স্থানীয় ওয়ার্কাস পার্টির নেতা-কর্মীরা জানান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শেখ মো. টিপু সুলতান চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান-ডিজিকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পত্র দিয়েছি। অপরদিকে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত জিআর প্রকল্পের ২৫টি খাতে কোন কাজ না করেই ৫০ টন চাল আত্মসাত করেছেন পিআইও নজরুল। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকল্পগুলি যাচাই বাছাই করে এই ৫০ টন চাল আত্মসাতের প্রমান পান।
মুলাদীর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে পিআইও নজরুলের হরিলুট অনেকটা ওপেন সিক্রেট। স্থানীয়রা জানান- পিআইও নজরুল ইসলাম তার নিজ জেলা ফেনী থেকে তার এক শ্যালক ও মুলাদীর দু’যুবককে অফিসের কাজের জন্য নিয়োগ দিয়েছেন। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা তদন্ত করে এ তিনজনের অবৈধ নিয়োগের সত্যতা পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে নয়-ছয় করে টাকা ও মালামাল লুটপাটের জন্য নজরুলকে ঘিরে মূলাদীতে একটি চক্র তৈরী হয়েছে। সেই চক্রের সাথে হিসাব -নিকাশ করে নজরুলের ভাগ ঠিক রাখাই হচ্ছে শ্যালক সহ অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত তিন জনের কাজ। ইতিপূর্বে টাকা আত্মসাতসহ এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য সুনামগঞ্জ দক্ষিণ উপজেলায় চাকুরিরত অবস্থায় নজরুল ইসলামকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল বলে অনুসন্ধান কালে জানাগেছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মুলাদীতে যোগদান করেন। কিন্ত সুনামগঞ্জ থেকে মূলাদী পর্যন্ত এসেও তার দূর্নীতি অনিয়ম কোন অংশে কমেনি। বরং বেড়েছে আরো বেপরোয়া গতিতে। স্থানীয়রা বলছেন- নজরুল অনিয়ম করে কি ভাবে পার পেতে হয় তা রপ্ত করে ফেলেছেন। তাই এখন তার বিরুদ্ধে পাহাড় সমান দূর্নীতির অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কে.এম নজরুল ইসলাম বলেন, একটি মহল সংসদ সদস্যকে ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার চালাচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্ব-স্ব কমিটি রয়েছে। তারাই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বরাদ্ধের টাকা বা মালামাল উত্তোলন করছেন। এখানে আমার আতœসাতের কোন সুযোগ নেই।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০