October 23, 2019

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভরাট হয়ে যাচ্ছে বরিশাল নগরীর খালগুলো

--- ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

কাগজে-কলমে বরিশাল নগরীতে ৪৬টি খাল থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ খালেরই অস্তিত্ব নেই। তিন বছর আগে তত্কালীন জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় কয়েকটি খাল রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিলেও তার কোনো সুফল পাননি নগরবাসী। প্রবহমান খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবৈধ দখল ও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। খালগুলোতে বর্ষায় পানি জমে থাকছে। ফলে খালগুলো থেকে রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে।

৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরে এক সময় প্রবাহমান ছিল অর্ধশত খাল। এসব খাল দিয়ে চলত যাত্রীবাহী গয়না ও বজরা (পুরোনো দিনের বিশেষ নৌযান), পণ্যবাহী নৌকা-ট্রলার। কীর্তনখোলা নদীর জোয়ার-ভাটা এবং নির্মল পরিবেশের কারণে সুখ্যাতি ছিল বরিশালের। খালের নামেও বরিশালের অনেক এলাকার নামকরণ হয়েছে। কিন্তু দখলদারিদের হাতে দখল হতে হতে এখন খাল নেই, রয়ে গেছে শুধু নাম। কলেজ রো’র খাল, ভাটার খাল, জেল খাল, সাগরদী খাল, বটতলা খাল, নাপিতখালী খাল, টিয়াখালী খাল, নথুল্লাবাদ খালসহ নগরীর এসব খাল এখন ইতিহাস। বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও ধারাবাহিকতা রক্ষা না করায় উদ্যোগগুলো সফলতা পায়নি।

বরিশাল মেট্রো পলিটন প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রশাসন বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে কোনো কোনো খালের কিছু অংশ অবৈধ দখলমুক্ত করলেও খালের পুরোনো চেহারা ফিরছে না। এমনকি জোয়ার-ভাটায়ও পানি প্রবাহ হচ্ছে না এসব খালে। খালগুলো দখল-ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছর বর্ষায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। খাল উদ্ধারের নামে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

সচেতন মহল আগামী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যত্ বিনির্মাণে চলতি শুকনো মৌসুমের মধ্যেই খালগুলো পুনঃখনন ও অবৈধ দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানায়। বিভিন্ন সময়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খাল রক্ষায় এগিয়ে আসলেও বাস্তবে এর কোনো সুফল পাওয়া যায় না। প্রতি বছরই দখলদাররা বর্ষা মৌসুমে পরিকল্পনা করে শুকনো মৌসুমে তা বাস্তবায়ন করে। ফলে বছর বছর খালগুলো সংকুচিত হয়ে দখলদারদের বাসা-বাড়িতে রূপ নিয়েছে। অসাধু উপায়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দখলকারীরা ভোগদখল করায় বিভিন্ন অভিযানে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তত্কালীন জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামান স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপকভাবে বরিশালের খাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। সেই সময়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন এনজিও জেলা প্রশাসকের ডাকে সাড়া দিলেও পরবর্তী তিন বছরে তা রক্ষণাবেক্ষণে এগিয়ে আসেনি কেউ।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নির্দেশনায় নগরীর ৪৬টি খাল ও ১০টি পুকুর রক্ষায় পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে বরিশাল পরিবেশবান্ধব নগরীতে পরিণত হবে। পাশাপাশি পর্যটন ও নৌপরিবহনে গুরুত্ব বাড়বে। রোধ হবে নগরীর জলাবদ্ধতা।

ঐ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা বিসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, খালগুলোর সীমানা ম্যাপ অনুযায়ী প্রি-ওয়ার্ক সার্ভে করা হয়েছে এবং ডিজাইন প্রণয়ন করে ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিলেছে। সাড়ে তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের অধীন ১ হাজার ১৭২ কোটি টাকার প্রকল্পটি প্লানিং কমিশনের এবং একনেকের অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা যাবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অর্ধশত এসব খালের অধিকাংশ স্থানেই রয়েছে দখলদারদের দৌরাত্ম্য। বরিশাল নগরীর রূপাতলী বটতলা মোড় মসজিদ সংলগ্ন চক্রবর্তীর খাল ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরুর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সাগরদী খালের দুই পাশে এমনভাবে দখল করা হয়েছে যে বোঝার উপায় নেই এটি খাল ছিল। লাকুটিয়া খালসহ কাজীপাড়া, সাগরদী, টিয়াখালী, জিয়া সড়ক, আমানতগঞ্জ, নবগ্রাম, ভাটার, কাশীপুর, নাপিতের, চাঁদমারী, পলাশপুর খালও ফের ভরাট ও দখল হয়ে যাচ্ছে।
তথ্য সূত্র ঃ দৈনিক ইত্তেফাক

ফেইসবুকে আমরা