September 25, 2018

রাহু মুক্ত হলো বরিশাল মহা নগরী

--- ১৮ অক্টোবর, ২০১৪

লিটন বাশার ॥ দীর্ঘ শোষন নীপিড়নের পর গত শুক্রবার পবিত্র জুম্মার দিনে স্বস্থির নি:স্বাস ফেলেছে বরিশাল মহানগরীর ১০ লাখের বেশী মানুষ। নগরবাসীর গলার কাটার হয়ে বসে থাকা নগর পুলিশের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিটি শেষ পর্যন্ত তার মধূর কর্মস্থল বরিশাল নগরী ছেড়ে যশোর চলে গেছেন। এতে সাধারন মানুষ মনে করছেন তাদের উপর দীর্ঘ দিনের শোষন নীপিড়নের অবসান হবে। মহা নগরীর বাসিন্দারা মহা খুশী নগর পুলিশের শীর্ষ পদে যিনি এসেছেন  তিনি একজন দক্ষ বিচক্ষন চৌকশ পুলিশ কর্তা।
বিদায়ী কর্তা ব্যক্তিটি যে জঞ্জাল তৈরী করে রেখে গেছেন তা দূর করে নয়া পুলিশ কমিশনার শান্তির নগরীতে বরিশালকে রুপ দিবেন এমনটাই আশা  এখানকার শান্তি প্রিয় মানুষের। বিদায়ী কমিশনারের আমলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়েছিল এই মহানগরীর। ঘুষ বানিজ্যে মেতে ছিলেন কোতয়ালী ও কাউনিয়া থানায় কর্মরত পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। এই দু’ থানার ওসি ধরাকে সরা জ্ঞান করেই নগরবাসীর উপর শোষন নীপিড়ন চালিয়েছেন। পুলিশ কমিশনার নিজেই সরাসরি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে যাত্রা, জুয়া, অশ্লীল নৃত্য ও নারী দেহ প্রর্দশনের পাকা ব্যবস্থা করে দেন। জেলা আইন শৃঙ্খলার কমিটির সভায় এ নিয়ে বার বার প্রশ্ন উন্থাপিত হলেও তা কানে তোলেননি পুলিশ কমিশনার মো: শামসুদ্দিন। জেলা প্রশাসন থেকেও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের অশ্লীল কর্মকান্ড বন্ধ করার জন্য পুলিশ কমিশনারকে বলা হয়েছিল। কিন্ত তিনি কাউকে তোয়াক্কা না করেই অব্যাহত ভাবে আরো নতুন নতুন যাত্রা জুয়ার নামে অশ্লীল কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য একের পর এক অনুমতি দিয়ে জুয়ার নগরীতে পরিনত করেন প্রাচ্যের ভেনিস বরিশালকে। যাত্রা- জুয়া সহ অশ্লীল কর্মকান্ড বন্ধের দাবীতে কাশিপুর ও গড়িয়ার পাড়ের ধর্মপ্রান মুসল্লী সহ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রর্দশন করেন। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে কিছুদিনের জন্য যাত্রা জুয়া বন্ধ রাখা হয়। কিন্ত কিছু দিনের ব্যবধানেই আবারোও পুলিশ কমিশনার সামসুদ্দিনের সহায়তায় শুরু হয় যাত্রা জুয়ার নামে অশ্লীল বেহল্লপনা। শেষ বিদায়ের আগেরদিন পর্যন্ত কতটি জুয়ার আসরের অনুমোতি দিয়ে গেছেন সামসুদ্দিন তা বলা মুশকিল। জেলা প্রশাসন ও সুশীল সমাজকে পাশ কাটিয়ে একক সিদ্ধান্তেই সামসুদ্দিন ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হয়ে এ সব অনৈতিক কর্মকান্ডের অনুমতি দেন। যাত্রা – জুয়া ও অশ্লীল নৃত্যের বিরুদ্ধে মুসল্লী ও এলাকাবাসীর সাথে আন্দোলন করায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর খায়রুল মামুন শাহীনকে আটক করে ইয়াবাসহ চালান দেওয়া হয়। বিমান বন্দর থানার ওসি শাহেদুজ্জামান এ অনৈতিক কাজ করতে রাজি না হওয়ায় এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ডিবি পুলিশকে। নিরহ লোককে হয়রানী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারীদের উপর ষড়যন্ত্রমূলক নিপীড়নের স্টীম রোলার চালানোর পাশাপাশি সর্ব মহলের সাথে বিমাতা সুলভ আচরন করে একক রাজত্ব গড়ে তুলেছিলেন সামসুদ্দিন। যেন তিনি একাই এই মহানগরীর মোড়ল আর বাকীরা সব তার প্রজা। আর নিজ বাহিনীর অনুগত সদস্যরা তার লাঠিয়াল হিসাবে ভূমিকা পালন করেছেন। যে কারনে বিদায়ের আগের সময়কাল তিনি অনেকটা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। কোন সামাজিক , সাংস্কৃতিক অনুষ্টানে তাকে আমন্ত্রন না জানিয়ে বয়কট করা হয়। সাংবাদিক ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সামসুদ্দিনের বিরোধ ছিল তুঙ্গে। তিনি তার একক সিদ্ধান্ত এবং অনুগত বাহিনীর দূর্ণীতিবাজ অসৎ কর্মকর্তাদের পরামর্শেই চালিয়েছেন মেট্টোপলিটন এলাকা। প্রতি রাতে ৯/১০ টি ব্যবসা প্রতিষ্টানে চুরির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে চুরি ও ডাকাতি। এ নিয়ে তার মাথা ব্যাথা ছিল না। স্বর্গবাসীকে রক্ষা করে মর্তবাসীকে সাইজ করাই ছিল তার কাজ।
তিনি কাউকে তোয়াক্কা না করেই নিজে ও তার অনুগত বাহিনীকে পরিচালনা করেছেন। বরিশালের জনগনন্দিত মেয়র ও সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর তার শখ জাগে বরিশাল ক্লাবের সভাপতি হওয়ার। কিন্ত ক্লাব সদস্যরা রাজি না হওয়ায় তিনি বরিশাল ক্লাবের মত একটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে রাতের অন্ধকারে দারোগা পুলিশ পাঠিয়ে ক্লাবের কাগজপত্র জব্দ করেন। এ সব কাগজ পত্র পরীক্ষা- নিরীক্ষার নামে অহেতুক হয়রানীর খড়গ নেমে আসে শুধু সামসুদ্দিনকে সভাপতি না করার কারনে। সে দফা ব্যর্থ হলেও নতুন খায়েশ তৈরী হয় তার মধ্যে। তিনি নলছিটির দূর্নীতিবাজ এক কালো বাজারীকে ও নগরীর এক পুলিশ বান্ধব মাতাল ঠিকাদারকে বরিশাল ক্লাবের সদস্য করার জন্য প্রস্তাব দেন। ক্লাবের কর্মকর্তারা রাজি না হওয়ায় ক্লাবের সামনে পুলিশের চেকপোষ্ট বসিয়ে প্রায় অচল করে দিয়েছিলেন বরিশাল ক্লাবকে। এই পুলিশী চৌকিতে নাজেহাল করা হয় ক্লাবের সদস্য এবং দেশ বরন্য সাহসী সাংবাদিক এটিএন বাংলার এ্যাডিশনাল চীফ রিপোর্টার শওকত মিলটন দম্পত্তিকে। এ নিয়ে সামসুদ্দিনকে কোতয়াল অবহিত করে শওকত মিলটন তার ক্ষুরধার লিখনীর মাধ্যমে নানান অসংগতির কথা তুলে ধরেন। কিন্ত কথায় আছে ‘চোরে শোনে না ধর্মের কাহিনী’ । তেমনি শওকত মিলটনের লেখা সহ পুলিশ বিভাগের দূর্নীতি ও শোষন নীপিড়ন নিয়ে যত লেখা লেখি হয়েছে তিনি সবকিছুই উড়িয়ে দিয়েছেন সব ‘ঝুটহ্যায়’ বলে। এ জন্য অবশ্য বিদায়ের আগে তিনি নিজ বাহিনীর এক হাবিলদারের প্রশংসা কুড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। ঐ হাবিলদার বিদায় অনুষ্টানে বক্তৃতা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের চৌদ্দগোষ্টি উদ্ধার করে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন ‘সাংবাদিকরা আমাদের বিরুদ্ধে কি লিখলেন তা কখনো আমলে নিতে না আমাদের কমিশনার স্যার’ যে কারনে আমরা বিনা বাধায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছি! অপ্রিয় হলেও অনেকটা সত্য কথাই বলছেন হাবিলাদার নাঈম। থানার আয় বানিজ্য ভাল হলেই মহোদয় খুশী হতেন। আয় কি ভাবে করলো দারোগা পুলিশ তা তিনি কখনোই জিজ্ঞাস করতেন না। অত্যান্ত দয়ালু এই অধিকর্তার আস্কারায় কাউনিয়া থানার ওসি পাজী মাহবুব হয়ে উঠেছিলেন সবচেয়ে বড় বেপরোয়া। নিরহ মানুষকে ধরে এনে অস্ত্র মামলায় চালান দেওয়া। তার ঘুষ বানিজ্য ও বিএনপিজামায়াতের সাথে আতাত তৈরী করে ভূমিদস্যুদের সুবিধা প্রদানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মুরাদ আহমেদ রিন্টু। যে কারনে ওসি পাজী মাহবুব ক্ষুদ্ধ হন রিন্টুর উপর। তার ছেলেকে আটক করে গাজা সহ চালান দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলে প্রতিবাদ জানায় রিন্টু। এতে ওসি মাহবুব আরো ক্ষুদ্ধ হয়ে কৌশলে রিন্টু ও তার ভাইকে গ্রেফতার করে দু’টি মিথ্যা মামলায় চালান দেয়। এতবড় বীরত্বপূর্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে কাউনিয়া থানার ওসি প্রমান করেন পুলিশের ক্ষমতা কাহাকে বলে। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের যখন এ অবস্থা তখন সাধারন নিরহ মানুষ কেমন ছিল এবং এখন কেমন আছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ওসি পাজী মাহবুবদের এ সব অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে পত্র-পত্রিকায় লিখলে তা কমিশনার সামসুদ্দিন আমলে নিতেন না। তিনি আমলে নিতেন পুলিশ বান্ধব ঠিকাদার, বাজার রোডের এক কালোবাজারী ও নলছিঠির সেই চোরকারবারীর কথা। তারা টাকার বিনিময়ে নগর পুলিশকে নাচিয়েছেন ইচ্ছামত। যাকে যখন সাইজ করা দরকার তা অস্ত্র হোক আর গুলি হোক যে কোন উপায় জেলের ঘানি টানতে হতো। সাধারন নিরহ যে সব মানুষের উপর তারা খড়গ হয়ে চেপে বসেছিলেন সেই সব মানুষ আজ যেন বুক খুলে স্বস্থির নি:স্বাস নিচ্ছেন। নয়া পুলিশ কমিশনার এসব অসংগতি দূর করে সাধারন মানুষের রক্ষক হয়ে পুরনো কর্মস্থলের ন্যায় সুনাম অর্জন করবেন বলে নগরবাসী প্রত্যাশা করছেন।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০