November 13, 2018

শিশিরের মত ঝরে পরে স্মৃতি গুলো —–

--- ১১ এপ্রিল, ২০১৩

লিটন বাশার ॥  যে ছিল আমার স্বপনো চারনী তারে আমি বুঝিতে পারিনি, শুভ ক্ষনে কাছে ডাকিলে লজ্জা আমার ঢাকিতে। তোমরাই আমি পেরেছি সহজে বুঝিতে। কে মোরে ফিরাবে অনাদরে, কে মোরে ডাকিবে কাছে? এ  নিরন্তরও সংশয়ে আর আমি পারিনি বুঝিতি। আমি শুধু তোমাদের পেরেছি বুঝিতে . . .। দিন চলে গেছে তারে খুজেতে খুজিতে… । সে ভাবেই রাজনীতির রাজপুত্র তোফায়েল আহমেদ যখন আপন পর খুজতে খুজতে বহু সময় পার করে দিয়ে এখন জীবন সায়াহেৃ এসে দাড়িয়েছেন তখন যেন রবীন্দ্রনাথের সেই গান তার জন্য প্রযোজ্য যে ‘আমার পথে পথে পাথর ছড়ানো…। তাইতো  তোমার বানী বাজে ঝর্ণা ঝড়ানো …। আমার বাশি তোমার হাতে ….। তোমার বানী ফুটাও তাতে… . তাই শুনি তার সুর ,.। তোমার হাওয়া জাগে আমার প্রানে ব্যাথা  লাগে….। তোমার হাতে আমার ঘোড়ার লাগাম……..। ঠিক তেমনি যেন রাজনীতির সেই রাজপুত্র তোফায়েল আহমেদকে এখন অনেকটা অসহায় অবস্থায় রাজনীতির মাঠে মাহবুবুল আলম হানিফ আর সৈয়দ আশরাফের  পাশে দাড়িয়ে থাকে। রাজপথের সহযোদ্ধা জিল্লুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল জলিল বিদায় নিয়েছে চিরতরে। না ফেরার দেশে চলে গেছেন এ রকম অনেকেই। তাই মনটা বেশ বিষন্ন ।

জীবনের শেষ বেলা ভূমিতে দাড়িয়ে রাজনীতির ভবিষ্যতটা যেন ঝাপসা হয়ে উঠেছে। জোড়ালো কন্ঠে নেই সেই শ্লোগান ‘ বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো , সোনার বাংলা মুক্ত করো। তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা- মেঘনা- যমুনা। ‘তুমি কে আমি কে? বাঙালী বাঙালী! অথবা  বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো সোনার বাংলা মুক্ত করো। সেই দৃপ্ত কন্ঠের শ্লোগান দেয়ার জন্য মাইকটি আর তার হাতে নেই। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মতই মায়াবী করুন দৃষ্টিতে তার চাহনি এখন আর রাজপথের সিংহ পুরুষের কথা জানান দেয় না আমাদের। আর উদাস চোখের চাহনী যেন সারা দিনের শেষে শিশিরের মত ঝড়ে পরে স্মৃতি গুলো।
১৯৬৯ এর গণ অর্ভূন্থানের মহা-নায়ক যেন রাজনীরিত খল নায়কদের কাছে আজ ধরাশায়ী। মওদুদ আহমেদ এর মত যদি দল বদল করতেন তা হলে তোফায়েল আহমেদ কত বার মন্ত্রী হতেন কত বার ক্ষমতার স্বাধ পেতেন তা বলা মুশকিল। মধু আর দুধের পিছনে না ছুটে সারাটি জীবনই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আর্দশে অবিচল থাকা মানুষটি আজ চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মিলাতে পারেন না। জীবনের এতটা পথ পাড়ি দিয়ে পথিক যেন আজ বড়ই ক্লান্ত। রাজনীতি চলে গেছে হাইব্রিড আর আমলা ব্যবসায়ী এবং সুবিধাবাদীদের দখলে।

রাজনীতির ভরা যৌবন বলতে ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তোফায়েল আহমেদ এর ভরা যৌবনে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ছিল স্মরনীয়। সেই  দিন গুলি তার সোনার খাচায় রইল না। সেই রঙের নানান দিন গুলি। যে দিন গুলোতি তিনি ছিলেন স্বপ্নের পুরুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব। মাত্র ২৮ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধুকে প্রমান করতে পেরেছিলেন নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা অভিজ্ঞতা সহ নিজের দূরদর্শীতা। আজ ৮২ বছর ছুই ছুই করা তোফায়েল আহমেদ যেন সেই বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছেই বড় অযোগ্য হয়ে উঠেছেন।  ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তোফায়েল আহমেদ ছিলেন রাজনীতিতে আতœীয়করনের অন্যতম বিরোধী ব্যক্তি। কিন্ত সেই তোফায়েলকে এখন ভর করতে হচ্ছে নিজ বংশের উত্তর সুরী সেই আতœীয়দের উপর। হাজারো দিন তোফায়েল আহমেদকে বক্তৃতা করতে শুনিছি ‘রাজনীতিবিদদের প্রধান শত্র“ হচ্ছে আতœীয়-স্বজন। তোফায়েল আহমেদ বলতেন রাজনীতিবিদদের  বদনামের জন্য মূল ভূমিকা পালন করেন আতœীয় স্বজনরা। তোফায়েল আহমেদ এর সেই অগ্নিঝড়া বক্তৃতার সময় তার চারপাশে ঘিরে ছিল  অনেক মধুর মাছি। এরা রাজনীতির বেশে ব্যবসা  বানিজ্য করে কোটিপতি হয়েছেন।  আজ তারা কেউ কাছে নেই। সময় বুঝে তোফায়েল লীগ ছেড়ে এখন হুমায়ন লীগ হয়েছেন। কেউ কেউ বিএনপিতে যোগ দিয়ে এখন কোনঠাসা।  সুযোগ বুঝে কেটে পরেছেন সুযোগ সন্ধানীরা। এখন তার শেষ বয়সে রাজনীতির শেষ ভরসা ভাগ্নে ভোলা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান মনির, ভাইয়ের ছেলে বোরহান উদ্দিন পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম এবং দৌলতখান পৌরসভার মেয়র আলী আযম মুকুল । যদিও শেষ বয়সে আওয়ামী লীগের নাটাইয়ের খেলা বুঝতে পেরে তোফায়েল আহমেদ নিজেই মাঠে নেমে ভাইগ্না– ভাতিজাদের-মেয়র নির্বাচিত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনীতির ঘুড়ি শেষ সময় নিজের আকাশে উড়ানোর চেষ্টা করছেন মাত্র। মেয়র নির্বাচনে রাজনীতির রাজপুত্র তোফায়েল আহমেদ প্রমান করেছেন ‘ তোফালে আহমেদ – তোফায়েল আহমেদই। তাকে বলা হয় নির্বাচন পটু এক রাজনৈতিক নেতা। এ কারনেই ভোলা-৩ আসন ও ব্রাক্ষন বাড়িয়া সহ উপ-নির্বাচন গুলোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে দক্ষতার সাথে প্রমান করেছেন তার নির্বাচনী কৌশলের কাছে বিএনপিকে পরাজিত করে। কিন্ত কথায় আছে সহজ মানুষ সহজ পথে বোঝে না কিছু। যারা পৃথিবীতে আসেন সুন্দরের আলোয় সব কিছু আলোকিত করতে তারাই অন্ধকারের মুখোমুখি বেশী হয়ে থাকেন। তোফায়েল আহমেদ এর রাজনীতির ভবিষ্যত যখন অন্ধকারে দৌড়-ঝাপ দিচ্ছে তখন  হয়তো জীবনের শেষ বেলা ভূমিতে দাড়িয়ে তিনি  বুঝতে পেরেছেন আসল রাজনৈতিক উত্তর সুরী কারা এবং হালুয়া রুটির জন্য তার পিছনে এতদিন ঘুরেছেন কারা। তাই ঘুরে দাড়িয়েছেন এই নেতা। হাতে আর সময় নেই। সবুজের অরণ্য বিদায় নিয়েছে জীবন থেকে। কাল বেলা- কাল পুরুষ শেষ বয়সে রাজনীতির দায়িত্ব তুলে দিচ্ছেন যোগ্য উত্তর সুরীদের হাতে। আর মামার ঐতিহ্য ধরে রাখতে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নিরন্তর ছুটে চলছেন মেয়র মনিরুজ্জামান মনির ও তার দুই মামাতো ভাই। তোফায়েল আহমেদ শত্র“-মিত্রর পার্থক্য বুঝলেন ঠিকই কিন্ত ততক্ষনে তার পথে পথে পাথর নয় কাটা বিছানো সম্পন্ন করে ফেলেছেন নিজ দলের শত্র“রা। নিজের প্রিয় দল ক্ষমতায় অথচ তোফায়েল আহমেদ মন্ত্রী পরিষদে নেই। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদটিও ছাড়তে হয়েছে শেষ বয়সে এসে। পাওয়ার পরিবর্তে হারানোকেই  মেনে নিতে হচ্ছে। চোখের জল কি অবলিলায় ঝরে নাকি মানুষ যখন শিশুর মত হয় তখন ঝরে? কি যে আছে ভবিষ্যতে তা হয়তো উপর আল্লাহ তালায়ই জানেন। রাজনীতির হৃদয়ে রক্তক্ষরন দেখা ছাড়া আর কি করার আছে আমাদের। আমরা শুধু প্রত্যাশা করি ভাল থেকো সুখে থেকো এই ধরনীতে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে তোমার ত্যাগের কথা জাতি মনে রাখবে শ্রদ্ধার সাথে। পাওনি কিছুই কিন্ত দিয়েছো অনেক। যে ভাবে বঙ্গবন্ধু তার বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে বাঙালী জাতির ঋণ শোধ করে গেছেন তেমনি তোমার এই ত্যাগ আমাদের শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় অবিনশ্বর হয়ে থাকবে ইতিহাসের প্রতি পৃষ্ঠায়।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০