November 14, 2019

শিশুর মুটিয়ে যাওয়া!

--- ২৯ এপ্রিল, ২০১৩

রেশমা ইয়াসমিন ॥ শিশু খেতে চায় না। খাওয়া নিয়ে বড্ড যন্ত্রণা করে, এমন কথা তো হরহামেশাই শোনা যায়। কিন্তু এর উল্টো কথাটাও বেশ শোনা যাচ্ছে এখন।
শিশু ফাস্টফুডের ভক্ত হয়ে পড়ছে। বাড়ির তৈরি খাবারের চেয়ে বাইরের খাবারেই বেশি স্বচ্ছন্দ। দেদার খাওয়া শেষে কোমলপানীয় না খেলে যে চলেই না। এতে শিশুর ওজন বেড়ে যাচ্ছে দ্রুত। আর এই অতিরিক্ত ওজন কিন্তু শিশুর জন্য হুমকি।
শিশু মুটিয়ে যাওয়ার অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে বংশগত, কম শারীরিক পরিশ্রম আর অতিরিক্ত খাওয়া উল্লেখযোগ্য। তারপর আছে টেলিভিশন, কম্পিউটার।
টেলিভিশনে চোখ রাখতে রাখতে শিশু খেয়ে ফেলে বেশি। কম্পিউটার গেমে মগ্ন হয়ে থেকেও শিশু খেয়ে চলে। খাওয়াটা বেশি হয়ে যাওয়ার পর শারীরিক পরিশ্রম কিংবা খেলাধুলার তেমন সুযোগ হয় না। তখন শরীরে জমতে থাকে বাড়তি মেদ। যা শিশুকে ঠেলে দেয় অনাকাঙ্খিত সব রোগের দিকে।
অতিরিক্ত ওজন শিশুর রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
শিশু ভুগতে পারে উচ্চ রক্তচাপে।
বাড়তি ওজন এমনকি হৃদরোগ ডেকে আনে।
হাড়ের রোগও দেখা দিতে পারে।
আনেক সময় ডায়াবেটিসেও আক্রান্ত হওয়ার কারণ অতিরিক্ত ওজন। তবে আতঙ্কিত হবেন না। সচেতনতা আর সুষম খাদ্যে শিশু থাকবে নীরোগ। কেমন করে এ পরিস্থিতির মোকাবিলা করবেন।
বাড়ির খাবার খেতে শিশুকে উৎসাহীত করতে হবে, বাড়ির খাবারই আকর্ষণীয় করে পরিবেশন করা যেতে পারে।
ফাস্টফুডের ক্ষতিকর দিকগুলো শিশুকে যেমন বুঝিয়ে বলতে হবে, তেমনি এসব কেনা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
শিশুর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করানো যেতে পারে।
টেলিভিশন কিংবা কম্পিউটার দেখতে দেখতে খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করাতে হবে।
শিশুর শারীরিক পরিশ্রম হয়, এমন খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে হবে।
শিশুকে জোর না করে বুঝিয়ে বলুন, অতিরিক্ত ওজন কেন তার জন্য খারাপ।

ফেইসবুকে আমরা