September 26, 2018

শুধু ওয়ারেসকে ক্লোস করেই কাউনিয়া থানার অপরাধ দমন সম্ভব নয়

--- ৭ মার্চ, ২০১৫

লিটন বাশার ॥ গত শুক্রবার পুলিশ কমিশনারের উপস্থিতিতে বেসরকারী সংস্থার সাথে ভিকটিম সাপোর্ট নিয়ে একটি চুক্তির সচিত্র প্রতিবেদন স্থানীয় দৈনিক গুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। একই দিনে কাউনিয়া থানার এসআই ওয়ারেছ এর নাবালিকা স্ত্রীর উপর নির্যাতন নিয়ে আরো একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। একই প্রতিবেদনে পুলিশ কমিশনারের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসাবে এসআই ওয়ারেস শাস্তি হিসাবে কে তাৎক্ষনিক পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার কথাটি সংবাদে উল্লেখ রয়েছে। ভিকটিম সার্পোট বিষয়ক চুক্তির সময় সেখানে পুলিশের পক্ষে পুলিশ কমিশনারের সামনেই একজন নারী পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চয়ই কারো দৃষ্টি এড়াইনি। কিন্ত যেই পোশাকধারী পুলিশ নিজেই নারী নির্যাতনের সাথে যুক্ত সেই থানার সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারের আরো বেশী ভিতরের খোজ নেওয়া জরুরী বলে আমরা মনে করি। ঐ থানার ওয়ারেস দারোগার স্ত্রী নির্যাতনের আগেও এক কনস্টেবলের স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়েছিল। ছোট্ট একটি থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কেন একের পর এক এ ধরনের অভিযোগ উন্থাপিত হচ্ছে? তার নেপথ্যে অনুসন্ধান করলেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। ঐ থানার বড় বাবু হিসাবে পরিচিত দীর্ঘ দিন যাবৎ ওসি’র চেয়ারটি দখলে রাখা ব্যক্তিটি নিজেই নানান অপকর্মের হোতা। তার দূর্নীতি স্বেচ্ছাচারীতা ও ঘুষ বানিজ্য সহ নানান অনৈতিক কর্মকান্ডের কারনেই সহকর্মীরা জড়িয়ে পড়ছে নানান অপকর্মে। ওসি’র দূর্নিতীতে অধিনস্থরা শুধু ঘুষ বানিজ্যেই উৎসাহী হচ্ছে না তারা ব্যক্তিগত অপরাধের দিকেও ঝুকে পড়ছে।
পুলিশের ইমেজ বলতে যা বুঝায় তা বর্তমান পুলিশ কমিশনার যোগদানের পূর্বেই নিজে খেয়ে দেয়ে চেটে পুটে শেষ করেছেন এই বিতর্কিত ওসি পাজী মাহবুবুর রহমান। গরু চোর খ্যাত এক আওয়ামী লীগ নেতার হাত ধরে ঐ থানার ওসি’র চেয়ারটি দখলের পরই বেপরোয়া হয়ে উঠেন পাজী মাহবুব। ভূমি দস্যূ ভোতা কাজী সহ স্থানীয় ভূমি গ্রাসীদের সাথে সখ্যতার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠে এই ওসি পাজী মাহবুবের । বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে পরিচিত কাউনিয়ার বিএনপি -জামায়াতের সাথে সখ্যতা গড়ে ওসি মাহবুব নিজেই নেমেছিলেন আওয়ামী লীগ নিধনে। সেটি অবশ্য সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর। যে হিরনের মাধ্যমে তিনি ঐ চেয়ারে বসেছেন হিরন মারা যাওয়ার পর রাতারাতি তিনি ভোল পাল্টে তার দলীয় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মারমুখী হয়ে উঠেন। ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন মুরাদ আহমেদ নান্টু ও তার ভাই এমনকি ছেলেকে ওসি মাহবুব অস্ত্র ও মাদক মামলায় ফাসিয়ে দিয়ে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতকে বাড়তি সুযোগ তৈরী করে দিতে কুন্ঠাবোধ করেননি। নগরীর এ নতুন জন বহুল এলাকাটিতে জমির মূল্য বাড়ায় ভূমিদস্যুদের কাছে ওসি মাহবুবের কদর বেড়ে যায় । এ সুযোগটি হাত ছাড়া করেননি পাজী মাহবুব। স্বর্গ বাসীকে খুশী রেখে মর্তবাসীকে সাইজ করার মিশন নিয়ে তিনি মাঠে নামেন। দু’ হাতে কামিয়েছেন বিপুল টাকা। তার অনুগত এসআইদের মধ্যে বহু অপকর্মের হোতা এসআই মুরাদকে বিগত কমিশনারের আমলেই সিটিএসবিতে বদলী করা হয়েছিল। তবে নয়া কমিশনার আসার পর মুরাদ নাকি আরো প্রাইজ পোষ্টিং পেয়েছেন। তিনি নাকি এখন নগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন থানা হিসাবে পরিচিত কোতয়ালী মডেল থানার একজন অন্যতম মডেল দারোগায় রুপ নিয়েছেন। নতুন কর্মস্থলে হত্যা মামলার তদন্ত নিয়েও আদালতে এই গুনধর দারোগার বিরুদ্ধে উঠেছে বহু অপকর্মের অভিযোগ। আর পাজী মাহবুবের অনুগত হয়ে যারা দীর্ঘ দিন থানায় আছেন তাদের মধ্যে ওয়াসে ও মুরাদকে হার মানানো দারোগা হচ্ছেন সেলিম রেজা। মিথ্যা মামলা সাজাতে এই দারোগার কোন বিকল্প নেই। মোবাইল চোরকে জঙ্গী আর নিরহ ব্যাবসায়ীকে ধরে অস্ত্র মামলায় সাজাতে ওসি যোগ্য সিপাহসালা হচ্ছে সেলিম রেজা। ওসি’র ডান হস্ত হিসাবে পরিচিত এই দারোগাই মোটা অংকের বড় অপরাধ গুলো আইনী মারপ্যাচে সম্পাদন করে থাকেন।
যে থানার বড় বাবু থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত মিথ্যার রাজা বনে যান সেখানে সৎ পুলিশ আর ন্যায় বিচার মানুষ আশা করে কি ভাবে। শুধু কি এসআই ওয়ারেস কে ক্লোজ করেই এ অবস্থার অবসান ঘটবে! নাকি কাউনিয়া বাসীকে রাহু মুক্ত করতে হলে অবিলম্বে এই পাজী মাহবুবকে ওসি’র চেয়ার থেকে সরাতে হবে সেই প্রশ্নই এখন নগরীর বিবেকবান মানুষের।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০