November 19, 2018

সাগর জলে ক্ষুধার জ্বালা ———-

--- ১৮ মার্চ, ২০১৩

লিটন বাশার ॥ মানুষ গুলো সব পা -গ – ল হয়ে গিয়েছিল। যার একটি গাড়ী আছে সে ৫টি গাড়ীর মালিক হতে চায়। যার ৫ বাড়ি আছে সে ১০টি বাড়ির মালিক হতে চায়। এ কথা গুলো আমার নয়। সাবেক আইজিপি নূর মোহম্মদ বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার উদ্বোধন করতে এসে ২০০৭ সালে তার দেয়া বক্তৃতায় এ কথা গুলো বলেছিলেন। তখন দেশে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল। নূর মোহম্মদ একজন দক্ষ চৌকশ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এ কথা অস্বীকার করার মত লোকের সংখ্যা খুবই কম। হয়তো এ কারনেই নূর মোহম্মদ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় আইজিপি’র দায়িত্ব সুনামের সাথে পালন করতে সক্ষম হয়েছেন। দক্ষ এ কর্মকর্তা পুলিশের আইজিপির দায়িত্ব পেলেন শেষে রাস্ট্রদূতের পাঠ চুকিয়ে  যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সচিব হিসাবে এখন দেশ গড়ার কাজে নিবেদিত এক প্রান। তৎকালিন আইজিপি নূর মোহম্মদ আমার দৃষ্টিতে চতুর দক্ষ ও সুর্দশন এবং বিচক্ষন একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। সেই কুমিল্লার পুলিশ সুপার থাকা অবস্থা থেকে তাকে চিনতাম। এরপর ডিএমপি’র ডিসি (ট্রাফিক) হিসাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় মাত্র ২/১ বার তার সাথে সামনা সামনি হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।  এরপর অবিভক্ত রাজশাহী রেঞ্জের  ডিআইজি ও বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিনের আইজিপি’র  পদে থেকে শুধু ইতিহাস গড়েননি। গড়েছেন সুখ্যাতি। পুলিশ কে মুকুল ফৌজের বাহিনীর পরিবর্তে সেবাদানকারী প্রতিষ্টানে পরিনত করতে নিরন্তর লড়াই করে গেছেন গর্বিত এ পুলিশ কর্তা। পুলিশ সংস্কার অধ্যাদেশ নিয়ে তিনি যদিও সিভিল আমলাদের বিরোধীতার মুখে পরেছিলেন। ফলে পুলিশকে আরো আধুনিকায়নের কাজটি সম্পন্ন না করার আগেই বিদায়ী স্ব-রাস্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুনের আমলে তাকে চেয়ার ছাড়তে হয়েছে। এখন আবার সিভিল আমলাদের সাথে মিলে মিশেই তাকে কাজ করতে হচ্ছে।

এটা সচিব নূর মোহম্মদকে তেল মারার জন্য কোন রচনা নয়। তার কাছে আমার কোন কাজ নেই। আর এখন তিনি নিশ্চয়ই এতদিনে  আমার নাম ও চেহারা সবই ভূলে গেছেন। আমার মত চুনোপুটি কখনো মেঘনার টিপ ভোলার দ্বীপ আবার কখনো রাজধানীর ফুটপাত পেরিয়ে এখন দক্ষিন বাংলার অবহেলিত এক নগরীর বাসিন্দা আমি। জীবনের এতটা পথ মারিয়ে গেলেও নুর মোহম্মদ, খান সাইদ হাসানদের মত পুুলিশ কর্মকর্তার কাজ কর্ম কথা বার্তা ভূলতে পারিনি। নূর মোহম্মদের সেই বক্তৃতার কথা গুলো অর্ধ যুগ পরও আজো মন ছুয়ে যায়।  নূর মোহম্মদ সেদিনের বক্তৃতায় বিগত চার দলীয় জোট সরকার ও হাওয়া ভবনের দূর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার কন্ঠে বলেছিলেন তার অতীত অভিজ্ঞতা ও নিজের দেখা জানা  তিক্ততায় ভরপুর সত্য কথা গুলো। তিনি বলেছিলে অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়েছিল মানুষ গুলো সব পাগল— হয়ে গিয়েছিল। মানুষ যে পাগলদের মত এ সব আচরন করে পুরো দেশ জাতি কে দূর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত করছে তা পিছনে বসে কেউ দেখছে সে হুশ সম্পদ লোভী পাগলদের নেই। তৎকালিন আইজিপি’র ঐ অনুষ্টানের বক্তৃতায় তিনি উপস্থিত সভ্য সমাজের প্রতি প্রশ্ন করেছিলেন একজন মানুষ কয়টি গাড়ীতে চড়তে পারে? একজন মানুষ কয়টি বাড়িতে বসবাস করতে পারে? সেদিন যেমন এ প্রশ্নের উত্তর আমরা খুজিনি তেমনি আজও আমাদের নৈতিকতা সেই পিছনেই ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। ওয়ান ইলেভেন থেকে শিক্ষা গ্রহনের পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীরা যেন উল্টো কারাগার থেকে দূর্ণীতির প্রশিক্ষন নিয়ে বেড়িয়ে এসেছেন। সমকালিন রাজনীতি থেকে শুরু করে সাধারন নিন্ম বিত্ত পরিবারের মানুষটি পর্যন্ত আমরা এতটাই লোভ লালসায় লিপ্ত হয়ে পরেছি যে পারস্পারিক কলহ  বিবাদ বেড়েই চলছে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায়। মাত্র ৩২ একর জমির জন্য প্রাণ দিয়েছেন নগর সংলগ্ন চরমোনাই ইউনিয়নের বাসিন্দা খসরু পারভেজ । যারাই তাকে হত্যা করে থাকুক না কেন তারাও সম্পদের জন্য পাগল হয়ে গেছে। শুধু খসরু নয়, লোভ লালসার শিকার হয়ে প্রতিদিনই নানান অপরাধ কর্মকান্ড জন্ম হচ্ছে সমাজ ব্যবস্থায়। এক দল ক্ষমতায় থেকে সম্পদশালী  হয়ে উঠতে মরিয়া অপর দলও ক্ষমতার লোভে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে ভয়ংকর এক অগ্নিকুপে। এ সমাজে এখন ভারতের আন্না হাজরের মত  র্নিলোভ মানুষ খুজে পাওয়া মুশকিল। এ যেন ‘এক পায়ে দাড়িয়ে তালগাছ ছাড়িয়ে’ আমরা সকলেই মাথা উচু করার প্রতিযোগিতায় নেমেছি। ঈদুর- দৌড়ের এ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই অফিসের পিয়ন কেরানী পর্যন্ত। যার পিয়নের যোগ্যতা নেই সে ব্যক্তিটিও রাজধানী ঢাকায় একটি বহুতল ভবনের স্বপ্নে বিভোর। আকাশ ছোয়া ভবন নির্মানে বিবেক বিসর্জন কেন , এ যেন জীবনের মায়া ত্যাগ করতেও আমাদের কোন বাধা নেই। বেমালুম আমরা যেন আবারো পাগল হয়ে গেছি। ভূলে গেছি  এ নশ্বর ধরাধামে আমরা কেউ চিরদিন বেচে থাকবো না। এ দুনিয়ার মায়া মমতা ধণ দৌলত অর্থ সম্পদ আর রাজ প্রাসাদ আমাদের সকলেরই ছাড়তে হবে। মাত্র ক’দিন আগে পৃথিবীর মায়া মমতা ত্যাগ করলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুল জলিল এমপি। নওগা থেকে রাজধানী ঢাকা মার্কেন টাইল ব্যাংক আর কত কি, দক্ষ বিচক্ষন এ রাজনীতিবিদ ছিলেন একটি ইতিহাস। কিন্ত দুনিয়ায় তার তো আর থাকা হলো না। এ একজন ভাল মানুষের কথা বললাম। কিন্ত দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া মানুষ সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করতে হয় না । তাই যারা পরপারে চলে গেছেন তাদের সম্পর্কে আমাদের উদাহরন না দিয়ে আমাদেরও চলে যেতে হবে পরপারে। কখন কে কোথায় আমরা দুনিয়া থেকে বিদায় হই সে চিন্তা যদি মাথায় থাকে তাইলে কি আমরা সামান্য কয়টা দিনের ভোগ বিলাসে এত লোভী ও পাপী হিসাবে নিজেদের বিবেক বিসর্জন দিতে পারি। ভাইয়ের হাতে ভাই খুন হয় এ দেশে অহরহ।  পিতার হাতে পুত্র অথবা পুত্রের  হাতে পিতার খুন হওয়ার ঘটনা আমাদের সমাজ সংসারকে কি প্রশ্ন বিদ্ধ করে না। খুনের পাশাপাশি কলহ বিবাদ সমাজ ব্যবস্থাকে অস্থির করে তুলেছে। যার যত বেশী আছে, তার তত আরো বেশী চাই। চাওয়া পাওয়ার এই হিসাব মিলাতে গিয়েই শুধু পারিবারিক কলহ বিবাদ বাড়ছে না । বাড়ছে বিশ্ব জুড়ে অস্থিরতা। সেই বৃটিশ বেনিয়াদের আমল থেকে শুরু করে পৃথিবীর শ্রেষ্ট জীব মানুষ হিসাবে স্রষ্টার ঘোষনাই অমান্য করে বিভক্ত হয়ে নানান রুপ ধারনা করেছি আমরা। আমাদের মধ্যে কেউ আমরা মুসলমান, কেউ বৌদ্ধ্য , কেউ হিন্দু আবার কেউ খ্রীষ্টান হয়ে জাতিগত দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছি। এরপর নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য রাস্ট্রীয় সীমা রেখা তৈরী করে ভৌগলিক বিবেচনায় আমরা বিভেদ হয়েছি। স্বাধীনতা পেয়েও শান্তি নেই। কেউ বাঙালী জাতীয়তাবাদ আবার কেউ বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আছি। সবার উপরে মানুষ সত্য সে কথা ভূলে গেছি। নিজের সুবিধা অনুযায়ী কথা ও কাজ করে স্বার্থ আদায়ের চেষ্টায় আমরা লিপ্ত হয়েছি বিবেক বিসর্জন দিয়ে।  এ যেন ‘ নীতি আছে দূর্ণীতিতে- বিবেক সুইয়া ঘুমায়’ ।

আমাদের মধ্যে যারা ধর্মে বিশ্বাস করেন না নিজেদের নাস্তিক দাবী করেন তারাও সবার উপরে মানুষ সত্য এ ধর্মের কথা ভূলে যান। বিশ্বব্যাপী কিংবা জাতীয় সংকটে ‘মানুষ ধর্মে’ বিশ্বাসী শ্লোগান নিয়ে তারা ঘরে বসে থাকেন। মিয়ানমারে মুসলমানদের উপর নির্দয় অত্যাচার নির্যাতনের সময় তারা মুখে কুলুপ এটে ঘরে বসেছিলেন। আমাদের সরকার বৌদ্ধ্য মন্দিরের হামলার ইস্যু সামাল দিতে ভিয়েতনাম পর্যন্ত সফর করেছেন। অথচ মিয়ানমারের মুসলমানদের বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হয়নি। নারী পুরুষ আর শিশুরা নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বঙ্গোপসাগরের অথৈ জলরাশিতে ঘুরে বেড়িয়েছে। ক্ষুধার জ্বালায় শিশুর কান্না আর গর্ভবতী মায়ের চোখের লোনা জলে আমাদের ‘মানুষ ধর্মের’ সুধীজনদের বা রাজনীতিবিদদের মন গলেনি। কেউ কেউ নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের ভূখন্ডে চোরাই পথে ঢুকে কিংবা বিকল্প পথে মালেশিয়া গমন করতে গিয়ে অথৈ সাগরে ডুবে মরেছেন।  বিশ্ব মোড়লের বিশ্ব বিবেক তখন যেন শুয়ে ঘুমাচ্ছিল। মানবাধিকার সংগঠন গুলোও যেন নাকে তেল ঘুমালো।  কারন জঙ্গীবাদ, আন্তজার্তিক নিরাপত্তার তকমা ঝুলছে এ সব ভিটেহারা মানুষদের বেলায়। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত তাদের সীমান্ত সিলগালা করে দেয়নি  বরং খুলে দিয়ে এক কোটি শরনার্থীকে সেখানে আশ্রয় দিয়েছিল। ৪১ বছর আগে পাক বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনের মুখে আমরা প্রিয় জন্ম ভিটা, গাছপালা, বসত ভিটা ছেড়েছিলাম। পাক আর্মি ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদরদের অত্যাচারে মৃত্যু আমাদের তখন তাড়া করছিল। পাক বাহিনী ঘরে আগুন জ্বালিয়ে আমাদের ভিটামাটি ছাড়া করেছিল। আগুন দমন নীপিড়নের মুখের সেই দৃশ্য যারা দেখেছেন তারা হয়তো বুঝতে পারছেন মিয়ানমারেও ৪১ বছর আগের বাংলাদেশের সেই স্মৃতির পর্দার দৃশ্য ভেসেছে। তাই ছন্নছাড়া মানুষ গুলো অথৈ সাগর জলে ভেসে জীবন বাচাতে হাহাকার করছিল।  বৃদ্ধরা স্মরনে আনতে পারেন সেই ১৯৭১ সালের বর্বরতার কথা। সেদিন মানুষের যে ঢল নেমেছিল কলকাতার যশোর রোডে তা নিয়ে অসংখ্য গানের মধ্যে মৌসুমি ভৌমিকের গানটি আমার আজো প্রান ছুয়ে যায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মহাত্বা গান্ধী শরনার্থী ইস্যু নিয়ে বিশ্ব সফরে বেড়িয়ে বলছিলেন এ সমস্য শুধু ভারত-পাকিস্তানের দ্বি – পাক্ষিক সমস্যা নয়, এটা বিশ্বের সমগ্র মানুষের সমস্যা। যদিও ২০০২ সালে সুর পাল্টে ছিল ভারত সরকারের তারা বাংলা ভাষাভাষি মানুষদের জড়ো করে সীমান্ত থেকে গরু ছাগলের মত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিতে শুরু করলো। নাম হলো পুশ-ব্যাক, পুশ ইন। এক পাশে বিএসএফ আর এক পাশে বিডিআর (বর্তমান বিজিবি)। কেউ কাকে ছাড়ছে না। বাংলা আমায়ের মায়ের ভাষা, বাংলা আমার মুখের ভাষা সেই প্রেম হারালো পশ্চিম বঙ্গ ও বাংলাদেশের দায়িত্ববান মানুষরা। আর অসহায় হয়ে পরলো বাংলায় কথা বলা পশ্চিম বঙ্গের মানুষ গুলো। তখন সুনীল গঙ্গোপাধ্যয় কলকাতার বাড়িতে বসে একটি কবিতা লিখেছিলেন-আজও মনে আছে..

‘গাড়ী বারান্দার নীচে আমরন অনশনে বসে আছে তিন জন শ্রমিক/
আজ তের দিন ধরে ওদের দেখছি!
শীর্ণ মুখে জ্বলজ্বলে চোখ, রুখু দাড়ি, জট-পাকানো চুল/
আধো হেলান দিয়ে বসা, ওদের ঘুম নেই, খালি পেট
তোতো জিভে ঘুম আসে না
ওদের দেখার জন্য ভির জমেনি, ওদের জন্য
মেডিকেল বুলেটিন বেরুবে না…..
‘আমি রাজনীতি – ফিতি বুঝি না! আমি সইতে পারছি না ঐ
তিনজন মানুষের নি:শব্দে বসে থাকা
তোলপাড় করছে আমার বুক….
‘বাড়িতে ফিরে ভাতের থালার সামনে আমার গা
গুলিয়ে উঠে—সারা রাত আমার ঘুম আসে না।

বিবেকবান মানবতার কবি সুনীল জাতিগত বিভেদ ও ভূ খন্ডের সীমা রেখে ভূলে কবিতায় বলেছিলেন তার আক্ষেপের কথা। সেই সুনীল আজ আমাদের মাঝে নেই। নেই মহাত্না গান্ধী। মিয়ানমারের সংকটের সময় বাংলাদেশী লেখকদের মধ্যে আনিসুল হক ছাড়া কারো কলম নাফ নদী আর বঙ্গোপসাগরের অথৈ জলরাশিতে ঘুরে বেড়ানো মানুষের জন্য ঝড় তুলল না। আমরা হতবাক হলাম। নিষ্টুরতম বিবেক যখন বিশ্ব শান্তির শ্লোগানে জঙ্গীবাদ বিরোধী আন্তজার্তিক নিরাপত্তার ধুয়া তুলছে তখন না খেয়ে মরছে দুধের শিশু ও তার মা। রোহিঙ্গারা কে কোন জাতের সে বিচার না করে নারী ও শিশু বিবেচনায় তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের সাহায্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মিয়ানমারের উপরে আন্তাজার্তিক ভাবে চাপ প্রয়োগ ও বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠন গুলো সোচ্চার হল না। সে দিন ভূপেনের সেই বিখ্যাত গানটি মনে পরেছিল। আজও দেশের রাজনৈতিক সংঘাতে ধর্মের নামে রাজনীতির গ্যাড়াকলে পরে ভূপের সেই গান যেন অর্থহীন হয়ে পরে যাচ্ছে   ‘ মানুষ মানুষের জন্য একটু সহানুভূতি কি , মানুষ দেখাতে পারে না ও বন্ধু! মানুষ হয়ে মানুষের প্রতি নির্দয় নিষ্ঠুর আচরন দেখে মনে পরে সেই কবিতা খানার কথা ‘ আমি কুকুর হয়ে মানুষের পায়ের কাছে বসে থাকি, তার ভিতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে……..

সকল জাত কুল ধর্মের উঠে সাধক লালন মানুষের উদ্দেশ্যে গান বেধেছিলেন
কেউ মালা কেউ তসবি গলে তাই বলে কি জাত ভিন্ন বলে/
যাওয়া কিংবা আসার কালে জাতের চিহৃ রয় কারে।
সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/
লালন বলে জাতের কি রুপ দেখলাম না এই নজরে/

এমন মানব সমাজ কবে কি সৃজন হবে? সেই আক্ষেপ নিয়েই সাধক লালন চলে গেছেন। মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেছেন সুনীল। অন্যায়ে বিরুদ্ধে সোচ্চার সাহিত্যের বরপুত্র হুমায়ন আহমেদ আমাদের মাঝে আর বেচে নেই। কি যে হবে ভবিষ্যতে সামান্য জ্ঞানে আমি বলতে পারছি না। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে অজানা শংকা জাগে হয়তো আমার মত অনেক শান্তি প্রিয় মানুষের অথচ আমাদের করার যেন কিছুই নেই।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০