September 26, 2018

সিভিল সার্জণ অফিসের স্টোনো সেলিমের নাটক

--- ১ জুলাই, ২০১৩

বরিশাল টুডে ॥ নগরীর বহুল আলোচিত সাগরদীর সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযানের সাজানো নাটক তৈরি করলেন জেলা সিভিল সার্জন অভিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহমুদ হাসান। আর এ নাটকের নেপথ্যের নায়কের ভুমিকা পালন করেন একই দপ্তরের স্টোন সেলিম। তাদের দু’জনের এ নাটক দেখে হতবাক হন জেলা প্রশাসক, অভিযান পরিচালনাকারী জেলা ম্যাজেস্ট্রেট মোঃ কামরুজ্জামান ও জেলা সিভিল সার্জন নিজেই। ১৫ মিনিটের এ নাটকটির দর্শক ছিলেন বরিশালের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মিরা।

সূত্র মতে, নগরীর বিভিন্ন অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে আবারও উৎকচ বানিজ্যে মেতে উঠেছে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন অভিসের স্টোন মোঃ সেলিম। তাকে সহযোগীতা করছে মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহমুদ হাসান। এই দুুই জনকে ম্যানেজ করতে পারলে ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে স্বাস্থ্য বিভাগের কোন প্রকার অনুমতি পত্র কিংবা ছাড়াপত্র প্রয়োজন হয় না বলে নগরীর একাধিক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের মন্তব্য। কেননা পূর্বের ন্যায় সিভিল সার্জন অফিসের দাপুটে স্টাফ স্টোনো মোঃ সেলিম এখন ওই অবৈধ ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলোজী সেন্টার থেকে মাসোয়ারা নেয় বলে অভিযোগ। আর তাকে সহযোগীতা করার অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহমুদ হাসান’র বিরুদ্ধে। মুলত তিনিই বিভিন্ন অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মোবাইল টিমের অভিযানকালে সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে থাকেন। তার হাতে রয়েছে অসীম ক্ষমতা। কোন কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধ বা কোন কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তার অভিযোগ গুলো ডাঃ মাহমুদ হাসান’র কাছে জমা থাকে। তাই তিনি মোবাইল টিমের পরিচালককে যে যে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযানের জন্য অনুরোধ করবে সে সেন্টার গুলোতেই অভিযান হবে। এ ক্ষমতা তার হাতের মুঠোয় থাকায় এর অপব্যবহারও হচ্ছে বলে দাবী করেছেন নগরীর বৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর মালিকরা। তাই তার দোহাই দিয়ে সহজেই মাসোয়ার আয় করে নেয় স্টেন সেলিম। কর্তাকে ম্যানেজের কথা বলে সেলিম মাসোয়ার নিয়ে থাকে বলে মাসোয়াররা দাতা অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার’র মালিকরা জানান। বিশেষ করে যখন কোন মোবাইল টিম গঠন কিংবা পরিচলানার দিন ক্ষণ ঠিক হয় তখনই সেলিম সিভিল সার্জন অভিসে বসেই মোবাইল কিংবা সরকারী টেলিফোন দিয়ে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের জানিয়ে দেন। সেলিমের ফোন পেয়ে ডায়াগনস্টিক গুলো সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে রাখা হয় অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো। ফলে অভিযানকালে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো বন্ধ থাকে। যেমনটি ঘটেছিলো বহুল আলোচিত নগরীর সাগরদীর সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’র ক্ষেত্রে।
গত ২১ জুন ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিহত হন ডাঃ আরিফুর রহমান। তাকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জিয়াউল হক শাহিনসহ তার সহযোগীরা হত্যা করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। হত্যাকন্ডের পর সম্পাহখানেক মালিক শাহিনসহ তার সহযোগীরা আত্মগোপনে থাকেন। হত্যাকান্ড নিয়ে পুলিশের রহস্য জনক নিরব ভুমিকা থাকায় প্রকাশ্যে চলে আসেন শাহিন। ফের স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমতিবিহীন ওই অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি খুলে রমরমা ব্যবসা শুরু করে দেয়। বিষয়টি জাতীয় ও বরিশালের স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ শামসুল হক জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এটিএম মিজানুর রহমানকে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যপারে ব্যবস্থা নেয়ার নিদের্শ দেন। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবারই ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালনোর জন্য জেলা প্রশাসককে একজন ম্যাজেস্ট্রেট নিয়োগের অনুরোধ জানান সিভিল সার্জন। সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল আলম একজন ম্যাজেস্ট্রেক নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেট মোঃ কামরুজ্জামানের নেতৃত্যে মোবাইল টিম গঠন করা হয়। এ টিমের সদস্য রাখা হয় সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি হিসেবে মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহমুদ হাসানকে। আর স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়।
দুপুরেই মোবাইল টিমটির অভিযানে নামার কথা ছিলো। কিন্তু অভিযানের কথা শুনে সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডাঃ মাহমুদ হাসান’র রহস্য জনকভাবে কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বিকেল অভিযানের সময় নির্ধারণ করা হয়। এ সুযোগে সিভিল সার্জন অফিসের স্টোনো সেলিম তার তৎপতা শুরু করে । সেফা ডায়াগনস্টিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আগে ভাগেই মোবাইল ও সরকারী টেলিফোনের মাধ্যমে সর্তক করে দেয়। সুযোগটি কাজে লাগায় অবৈধ সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকসহ অন্যান্য মালিকরা। বিকেলের আগেই তাদের নিজ নিজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে তারা ঘরে ফিরে যান।

এদিকে মোবাইল টিম অভিযানে নেমেছে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশালের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মিরা বিকেল ৪ টায় আলোচিত সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে জড়ো হন। কিন্তু ডাঃ মাহমুদ হাসান তার ক্ষমতার অপব্যহার করে স্টোন সেলিমকে সহযোগিতা করতে মোবাইল টিম নিয়ে সদর রোড এলাকায় অভিযান শুরু করেন। অভিযান চালাতে গিয়ে অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তালা ঝুলতে দেখা যায়।  মোবাইল টিম পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেট মোঃ কারুজ্জামান এমন চিত্র দেখে হতবাক হন। আরো হতবাক হন বিকেল সাড়ে ৪ টায় সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসে তালা ঝুলতে দেখে। বুঝতে পারেন পুরো বিষয়টি নাটক ছিলো। এ সময় তিনি বলেন, কেউ হয়তো আগে ভাগেই এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের আমাদের অভিযানের বিষয় জানিয়ে ছিলো। সে কারনেই এটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, অপরাধ করে ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রেখে অপরাধীরা পার পাবে না। ওদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোন প্রকার কাগজ পত্র নেই বলে দাবী করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০