November 13, 2018

স্বপ্নের পত্রিকা ছাড়ার আগে বলতে চেয়েছি ভরা থাক স্মৃতি সুধায়

--- ৮ এপ্রিল, ২০১৩

লিটন বাশার ॥

রথ যাত্রায় লোকে লোকারন্য মহা ধুমধাম———
ভক্তেরা লুটায়ে করিয়াছে প্রনাম/
‘পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি’
মূর্তি ভাবে আমি দেব হাসে অর্ন্তযামী।

সত্যিই অন্তিযামীর এ নিদারন খেলায় হয়তো  ইতিহাসের  আরো একটি স্বপ্ন ভঙ্গ হইয়া যাইতেছে। ইতিহাস বলিতে শিক্ষার নগরী প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বরিশালের সংবাদপত্রের সাফল্যের আকাশ হইতে একটি নক্ষত্রের পতনের আশংকার কথা বলিতে চাহিয়াছি। এ উপ-মহাদেশের মধ্যে কলকাতার পরই বরিশালের বাসন্ডা গ্রাম (বর্তমান ঝালকাঠী জেলার অন্তগত) হইতে মুদ্রন যন্ত্রের মাধ্যমে খবরের কাগজ প্রকাশিত হইতে  শুরু করিয়াছিল। পরিমল বাহিনী নামের ঐ পত্রিকার ধারা বাহিকতায় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গনের দৈনিক হিসাবে বিপ্লবী বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখিয়াছি। দেশ স্বাধীন হইবার পর ধীরে ধীরে বহু দলীয় গণতন্ত্রের লেবাসে স্বৈরশাসক ও সামরিক শাসকরা গণমাধ্যমকে তাদের কব্জায় রাখিবার জন্য নানান অশুভ তৎপরতা চালাইয়েছেন। পরে স্বৈরচার আর সামরিক শাসকের হাত ঘুরে গণতন্ত্রের লেবাসে রাজনীতিতে এসেছেন সামরিক আমলা থেকে সিভিল আমলা এমনকি ফুটপাতের ব্যবসায়ী পর্যন্ত। তাহারা শুধু রাজনীতির মধ্যেই এমপি- মন্ত্রী হইয়া নিজেদের খায়েস পূরন করেন নাই। সমাজের দর্পন বা সমাজের চোখ হিসাবে পরিচিত গনমাধ্যমকেও নিজেদের বোগল দাবা করিতে গিয়া রাজনৈতিক দলীয় ক্যাডার অন্ধভক্ত- এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্টানের চাকর – বাকরকে সাংবাদিক সাজাইয়া নিজেদের ব্যবসার প্রসার ঘটাইতেছেন। চরম এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সাংবাদিকতার মত একটি মহান পেশা আজ ধ্বংসের মুখে। আমরা যে সাংবাদিকতার মহান আর্দশ দেখিয়া এই পেশায় নাম লেখাইয়াছিলাম তাহার এখন ত্রাহি মধূসুদন অবস্থা।

ফুলের প্রতি মানুষের পুস্প কাননে যাওয়ার মতই গণমাধ্যমের দরজায় আমি ঠিক লেখক নিমাইয়ের মত ধর্ণা দিয়াছি। বামন হইয়া চাদ ধরিবার আকাশ ছোয়া স্বপ্ন লইয়া  গিয়া ধর্ণা দিয়াছি। সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ পেশার মানুষের বয়স পেয়ে থাকেন খুবই কম। সবকিছু জেনে শুনেই চাদ ধরিবার মতই আকাশ ছোয়া স্বপ্ন লইয়া এ পেশায় যুক্ত হইয়া ছিলাম। এখন গনমাধ্যমের বৈরী আবহাওয়ায় আমার এই নিদারন পরাজয় মানিয়া লইয়া হইতেছে। জীবন যুদ্ধে বার বার মৃত্যুকে আলিঙ্গন করিয়া পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেছি। হয়তো দার্শনিকের সেই কথার মতই ‘ কাজে যে নিষ্ট, ব্যবহারে যে মার্জিত জীবনে তার উন্নতি হবেই’। আমার এ কথায় বিশ্বাস ছিল। চেষ্টা করেছি, কস্ট করেছি অবর্ণনীয়। জীবনে প্রতিষ্টা পেতে নয়, শুধু রুটি রুজির সন্ধানেই প্রাথামিক জীবন যুদ্ধ। স্বর্গের দূত এসে আমাকে কোথা হইতে কোথায় লইয়া আসিয়াছে তাহা ভাবিতে অবাক হই। মাঝে মাঝে এই আমাকে চিনিতে খুব কষ্ট হয়। আমার জন্ম – বেড়ে উঠা আর বর্তমান অবস্থান  ভাবিয়া প্রায়ই হতবাক হই। কথায় আছে ‘হাসতে হাসতে নেশায় জড়াবেন না, নেশা আপনার মুখের হাসি কেড়ে নিয়ে যাবে।’ নেশার হাসিকে পেশায় রুপান্তর করিয়া জীবনের প্রায় সবটাই পিছনে ফালাইয়া আসিয়াছি। আজ বিদায় বিহাগের সুরে বড়ই আফসোস হইতেছে এ জীবন হয়তো  অন্য রকম হইতে পারিতো।  রবীন্দ্রনাথের কবিতার মত ‘সত্য যে কঠিন , কঠিনেরে ভালবাসিলাম।’ রবীন্দ্রনাথের সেই আবেগের ভালবাসার গান আমার হৃদয় তোলপাড় করিয়া দিয়া যাইতেছে।

সখী, ভালোবাসা কারে কয়! সে কি কেবলই যাতনাময় /
সে কি কেবলই চোখের জল? সে কি কেবলই দুখের শ্বাস ?
লোকে তবে করে কী সুখেরই তরে এমন দুখের আশ /
আমার চোখে তো সকলই শোভন,
সকলই নবীন, সকলই বিমল, সুনীল আকাশ, শ্যামল কানন,
বিশদ জোছনা, কুসুম কোমল সকলই আমার মতো /
তারা কেবলই হাসে, কেবলই গায়, হাসিয়া খেলিয়া মরিতে চায়
না জানে বেদন, না জানে রোদন, না জানে সাধের যাতনা যত/
ফুল সে হাসিতে হাসিতে ঝরে, জোছনা হাসিয়া মিলায়ে যায়,
হাসিতে হাসিতে আলোকসাগরে আকাশের তারা তেয়াগে কায় /
আমার মতন সুখী কে আছে। আয় সখী, আয় আমার কাছে

রবীন্দ্রনাথের এ গান শুনিলে হয়তো নিষ্ঠুর পাষানের হৃদয়ও ক্ষনিকের জন্য বিগলিত হইয়া যাইবে। আমার জীবনের বেদনাময় সময়টুকু রবীন্দ্রনাথের আবেগঘন গান গুলো দখল করিয়া প্রান জুড়াইয়া দেয়। কথা ও সুরের মুর্চ্ছনায় এত আবেগঘন ঝংকারে হারাইয়া যাই নিজের অজান্তে প্রকৃতির এক মায়াবী আলোক ছটায়।
রবীন্দ্রনাথের আরো একটি জনপ্রিয় গান রহিয়াছে ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো—তোমার মনের মন্দিরে।
সত্যি বলিতে আমরা যাহারা রাজধানী ঢাকার বাহিরে গণমাধ্যমে কাজ করি তাহারা নামে সাংবাদিক হইলেও জাতে যেন নমসূদ্র। জাতীয় দৈনিকের জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকরাই আমাদের কাছে পীরের মত। তাহারাই তাহাদের মনের মাধুরী মিশাইয়া পত্র-পত্রিকার বাহারী রং দিয়া থাকেন। আমাদের মফস্বলের গুরুত্বপূর্ন খবর অবহেলা আর বঞ্চনার কথা ঠাই পায় না নামী দামী পত্রিকার পাতায়। এটা শুধু গণমাধ্যমের সমস্যা নয়, বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যা। দেশের সবকিছুই ঢাকা কেন্দ্রীক। বিকেন্দ্রীকরনের কথা বলে আমাদের রাজনৈতিক দল গুলো ক্ষমতায় গিয়ে সেই কেন্দ্রমুখী হয়ে থাকতেই ভালবাসেন। বিকেন্দ্রীকরনের সুফর পায় না প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত মানুষ গুলো। অধিকার আদায়ে তাই মানুষ নানান প্রক্রিয়া বাছিয়া লইতে বাধ্য হইতেছে। গনমাধ্যমের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে ঢাকার বাহিরে বিভাগীয় শহর থেকে জেলা শহর পেরিয়ে এখন উপজেলা শহর থেকেও দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হইতেছে। প্রান্তিক ও এলাকা ভিত্তিক কমিউনিটি নিউজ পেপার হিসাবে তাহাকে চিহিৃত করিবার উপায় নাই। অনেকটা নীতিমালা ছাড়াই ইচ্ছা মাফিক রাজনৈতিক দৃষ্টি ভঙ্গির আদলে প্রকাশিত হইতেছে অধিকাংশ দৈনিক পত্রিকা। ইহার মালিকরা আর্থিক ও ব্যবসায়িক এবং রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য এ গণমাধ্যম গুলোকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেন। কিন্ত নিজেরা লাভবান হইলেও সাংবাদিক-কর্মচারীদের বেতন দেন না বলিলেই চলে। তবুও পেশাদার কিছু সাংবাদিক তাহাদের লেখনির মাধ্যমে গরীব দু:খী মানুষের সমস্যার কথা তুলিয়া ধরিয়া সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে রেহাই পাইবার পাশাপাশি নিজেদের মনের ক্ষুধা নিবারন করিয়া থাকেন। কিন্ত বর্তমান বাস্তবতায় মফস্বল শহর হইতে একটি মান সম্মত দৈনিক টিকাইয়া রাখা মুশকিল হইয়া দাড়াইয়েছে। পাঠক চাহিদার অধিক পত্রিকা প্রকাশ। সরকারী বিজ্ঞাপন বন্টনে স্বজন-প্রীতি ও দূর্ণীতি গণমাধ্যমকে অস্থির অবস্থায় ফেলিয়া দিয়াছে। এত উৎকন্ঠার মাঝেও প্রায় সাড়ে বছর পূর্বে বরিশাল হইতে আমরা যে দৈনিকটি প্রকাশের উদ্যগ গ্রহন করিয়াছিলাম তাহার নাম বরিশাল প্রতিদিন। ইহার জন্ম গ্রহন হইতেই আমার হৃদয়ের সাথে মিলিয়া মিশিয়া একাকার হইয়া আছে। হাজারো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করিয়া দৈনিকটি যখন পাঠকের আস্থা অর্জনে সক্ষম হইয়াছে তখনই চরম  আমার পেশাগত জীবনে অমানিশার ঘোর অন্ধকার যেন রাজত্ব গাড়িয়া বসিয়াছে। আমার এই ক্ষুদ্র  জীবন হইতে বরিশাল প্রতিদিন নামের প্রিয় দৈনিকটির সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করিতে হইয়াছে। এখন জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা গনমাধ্যম কর্মীর তকমাটাও বিদায় করা ছাড়া আর কোন উপায়  যেন আমার জানা নাই। দেশের চলমান রাজনৈতিক এ সংকটময় মুহুর্তে নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়। এ জীবনে নতুন  কাউকে আসিবার নিমন্ত্রন জানানো বা কারো মন মন্দিরে এই কুৎসিত কদাচিৎ নামটি লিখাইবার কোন বাসনা এখন আর মনে জাগিতেছে না। মন আর মস্তিকের সাথে লড়াইয়ে হেরে যাওয়া আমি আর আমাকেই এখন আপন ভূবনে নিজের মত করিয়া সাজাইতে পারিতেছি না। ব্যর্থতা প্রতি পদে পদে ভর করিয়া আমার জীবনকে কুয়াশাচ্ছন্ন করিয়া দিয়াছে। কুড়ে মরিতেছে আমার অতৃপ্ত বাসনা গুলো। বহু স্বপ্নে লালিত বরিশাল প্রতিদিনের জন্মদানের ভূমিকা কি আমার আজীবনের পাপ হইলো নাকি সাংবাদিকতা পেশাকে বাছিয়া লওয়াই আমার জীবনের একটি মস্তভূল হইয়াছে তাহাও আজ বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছি না।

এখন আমার ২/১ টা দিন যায় নারে ভাল, শুধুই লাগে গন্ডগোল। মাঝে মধ্যে কংলকের তিলক এসে ভর করে পেশাগত জীবনের উপর।  স্রোতের বিপরীতে চলিতে চলিতে সাংবাদিকতার জীবন সায়াহেৃ আমি ক্লান্ত। সাংবাদিকতার সেই সোনালী দিন গুলো আজ আর নাই। গত বছর ফ্রেবুয়ারী মাস হইতেই এ পেশার সাথে আর যুক্ত না থাকিবার ইচ্ছা পোষন করিয়া ছিলাম । অন্তরের সে বাসনা পূরনে বাধা হইয়া দাড়াইলেন নিকট আতœীয় স্বজন , বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্খীরা।  নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই সেই থেকে কোন রকম দায়সারা ভাবে এখনো এ পেশার সংগে নিজেকে যুক্ত রাখিয়াছি।  নীতি আর্দশ বা পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে এটাকে আর যাই বলা হোক না কেন, সাংবাদিকতা বলা যাইতেছে না। অবশ্য সারাদেশের সাংবাদিকতাই এখন প্রাইভেট সার্ভিসের মত রুটি রুজির জন্য রুটিন ওয়ার্ক হইয়া গিয়াছে। এখানে আর আগের মত নীতি আর্দশ নিয়ে পথ চলিতে হয় না। কর্তার ইচ্ছায় কীর্তন। তাই স্রোতে গা ভাসাইয়া দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় অন্ত খুজিয়া পাইতেছি  না। ‘ আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যে বা, আমি বাধি তার ঘর, আপন করিতে কাদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর’। বেদনার বালুকাবেলায় নতুন করিয়া ঘর বাধিতে গিয়া শুধুই বার বার হোচট খাইয়াছি।  শত চেষ্টা করিয়াও একান্ত আপন বা বিশ্বস্থ হইয়া কখনোই উঠিতে  পারিলাম না । প্রিয় মুখ –  প্রিয় মানুষ, প্রিয় রাজনৈতিক নেতা  যে  রাজনীতির ঘুণাবর্তে এই ভাবে বদলাইয়া যাইতে পারে তাহা হয়তো এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি না হইলে কখনো কল্পনাই করিতে পারিতাম না। জীবনের উপর চলমান ঘটনাগুলোই অনেক সময় সত্যি বলিয়া মনে হইতেছে না।  অকারনে কেন আমাকে চক্ষুসূল হইয়া বিরাগ ভাজনের পাত্রে পরিনত হইতে হইলো তাহাও বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছি না। কেন বার বার আমার পায়ে গোলামীর জিঞ্জির পরাইবার এই আলামত তাহাও বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছি না।  বরিশাল প্রতিদিন নামের দৈনিকটার সাথে আমার জীবনের হুবাহু মিল রহিয়াছে। আমার মতই এ প্রতিষ্টানে সারা বছর হতাশা ভর করিয়া থাকে। তারপরও নানান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রবীন্দ্রনাথের গানের মত ‘ মাঝে মাঝে তবু দেখা পাই’। সে দেখা আর্থিক সংগতির কোন বার্তা বহিয়া আনে না। শুধুই মনের তৃপ্তি মেটায়। আবেগঘন হৃদয়ের ক্ষুধা নিবারন করে নতুন আলোর পথ দেখায়। না খেয়ে থাকার পরও আবার নতুন উদ্যমে শুরু হয় আমাদের পথচলা। কিন্ত সে পথ কখনোই কুসুমস্তীর্ন হয় না। পুরোটাই বন্ধুর পথ। সেখানেও রবীন্দ্র নাথের গানের মত ‘ আমার পথে পথে পাথর বিছানো’। কাটার আঘাতে জর্জরিত বরিশাল প্রতিদিনের হৃদয়ে আজ রক্ত ক্ষরন। পাঠকের সংবাদপত্র শ্লোগান নিয়ে বরিশাল প্রতিদনি নামের দৈনিকটির নিরপেক্ষ ভূমিকায় জন্ম দেওয়া হইলেও স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের দৈনিক হিসাবে এর দৃষ্টিভঙ্গি ও রুপ পরিচিত দখিনের মানুষের কাছে স্পষ্ট। স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের সরকারের গত সারে ৪ বছরে দৈনিকটি মাত্র একটি ক্রোড়পত্র পেয়েছে। তাও আওয়ামী লীগ নয়, বলতে হবে জাসদের মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মহাজোটের তথ্য মন্ত্রী হিসাবে দয়া করেছেন। তখন পর্যন্ত আমি বরিশাল প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক ছিলাম। তাই প্রতিদিন পরিবার মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে কৃতজ্ঞ হইয়াছে তাহার মহানুভবতার কাছে এ কথা অকপটে প্রতিদিনের কর্মীরা স্বীকার করিবেন।  একই সাথে পাঠকদের কাছে কৃতজ্ঞতার সহিত জানাইতে হইতেছে যে  আমাদের পিট দেয়ালে ঠেকিয়া গিয়াছে।  এমন সংকটের মুহুর্তে  ‘কিছুই বলিতে পারিতেছি না বলিয়াই’ নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করিবার অংগ ভঙ্গি হিসাবে বরিশাল টু-ডে নামের নিউজ ওয়েব সাইটে আমার স্বপ্ন ভঙ্গের দু:খ টুকু কমাইবার জন্য সময় ক্ষেপন করিতেছি। আমার এ অক্ষমতার দায়ভার নিশ্চয়ই পাঠকদের নয়। তবু যাহারা কস্ট করিয়া এই উদ্বেগ উৎকন্ঠার কথা জানিবেন এবং নিজেরা সুধরাইয়া আর এই পেশায় আসিবার ঝুকি না লইবেন তাহাদের সর্তক করিতে পারিলেই আমার মনের যন্ত্রনা কিছুটা লাঘব হইবে। পৃথিবী কিছু সত্য আছে যাাহা মিথ্যার চাইতেও  ভয়ংকর। সেই সত্য গুলো আমাদের স্বপ্ন কুড়ে কুড়ে খায়। আমার সংকট এতই প্রকট হইয়া উঠিয়াছে তাহার সিকি ভাগও  আমি আজ বলিতে পারিবো না । আমার মুখে কস্টেব এটে দেওয়া হয়েছে। হাত দু’ টো রাজনীতির শিকলে বাধিয়া দেওয়া হইয়াছে।  তাই আমি এখন  আমরা চোখ বন্ধ করিয়া বাকী জীবনটা কাটাইয়া দিবার সিদ্ধান্ত লইতে বাধ্য হইতেছি।  কারন দেখিবো কিন্ত লেখিবো না, শুনিবো কিন্ত বলিবো না। কারন বোবার শত্র“ নাই। সেই পথই আমি বাছিয়া লইয়াছি। যাহারা  এখনো মনে করেন সাংবাদিকদের অদম্য ক্ষমতা রহিয়াছে তাহারা বোকার স্বর্গে বাস করিতেছেন। ক্ষমতার পালা বদলে সংখ্যালঘু রমনীর মত আমাদের সম্ভ্রম হারাইতে হয়। আমাদের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কানে আমাদের আতœচিৎকারের করুন আর্তনাদ পৌছায় না। নির্বাচিতদের ৬৫ নম্বর কর্মীর বিজয়ী উল্লাস আর কানফাটা শব্দে আমাদের কান্নার শব্দ চাপা পরিয়া যায়। নতুন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অভিষেক যখন হয় আমাদের চোখের লোনা জলে তখন ভবিষ্যের সেই স্বপ্ন গুলো অধোরাই থেকে যাবে এটাইতো স্বাভাবিক। এটাইতো আমাদের নিয়তি। আমাদের ত্যাগ তিতিক্ষা ভালবাসা আর অবদানের কথা জনপ্রতিনিধিরা ভূলিয়া যাইবেন ইহাই হয়তো স্বাভাবিক। তাহা না হইলে এই সময় এ আমলে আমার স্বপ্নের বরিশাল প্রতিদিনের বার্তা সম্পাদককে বিনা অপরাধে কি জেল খাটিতে হয়? প্রতিদিনের ফটো সাংবাদিক লোকমানকে একাধিক মামলায় হয়রানী হইতে হয়!! সেই একই ওসি’র হাতে একের পর এক সাংবাদিক হয়রানীর বিচার চাইতে আমরা আমাদের নগর পিতার কাছে দারস্থ হইয়াছিলাম। সত্যি বলতে তিনি আমাদের ফিরাইয়া  দেন নাই। ওসি কে মাননীয় মেয়র আমাদের সামনেই ফোন করিলেন এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা কোন অভিযোগ আদালতে দাখিল না করিবার জন্য নির্দেশ দিলেন। এরপর আইনজীবির সহকারী জনৈক আনিচ মুহুরীর দায়েরকৃত মিথ্যা অভিযোগকে সত্য প্রমান করে মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হইলো। কোথা হইতে যে কি হইলো তাহা আমি  বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছি না। বুঝিবার কথাও নয়। কারন মুহুরী আনিচ শাসক দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। রাজার নীতি ‘রাজনীতি’ । ইহার মার প্যাচ বুঝিয়া উঠিবার আগেই প্রতিদিনের বার্তা সম্পাদক এম মিরাজ কারাগারে বন্দী হইলো। সেই দিনই লিখিয়াছিলাম এ দৃশ্যটি উপভোগের  পূর্বেই আমার মৃত্যু হওয়াও ভাল ছিল। বিচারের বানী যেখানে নিরবে নিভৃতে কাদে সেখানে আমাদের দু:খ প্রকাশ বা রাগ – বিরাগের সুযোগটি পর্যন্ত রহিলো না।
এই নগরীতে আমার মত একজন মানুষের একটি চিলাকোঠাও নেই। অগ্রজ সাংবাদিক শওকত মিলটনের ভাষায় আমরা হচ্ছি হাসন রাজার লোক। আমাদের ঘর বাড়ি থাকিতে নাই। অন্যের বাড়ি ঘর তৈরী করিয়া  দেওয়াতেই যেন আমাদের  আমাদের সুখ। ইহার মাঝেই নাকি সুখ স্বাচ্ছ্যন্দ খুজিয়া লইতে হইবে।

‘আমরা তো অল্পে খুশি, আমাদের দিন কেটে যায়….’ কিন্ত যাহাদের আনিচ মুহুরীর মত বিশাল বিত্ত বৈভ রহিয়াছে তাহারা তো আমাদের খোলা আকাশের নীচেই ঠেলিয়া দিতে সর্বদা ব্যস্ত। তাহাদের শুধুই চাই চাই। আরো চাই, চাইযে এটা, চাইযে ওটা…….। আমাদের যাহা কিছু আছে তাহা সব কিছু উৎসর্গ করিয়া দিলেও তাহাদের চাওয়া পাওয়ার শেষ হইতেছে। নগর জীবনে তাহাদের চাওয়া-পাওয়ার    ব্যস্ততাকে নিজের চোখে না দেখিবার জন্য ইদানিং সারাক্ষন ভাড়াটিয়া বাসার চার দেয়ালের মধ্যেই বন্দী থাকি। যেন ‘নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছি নিজের মত করে, জাহাজ মাস্তুল ছারখার , আমি আজ রাখতে পারছি না আর কারো কোন আবদার’।  যেখানে অন্যায়ের শিকার হইয়া জেল জুলুম নির্যাতনের মাঝে চলতে হয় আমাদের সভ্য যুগের গনমাধ্যমকে। সেখানে আমি আবার গনমাধ্যম কর্মীদের নেতা! এ পরিচয় দিতেও এখন লজ্জা বোধ করিতেছি। শুধু লজ্জা পাইলেই  চলিবে না। এবার ছাড়িতে হইবে এ পেশা নয়তো এই প্রিয় নগরী। দালালের আলখেল্লায় ভরপুর এ নগর জীবনের এখন পুরোটাই আমার বৈরী আবহাওয়া। উল্টো স্রোত। আমি স্রোতের সাথে গা ভাসাইয়া চলিতে চেস্টা করিতেছি কিন্ত সেখানেও  ব্যর্থতার চাদর এসে মুরিয়ে দিচেছ আগামীর পথচলা। জনপ্রতিনিধিরা ক্ষমতার সময় তাহাদের চারিপাশে থাকা চাটুকার কিছু সুবিধাবাদী চরিত্রের বাহিরে কিছুই ভাবিতে পারেন না এটাই হইতেছে চরম একটি সত্য এবং জাতীয় জীবনের বড়ই দু:ভাগ্যের কথা।  আর এই জন্যই হয়তো প্রতি পদে পদে ব্যর্থতাকে আলিঙ্গন করিতে গিয়ে আমাদের মত মানুষদের সভ্য সমাজ গরিবার  অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছা কখনোই সম্ভব হয় না। গোলক ধাধার মাঝে আমি বার বার আমার ভূল গুলো নিখুত দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষনের চেষ্টা করিয়াছি । মানুষ হিসাবে আমার ভূল করা অস্বাভাবিক নহে। তাই নিজেকে সুধরাইবার জন্য পিছানোর ভূলাভোলি ভূলিয়া যাইবার জণ্য সত্য – মিথ্যার মুখোমুখি হইতেও চ্যালেঞ্জ করিয়াছি বহুবার। কিন্ত অদৃশ্য সেই ক্ষমতার শক্তি পুরোটাই রহস্যবৃত। যেন হুমায়ন আহমেদ এর জোৎসনা ধরিতে যাওয়ার মত। হাত ইশারায় ডাকে কিন্ত মুখে বলে না….। সকল অপরাধীর চুল যখন কালো তখন রাতের অন্ধকারে কে কখন দল বা নেতা রদবদল করিলো তাহাতো জানিবার উপায় আমার জানা নাই। অপরাধীর মুখোশ উম্মোচনে প্রতিদিন আপোষহীন লড়াই করিয়া আমি ক্লান্ত।  শুধুই ছন্দ পতনের মত আমি বিদায় লইতেছি ইহা  আমার একান্ত ব্যক্তিগত কারনেই বটে। রবীন্দ্রনাথের ভারত তীর্থ কবির একটি পক্ততি

দিবে আর নিবে,
মিলাবে মিলিবে, যাবে না ফিরে’।
না আমাকে ফিরে যেতেই হচ্ছে ‘ যে মধু বিকালে হারায়/
কভু সে ফিরে আসে না হায়!

বিদায়ের আগে বলতে চেয়েছিলাম ভরা থাক স্মৃতি সুধায়। বরিশাল প্রতিদিন সহ সকল গনমাধ্যম কর্মীর প্রতি শুভ কামনা রইল। আমার মত সকলেরই জীবন জোড়া দৈন্য নহে। তাহারা নিশ্চয়ই সত্যের সন্ধানে নিরন্তর লড়াইয়ে আপোষহীন ভূমিকায় সাংবাদিকতার মহান পেশার সম্মান টুকু বজায় রাখিবেন। সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদের চরিত্র উম্মোচন করিবেন। এ মুহুর্তে এর বেশী কিছু আশা করা আমার জন্য ভূল।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০