September 25, 2018

হিরন ভাই’র একটা অনুরোধ কি আমরা রক্ষা করতে পারি না!

--- ১০ এপ্রিল, ২০১৫

লিটন বাশার ॥ এই নগরীর ছোট বড় যে কোন আয়োজনের মধ্য মনি হিসাবে হাজির হতেন শওকত হোসেন হিরন তার অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়েই নগর জুড়ে গতকাল অনুষ্টিত হয়েছে নানান কর্মসূচী। যে সোহেল চত্বর ও আওয়ামী লীগ অফিসের প্রান ছিলেন শওকত হোসেন হিরন সেই চত্বরে তার জন্য লোকের ঢল নামলো গতকাল। শুধু হিরন নিজেই অনুপস্থিত থেকে নিরব ব্যাথার মত মানুষের বুকে প্রতিছচ্ছির মত উকি দিলো।
নগর উন্নয়নের এ অগ্রদূত বড় অসময়ে চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে। তার প্রথম প্রয়ান দিবসে মানুষের বুকের হাহাকার বলে দিয়েছে তাকে কতটা মিস করছে এ নগরীর বাসিন্দারা। যিনি নগরবাসীর মনে উন্নয়নের সোপানে পৌছার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছিলেন তিনি নিজেই যেন ইতিহাসের স্বপ্ন ভঙ্গ করে দিয়ে আকস্মিক বিদায় নিয়েছেন। এই নগরীর বাসিন্দাদের সুন্দর পরিবেশে একটু ভাল ভাবে বসবাসের জন্য হিরন ভাই’র প্রচেষ্টার কথা কে না জানে। তিনি নগরীর সড়ক প্রস্তস্থ করন, আধুনিক ফুটপাত নির্মান ও কীর্তনখোলা নদীর তীরকে মনমুগ্ধকর পরিবেশে রুপ দিতে সক্ষম হয়েছেন। বরিশাল ক্লাব সহ বহু আধুনিক স্থাপনা নির্মানে রয়েছে তার দক্ষ হাতের ছাপ। ৫৮ বর্গ কিলোমিটর এই নগরীকে অন্ধকার থেকে আলোকিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সড়কের বিকল বাতির সন্ধানে মেয়র হয়ে নিজেই ছুটে চলেছেন নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। সুন্দরের পূজারী মানুষটি নগরীর প্রানকেন্দ্র বিবি’র পুকুরকে দিয়ে গেছেন আধুনিকতার ছোয়া। পাশেই পাবলিক স্কয়ার নির্মানের মধ্য দিয়ে তরুন প্রজন্মের বিনোদনের ঠিকানা তৈরী করে দিয়েছেন। আধুনিক নগরী গড়ে তোলার জন্য তার নিরন্তর ছুটে চলার দৃশ্য এখনো আমাদে চোখে ভাসে। গভীর রাতে এই নগরীর সিংহ ভাগ মানুষ যখন নিজেকে নিদ্রা দেবীর কোলে সপে দিয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন নগর পিতার চোখে ঘুম নেই। নিজের নিরাপত্তা প্রহরী, পুলিশের প্রটোকল সবকিছু কে উপেক্ষা করে নিজেই গাড়ির চালকের আসনে বসে ছুটতে থাকেন সদর রোডের এ মাথা থেকে ঐ মাথা পর্যন্ত। বালু ভর্তি খোলা ট্রাক দেখলেই তার গতি রোধ করতেন। বলতেন বালুর উপর একটি ত্রেফল দিয়ে ঢেকে যদি এ গুলো আনা নেওয়া করা হয় তাইলে তো আর এত ধুলাবালিতে সব্ নোংরা হতো না। পরবর্তীতে যাতে ট্রাক চালকরা এই সতর্কতাটুকু মেনে বালু পরিবহন করেন সেই পরামর্শ দিতেন। কেউ তা অমান্য করলে পরবর্তীতে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নগরীর স্বার্থে কঠোর মনোভাব দেখাতেন মেয়র হিরন। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন একটি নগরী উপহার দেওয়ার জন্যই এ ভাবে রাতের পর রাত বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন গন মানুষের প্রয়াত নেতা শওকত হোসেন হিরন।  তার এত পরিশ্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য এই নগরবাসীকে তিনি ছোট্ট একটি অনুরোধ করে গেছেন বার বার -বহু বার। ব্যক্তিগত ভাবে লাখ লাখ টাকা ব্যায় করে নগরবাসীকে বিনোদন প্রদানের জন্য মেয়র নাইট কিংবা মেয়র রিক্সাওয়ালা নাইট অথবা মেয়র ওয়াজ মাহফিলে হাজারো মানুষের মাঝে দাড়িয়ে মিনতি করতেন এই নেতা। সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলতেন ‘ আপনাদের প্রতি অনুরোধ আজ থেকে নগরীর যত্র তত্র কেউ আমরা কোন কাগজের টুকরা বা ময়লা আবর্জনা ফেলবো না, প্লিজ আপনারা কথা দেন, ওয়াদা দেন, এই টুকু সামান্য দাবী রাখবেন তো!’ আজ তার মৃত্যুর এক বছর পরও যেন হিরন ভাই’র সেই আহবান আর অনুরোধ এখনো কানে বাজে আমাদের। তার মৃত্যু বার্ষির্কীর দিনে আমরা তাকে যথাযথ ভাবেই পরম শ্রদ্ধা অবনত চিত্তে স্মরন করেছি।
তার রুহেুর মাগফেরাত কামনা করেছি আমাদের হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে। তিনি আর কখনো আমাদের কাছে কিছুই চাইবেন না। আর কোন অনুরোধ বা আহবান আসবে না তার তরফ থেকে। আরো এক বছর আগে তার জীবনের সকল লেনদেন ফুরিয়ে গেছে । চিরতরে তার কন্ঠ বাজেয়াপ্ত হয়ে গেছে।  তাকে ঘিরে আমাদের সামনে আজ বাকী আছে শুধু তার আর্দশ।  তিনি যে সুন্দর পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন আমরা কি পারি না সেই স্বপ্ন পূরনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে! আমরা কি পারি না তার বিনয়ী কন্ঠে যে অনুরোধ টুকু  করে গেছেন তা রক্ষা করতে! হিরন ভাই’র দাবীর প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে আমরা আর কখনোই কোন কাগজের টুকরো বা ময়লা আবর্জনা নগরীর যত্র তত্র ফেলবো না। এই সামান্য কাজটুকু করতে আমাদের কোন আর্থিক ক্ষতি হবে না। হবে না কোন বাড়তি পরিশ্রম। যখনই আমরা হাতে থাকা কাগজের টুকরো গুলো সড়কে ফেলতে যাবো তখনই যেন হিরন ভাই’র চেহারাটা আমাদের সামনে ভেসে উঠে। তার অনুরোধ টুকু যেন আমাদের কানে বেজে উঠে। এই টুকু  স্মরনে রেখে আমরা যদি এই নগরীতে বাস করি তাইলে প্রয়াত হিরন ভাই’র দাবী রক্ষা করার পাশাপাশি আমাদের উপকার ছাড়া আর কোন ক্ষতি নেই।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০