July 22, 2017

বরিশালে শত কোটি টাকার ভূমিগ্রাসি মিশনে মোল্লাবাহিনী

--- ৭ আগস্ট, ২০১৩

news-barisal-today

বরিশাল টুডে ॥ বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদে শতকোটি টাকার ভূমিগ্রাসি মিশনে নেমেছে মোল্লা বাহিনী ও একটি বেসকারি টেলিভিশন চ্যানেলের চেয়ারম্যান। এ মিশন সফল করতে এই ভুমিগ্রাসি প্রতারক চক্র নগরীর প্রতাপশালী মহলে বিপুল পরিমানে অর্থ ঢেলেছেন। এ ঘটনায় গত কয়েকদিন যাবৎ ওই এলাকায় ভুমিদস্যুদের সাথে মালিক পক্ষের উত্তেজনা চলছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। বেসকারি টিভি চ্যানেল মাই টিভি এঘটনায় বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রচার করলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথির বিচারের দাবী জানানো হয়।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, নথুল্লাবাদ মৌজার ৫৫০, ৫৫২ খতিয়ানের ১২৪৭, ১২৪৮ ও ১২৫৯ নং দাগের ৩ একর ৩৭ শতাংশ জমি রয়েছে। যা দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখল করে আসছেন কাশিপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আলী হোসেন হাওলাদার।  

সম্প্রতি ওই জমির দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় লোলুপ দৃষ্টি পড়ে ভুমিদস্যু মোল্লা বাহিনী। জোর পুর্বক জমি দখল নিয়ে একাধিকবার বিক্রির চেস্টা চালায় তারা। কিন্তু আইনী জটিলতা থাকায় প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়েছেন। সর্বশেষ জমি বিক্রি করতে না পেরে মাই টিভির চেয়ারম্যানের সরনাপন্ন হন। কিছুদিন পর প্রকাশ পায় মাই টিভি চেয়ারম্যান এ জমি মোল্লা বাহিনীর কাছ থেকে ক্রয় করেছেন।
পরে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ওই সম্পত্তি মোল্ল¬া বাহিনীর সহযোগিতায় দখল করে ‘মাই টিভি’ ও ‘হেলথ কেয়ার’ নামে দুটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ঘটনায় বরিশাল বিমান বন্দর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী ও এডিএম কোর্টে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন জমির মালিক মোঃ আলী হোসেন হাওলাদার।

স্থানীয় একাধিক সুত্র জানিয়েছেন, ভুমিদস্যুদের কবলে পড়া ওই জমির মূল্য কমপক্ষে শত কোটি টাকা। ভূমিদস্যু চক্রের হোতা মোল্লাবাহিনীর লিয়াকত মোল্লা ও শওকত মোল্লা একই জমি বিভিন্ন লোকের নিকট বিক্রি করে কোটি টাকার বাণিজ্য করছে। মা আছিয়া খাতুনের নামে ডিক্রি দেখিয়ে জাল দলিল বানিয়ে এই প্রতারণা করা হচ্ছে। ওই ভুমিদস্যুদের যন্ত্রনায় নাকাল হয়ে পড়েছেন ক্রয়সূত্রে জমির মালিক আলী হোসেন হাওলাদার। চক্রটি জমির মালিকানা দাবী করে মাই টিভির মালিক সাথী, এসএইচ সাইফুল্লাহ, আফতাব হোসেন, সুমন হাওলাদারসহ কমপক্ষে ১০জনের নিকট জমি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়া সাথী ১২৪৮ নং দাগের ১ একর ১১ শতাংশ জমি তার দখলে নিয়ে নেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিরোধ পুর্ণ এ সম্পত্তিতে মাই টিভির লোগো সংবলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। মালিকানার কোনো প্রমাণ না দেখিয়ে জমি দখলে নেয়ায় বৈধ মালিক দাবিকারী আলী হোসেন হাওরাদারসহ স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রতারক চক্রটি উচ্চাদালতের আদেশ-নিষেধের তোয়াক্কা না করায় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানায়, জমির বৈধ মালিক ছিলেন মৃত মোহনী রঞ্জন। তিনি ১৯৫৬-১৯৫৭ সালের ৩০০ নং কেসের রায়ে  জমি বিক্রির (সেল পারমিশন) অনুমতি পান। বিক্রির অনুমোদন লাভের পর তার নিকট হতে ১৯৫৮-১৯৫৯ সালের কেটি কেস নং ২৭৪ এর মাধ্যমে আদম আলী হাজী ৪ একর ৪৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। দলিল নং ৯০৫।

আদম আলী হাজীর মৃত্যুর পর তার পুত্রবধূ রাবেয়া আলীর ও নাজমা সুলতানা গংদের নিকট হতে ২০১১ সালের ৩ জানুয়ারি ১৬ একর জমি ক্রয় করেন আলী হোসেন হাওলাদার। তিনি বলেন, মোল্লাবাহিনী বা অন্য কেউ যদি জমির মালিকানার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন তাহলে আদালতে গিয়ে নিদাবী ঘোষণা দেবো।
শুধু একটি জমি নয় মোল্লা বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের অর্ধকোটি টাকার জমি দখল করার অভিযোগ।

এবিষয়ে মোল্লা বাহিনীর লিয়াকত মোল্লা বলেন, এ জমি তার মায়ের, তাই মাই টিভির চেয়ারম্যানের কাছে বিক্রি করেছেন। তবে জমির বৈধ কাগজ পত্র দেখতে চাইলে তিনি জানান, সব মাই টিভির চেয়ারম্যানকে দেয়া হয়েছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১