July 22, 2017

ঈদকে কেন্দ্র করে কাউনিয়া থানা পুলিশের চাঁদাবাজী

--- ৭ আগস্ট, ২০১৩

বরিশাল টুডে ॥ কাউনিয়ার থানার সেই আলোচিত ৩ এএসআই সহ এক এসআই মঙ্গলবার নগরীর ভাটিখানায় মুরাদ নামে এক ব্যবসায়ীকে আকষ্মিক পুলিশের পিকআপ ভ্যান এসে তুলে নিয়ে যায়। অহেতুক আটক কওে ঐ ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করে গভীর রাত পর্যন্ত তার  পরিবার ১৩ হাজার টাকায় দর কষাকষি করে কাউনিয়া থানা থেকে মুরাদকে ছাড়িয়ে নেয়। পরে সকালে মুরাদের মা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে গিয়ে ৪ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। ফলে হইচই পড়ে যায় পুলিশ বিভাগে। 

বিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার ওই ৪ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা স্বীকার করলেও পরে তা ধামাচাপা দেয়ার জন্য পুলিশের সব বিভাগ থেকে গুজব বলে চালিয়ে দেয়া হয়। ঘটনার শিকার মুরাদের ভাই মোঃ স্বপণ জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ তার ছোট ভাইকে ধরে নিয়ে যায়। রাতে কাউনিয়া থানায় ৪ পুলিশ মিলে নির্যাতন করেন তার উপর। নির্যাতনকারী এ চার পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, কাউনিয়া থানার এসআই মুরাদ, এএসআই বশির, এএসআই রতন ও এএসআই জসিম। এক পর্যায়ে ওই চার পুলিশ তাদেরকে ফোন দিয়ে টাকা নিয়ে আসতে বলে।

পরে গভীর রাত পর্যন্ত দর কষাকষি করে ১৩ হাজার টাকার বিনিময় মুরাদকে ছেড়ে দেয়। জানা গেছে, মুরাদের মা সীলা বেগম গতকাল বুধবার সকালে পুলিশ কমিশনারের কাছে গিয়ে সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন। অভিযোগের ভিত্তিতে চার পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মুরাদ, এএসআই বশির, এএসআই রতন ও এএসআই জসিমকে কোজড এর সিদ্ধান্ত নেয় বিএমপি। এ ঘটনায় তোলপাড় ঘটে পুলিশ বিভাগে। এক পর্যায়ে ওই চার পুলিশ মুরাদের বাসায় গিয়ে টাকা ফেরত দিয়ে আসেন এবং ঘটনা প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এটিএম মোজাহিদুল ইসলাম ৪ পুলিশ কর্মকর্তার রিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্তদের কোজড করা হচ্ছে বলে শুনেছি। বিষয়টা হয়তো যাচাই বাছাই হচ্ছে। কাউনিয়া থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, এক পরিবার থেকে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে  কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।

এ ব্যাপারে পুলিশ কমিশনার মোঃ শামসুদ্দিন জানান, এমন কোন ঘটনা তার জানা নেই। এ গুলো সব গুজব। তিনি ওই ঘটনায় বেমালুম অস্বীকার করেন।

কাউনিয়া থানার একাধিক বাসিন্দা জানান এ থানার এএসআই বশির, রতন ও জসিম একাধিক বার সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে টাকা আদায় করলেও তা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হলেও কোনো প্রতিকার পাননি। তারা নানান ভাবে এ থানার মানুষদের হয়রানী করলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। বিভিন্ন সময় এ পুলিশ সদস্যরা বিয়ে বাড়িয়ে হানা দিয়ে টাকা আদায় সহ মোটর সাইকেল থামিয়ে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় টাকা আদায় করে আসছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১