July 22, 2017

৫ দিনে শেরেবাংলায় ৩৫ রোগীর মৃত্যু

--- ১১ আগস্ট, ২০১৩

news-barisal-today-sbmc

জে. খান স্বপন ॥ ঈদের ছুটি কাটেনি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩ পরিচালকসহ ৫ শতাধীক চিকিৎসক-নার্স ও কর্মকতা-কর্মচারীরা। সীমাহীন দূর্ভোগের মুখমুখি হতে হয়েছে রোগীদের। গত ৫ দিনে মারা গেছেন ৩৫ রোগী। প্রাপ্ত সেবা না পেয়ে সরকারী এ হাসপাতাল ছেড়ে ক্লিনিকে চলে গেছেন শতাধীক রোগী। আর সেবা দিতে না পেড়ে ওই ৫দিনে হাসপাতাল থেকে সাড়ে ৫শ’র রোগীর নাম কেটে দেয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসক বা নার্সের অভাবে এ মৃত্যু ঘটেনি বলে দাবী করেছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ মুঃ কামরুল হাসান সেলিম।  

ঈদের ছুটিতে দক্ষিনাঞ্চলের নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র শেবাচিম হাসপাতালের বৃহৎ অংশের চিকিৎসক ও নার্স ঈদের আগে থেকেই ছুটিতে রয়েছেন। ঈদের ছুটি শেষ হলেও গতকাল যোগদান করেননি অধিকাংশ চিকিৎসক-নার্স। রোববার ছিলো ছুটির শেষ দিন। কিন্তু ছুটিতে যাওয়া অধিকাংশ নার্স ও রেজিস্টার, সহরকারী রেজিস্টার, মেডিকেল অফিসার এবং ইন্টানী ডাক্তার কর্মস্থলে আসেন নি। সরকারী দপ্তর গুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ঈদের ছুটি থাকলেও বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার আর নার্সরা মঙ্গলবার থেকেই ঈদের ছুটি ভোগ করতে শুরু করেন। রোববার বেতন-বোনার্স পেয়েই তারা ছুটিতে যাওয়ার প্রস্তুতি হাতে নেয়। তাই সোম, মঙ্গল ও বুধবার সকল অস্ত্রপচার বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছিলো।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বুধবার হাসপাতালে মোট রোগী ছিলে ৭৩৭ জন। ওই দিন ৪ শিশুসহ ১০ রোগী মারা যান। ৭ আগষ্ট অনুপস্থিত চিকিৎসক ছিলেন শতাধিক। একই ভাবে নার্স অনপস্থিত ছিলেন ৬৫ জন।

এদিকে ঈদের আগ দিন, ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন এবং গতকাল ১১ আগষ্ট পর্যন্ত হাসপাতালের ৩ পরিচালকসহ ৫ শতাধীক চিকিৎসক-নার্স ও কর্মকতা-কর্মচারীরা অনুপস্থিত। এর মধ্যে হাসপাতালের পরিচালক ও দুই সহকারী পরিচালক অনুপস্থিত আছেন এখন পর্যন্ত। তাই হাসপাতালটি গত কয়েক দিন ধরে তত্তবধায়ন করছেন বরিশালের বাসিন্দা উপ-পরিচালক  ডাঃ মুঃ কামরুল হাসান সেলিম।

শেবাচিমের আউটডোরের অধিকাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে আসেননি। আর যারা এসেছেন তারা কর্মস্থলে যোগদান করেছেন বেলা ১২ টার পর। ঈদের ছুটি চরম বিপাকে পরতে হয়েছে হাসপাতালের ইনডোর (আন্ত) বিভাগের শত শত রোগী। গতকালসহ গত চার দিন ধরে অনুপস্থিত আছেন ২৬ রেজিস্ট্রারের ২০জনই। একই ভাবে ওই চার দিন ৪৭ জন সহকারী রেজিস্টারের মধ্যে কর্মস্থলে ছিলেন ৯ জন। পাশাপাশি ৩৮ জন আইএমও (ইনডোর মেডিকেল অফিসার) এর মধ্যে ২০ জনই। হাসপাতালে সাবক্ষিণ চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ১৯৬ ইন্টানী ডাক্তারের মধ্যে মাত্র ৫০ ইন্টানী ডাক্তার কর্মস্থলে ছিলেন বলে জানাগেছে। সব মিলিয়ে সিনিয়র-জুনিয়রসহ ৩০৭ জন চিকিৎসকের স্থালে  ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলে ছিলেন মাত্র ৯০ চিকিৎসক। সকাল বিকেল ও রাতে ( তিন রোটেশনে)  গড়ে ৩০ জন চিকিৎসক বৃহত্তর এ হাসপালের প্রায় এক হাজার রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদানের দায়িত্ব পালেন করেন। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম বলে দাবী রোগীদের। শেবাচিম হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত নার্সের সংখ্যা ৩শত নার্সের মধ্যে ওই চার দিন অনুপস্থিত ছিলেন ১৭০ নার্স। সাথে অসংখ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে গত ৫ দিনে হাসপাতালে ৪ শিশুসহ ৩৫ রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। মৃত্যু রোগীর স্বজনদের দাবী প্রাপ্ত সেবা না পেয়ে তাদের রোগী মারা গেছেন। একই অভিযোগে সরকারী এ হাসপাতাল ছেড়ে ওই ৫ দিন ক্লিনিকে চলে গেছেন শতাধীক রোগী। আর সেবা দিতে না পেড়ে হাসপাতাল থেকে সাড়ে ৫শ’র রোগীর নাম কেটে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর। গতকালও ছিলো একই চিত্র। তাই ঈদেও ছুটি কাটেনি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকসহ চিকিৎসক ও নার্সদের।

এ ব্যপারে হাসপাতালে উপ-পরিচালক ডাঃ মুঃ কামরুল হাসান সেলিম বলেন, চিকিৎসক বা নার্সের অভাবে এ মৃত্যু ঘটেনি। প্রতিদিনই স্বাভাবিকভাবে গড়ে ৫ থেকে ৬ রোগী মারা যায়। তিনি বলেন, ডাক্তার কিংবা নার্সরা তাদের পাওনা ছুটি কাটাচ্ছেন ঈদ সময়। দুই-এক দিনের মধ্যেই এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি দাবী করেন।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১