July 22, 2017

এবার কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধ শুরু

--- ১১ আগস্ট, ২০১৩

news-barisal-today-biman,-b

আসমা আক্তার ॥ নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে যে যুদ্ধ সপ্তাহখানেক আগে শুরু হয়েছিল ঠিক একইভাবে এবার শুরু হয়েছে কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধ।

একইভাবে টিকিট নিতে যুদ্ধ, লঞ্চে উঠতে যুদ্ধ এবং ডেকে একখন্ড জায়গার জন্য যুদ্ধ।

প্রতিবারের তুলনায় ছুটি কম পেয়েও অনেকেই নিজ বাড়িতে স্বজনদের সাথে ঈদ করতে এসেছেন। তখন বাড়িতে আসা ছিল এক মহা বিড়ম্বনা।

ঈদের ছুটির পর হরতালের বিরম্বনা থেকে মুক্তি পেতে দক্ষিণাঞ্চলের সবাই ছুটছে বিমান, লঞ্চ, বে-ক্রুজ, বাস ও স্টীমার টিকিটের পিছনে। সর্বত্র একই আওয়াজ ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই।

তবে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল বাসার মজুমদার জানিয়েছেন, ১৩-১৪ আগষ্ট হরতাল ঘোষনা করায় ১১-১২ আগষ্ট চাপ বেশি থাকবে বলে আসা করছি। এ জন্য ঢাকা-বরিশালের নিয়মিত ৪টি লঞ্চের সাথে স্পেশাল সার্ভিসের আরো ২টা লঞ্চ থাকবে।

হরতালের কারণে অধিকাংশ যাত্রীদের কর্মস্থলে ফেরার জন্য রোববার চাপ বেশি ছিল।

যার ফলে ওই তারিখে টিকেট সোনার হরিনে রূপ নিয়েছে।

হরতালের কারণে রবিবার ও সোমবার যাত্রীচাপ বেড়ে যাবে বলে জানালেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার ভাইজ চেয়ারম্যান ও সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু। তবে এর মূল চাপ হরতালের পর দিন ১৫ আগষ্ট পড়বে বলে তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে যাত্রীরা ঢাকা পানে ছুটতে শুরু করেছে। যাত্রীদের চাপ সামলাতে ডাবল ট্রিপ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতি। যারা সরকারি চাকুরীরত রয়েছে তারা গত শনিবারই ঈদ উদযাপন করে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। তবে অন্যান্যরা গতকাল রবিবার ঢাকায় ছুটবেন। যার কারনে ঐ ২ দিন যাত্রী চাপ থাকবে ব্যাপক বলে রিন্টু জানান।

বরিশাল নগরীর লঞ্চ ও বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি কাউন্টারে ছিল উপচেপড়া ভিড়। তবে গত ১০ আগষ্ট টিকেটের চাপ ছিল না। ছিল ১১-১২ আগষ্ট টিকেটের সংকট। যাত্রীরা বলছে, পর্যাপ্ত লঞ্চ দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে টিকেট সংকট। আসার সময়ের মত ১২-১৩টা লঞ্চ দিলে এ যাত্রী চাপ সামলান যেত।

এদিকে অধিকাংশ লঞ্চ অতিরিক্ত লাভের আশায় ধারন ক্ষমতার কয়েকগুন বেশী যাত্রী নিয়ে ঘাট ছেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিআইডবি¬উটিএ’র কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা লঞ্চ মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এর বিষয় দেখেও না দেখার ভান করছে।

সুমন নামে ঢাকাগামী এক চাকুরীজীবি জানান, প্রতিটা লঞ্চে উপচেপড়া ভীড়। এতো মানুষ লঞ্চে উঠলে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পাড়ে। তিনি জানান, তার  কেবিনের সম্মুখভাগেও চাদর বিছিয়ে এমনভাবে দখল করে নেয়া হয়েছে যে সে  দরজাও খুলতে পারছেন না।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল বাসার মজুমদার বলেন, রোববার থেকে যাত্রী চাপ বেড়েছে। তাই সুন্দরবন-৮, সুরভী-৮, পারাবাত-৯, টিপু-৭ নিয়োমিত সার্ভিসের সাথে স্পেশাল সার্ভিস দ্বীপরাজ ও র্কীতনখোলা-২ সহ মোট ৬টি লঞ্চ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, যাত্রীদের কোন প্রকার অসুবিধা না হয় সেই দিকে দৃষ্টি রেখে বন্দর ভবন, টার্মিনাল এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচী নেয়া হয়েছে।

অপদিকে রবিবার নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস র্টামিনালে গিয়ে দেখা দেছে, প্রতিঘন্টায় ২/৩ টা করে বাস টার্মিনাল ছেড়ে ঢাকার উদ্যোশে যাচ্ছে। বাসের চলাচল বিষয়ে বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপো ম্যানেজার (অপারেশন) মো:জামিল আহম্মেদ জানান, বরিশাল কাওড়াকান্দি রুটে প্রতি ঘণ্টায় বাস রাখা হয়েছে। যাত্রীদেরকে দুর্ভোগে পড়তে হবে না।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১