July 23, 2017

গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বরিশাল চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট বদলীর আদেশ স্থগিত

--- ২১ আগস্ট, ২০১৩

বরিশাল টুডে ॥ বরিশাল চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট পদে সাতক্ষীরার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এম.এ. আব্দুর রব হাওলাদারকে বদলীর আদেশ মাত্র ৬ দিনের মাথায় স্থগিত করা হয়েছে। গত ১৩ আগষ্ট আইন মন্ত্রনালয় বিচার বিভাগের ১৮ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন স্থানে বদলী করেন। এদের মধ্যে সাতক্ষিরার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট  এম.এ.রব হাওলাদারকে বরিশাল চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট পদে বদলী করা হয়। সিটি কর্পোরেশন ঘোষনার এক যুগ ও মেট্টোপলিটন সিটিতে রুপান্তরের অর্ধযুগ পর এ পদে বিচারক নিয়োগে খুশীর পরিবর্তে আইনজীবি ও বিচার প্রার্থী সহ সকলের মনে আতংক ছড়িয়ে পরে।

ঐ বিচারক ইতিপূর্বে এখানে কর্মরত অবস্থায় নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠে তার বিরদ্ধে। তাই আইনজীবি ও বিচার প্রার্থীরা বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থে আইন মন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ এর সরনাপন্ন হন। ১৯ আগষ্ট আইন , বিচার  ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ খোজ খবর নিয়ে বিচারকের বিরুদ্ধে অনিয়মের তথ্য পেয়ে পর দিনই তার বদলীর আদেশ বাতিল করেন।
এখানকার আইনজীবি ও বিচার প্রার্থীরা জানান- এমএ আব্দুর রবের বিরুদ্ধে অনিয়মের কোন শেষ নেই। আইন মন্ত্রীর এ পদক্ষেপ বরিশালবাসী কৃতজ্ঞতার সাথে সারা জীবন মনে রাখবেন।

এম এ আব্দুর রব হাওলাদারের বদলীর ব্যাপারে আইন মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান- এম এ রব অযোগ্য এবং অদক্ষ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকায় তার বদলীর আদেশ বাতিল করা হয়েছে। বরিশালের চীফ ম্যাট্টোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট পদে সৎ ও যোগ্য বিচারক খুব শিঘ্রই নিয়োগ দেওয়া হবে। অভিযোগকারীরা জানান- এম এ রব ছাড়া যে কোন বিচারককে এখানে নিয়োগ দিলে স্বাভাবিক ভাবেই কাজ কর্ম চলবে। আদালতে এসে কোন বিচার প্রার্থী হয়রানীর শিকার হবেন না। আ্ইজীবিরাও সততার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

আইন মন্ত্রীর বরাবর লিখিত অভিযোগে ভূক্তভোগীরা জানান এম.এ. রব সাহেব দীর্ঘদিন যাবত বরিশাল নগরীতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করিয়া আসিতেছেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তাহার অনেক ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজন রহিয়াছে। তিনি তাহার কর্মজীবনে ১৯৯৫-১৯৯৭ সনের দিকে বরিশাল জেলায় সহকারী জজ হিসেবে গৌরনদী থানার দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। তখন মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়া মাত্র দুই-তিন মাস সময় সীমারমধ্যে অসংখ্য মৌখিক পত্তনের দাবীতে মোকদ্দমা দায়ের করাইয়া বিভিন্ন থানা ও মৌজার সম্পত্তি একত্রে এক মামলায় রায়-ডিগ্রী প্রদান করিয়াছেন। ২০০৪-০৬ সনের দিকে বরিশালের ২য় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পুনঃরায় কর্মরত অবস্থায় তৎকালীন বাবুগঞ্জ থানার আগরপুর ও ঠাকুর মল্লিক এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসীদের  উৎকোচের বিনিময়ে জামিন প্রদান করিয়াছেন। ২০০৩ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। তখন তিনি অনৈতিক কর্মকান্ড করে বিচারক হিসাবে বরিশাল বাসীর আস্থা হারান।

তাহার জন্মস্থান পাংগাশিয়ায় বিপুল অর্থ ব্যায়ে বিলাসবহুল স্থাপনা নির্মাণের সময় তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো তাহার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের হিসাব জানতে চাইলে তিনি ১ম পক্ষের শ্বশুর বাড়ীর লোক তথা শালা-সমন্ধীদের কাছ থেকে পূর্বের তারিখের বিভিন্ন অংকের চেক নিয়া দূর্নীতির মামলা হইতে অব্যহতি পান।

এম.এ. রব সাহেব প্রথমত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকাধীন নবগ্রাম রোডস্থ আলহাজ্ব ডাঃ আঃ মতিন সাহেবের কন্যা মাহা বিনতে মতিনকে বিবাহ করেন। তিনি স্থায়ী ভাবে তাহার পিত্রালয়ে বসবাস করা অবস্থায় স্বামী এম.এ রব পুনরায় দ্বিতীয় বিবাহ করেন। বরিশাল নগরীতেই তার বসবাস । ইতিমধ্যেই প্রথম পক্ষের স্ত্রী’র ঘরে সন্তান না থাকা সত্ত্বেও সেই বাড়ির একটি ভবন জোরপূর্বক দখল করিয়া বসবাস করিতেছেন। ইতিপূর্বে তিনি পুলিশ লাইনসে তার একটি ভাড়াটিয়া বাসার বাসিন্দা ছিলেন। তখন তিনি নিয়ম নীতি লংঙ্খন করে সেখানকার আবাসিক বাসিন্দাদের নিয়ে সামাজিক সংগঠনের নেতা বনে যান। ঐ সংগঠনের সাথে তার দহরম মহরম থাকার পাশাপাশি রয়েছে আতœীয়- স্বজন। ঝালকাঠী, বরগুনা ও সাতক্ষীরার দায়িত্ব পালন কালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ দূর্নীতি ও নারী নির্যাতন সহ হরেক রকম অভিযোগ উন্থাপিত হয়।  

তিনি ঝালকাঠীতে   কর্মরত অবস্থায় তাহার বাসার নাবালিকা কাজের মেয়ের সাথে অবৈধ মেলামেশা করায় তা নিয়ে শালিস – বৈঠক ও পারিবারিক কলহ সৃষ্টির বিষয়টি বরিশাল ও ঝালকাঠী শহরের সর্ব মহলে সমালোচিত হইয়াছে।

তাহার প্রথম স্ত্রীর পিতা আলহাজ্ব ডাঃ আঃ মতিন সাহেব মৃত্যু মুখে পতিত হইলে মরহুমের ওয়ারিশগণ তথা দুই পুত্র, তিন কণ্যা ও স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি ভাগ বন্টন করিতে গেলে ডাঃ মোঃ আল-আমিন ও ডাঃ খালেদ আঃ মতিনের মধ্যে দখল ব্যবহার নিয়ে মত বিরোধ দেখা দেয়। তখন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সমঝোতায় আপোষ নিষ্পত্তি ও শালিসির আয়োজন করিলে জজ এম.এ রব এসে তাতে বাধা প্রদান করেন। স্থানীয় শালিসদার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। নি:সন্তান স্ত্রীর পৈত্রিক সম্পতি হাতিয়ে নিয়ে নিজে শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার নেশায় সে বহু দিন যাবত বরিশালে আসার  চক্রান্ত করে আসছিল। যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত রহিয়াছে। ইতি মধ্যেই ভবন দখলের পর শ্বশুর পক্ষের ওয়ারিস গনকে সাইজ করিবার লক্ষ্যে  থানায় একাধিক মিথ্যা অভিযোগ করাইয়া তিনি স্বÑশরীরে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় হাজির হন। তিনি তৎকালীন ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এক  এসআই কে বিচারক পরিচয়ে হুমকি দেন। থানার তৎকালীন এসিকেও দেখে নেওয়ার হুমকে দেয় এই রব।  কোতয়ালী থানার অভ্যন্তরে বসে তার এসব হুমকি-ধামকির খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছে। সে পত্রিকার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নেমেছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়। অভিযোগে জানান যায় তখন থেকেই রব হাওলাদার  বরিশালের বিচারক হইয়া শীঘ্রই আসিবেন বলে পুলিশ ও এলাকার গন্য মান্য ব্যক্তিদের  হুমকি প্রদান করিয়া আসিতেছেন। গত ১৪ আগস্ট তাহার বরিশালে বদলীর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আতংক ছড়িয়ে পরে। এরকম একজন দুর্নীতি পরায়ন ব্যক্তিকে সি.এম.এম নিয়োগ না দেওয়ার জন্য নগরবাসীর পক্ষ থেকে ১৮ আগষ্ট আইন মন্ত্রী ব্যরিষ্টার শফিক আহমেদ এর বরাবর আবেদন করা হয়। সকল রাজনৈতিক বিচার বিবেচনার উর্ধ্বে উঠে আইন মন্ত্রী সাধারন মানুসের সু- বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দূর্নীতিবাজ আব্দুর রবের বদলীর আদেশ স্থগিত করেন। তিনি বিচার বিভাগে দূর্ণীতির বরপুত্র হিসাবে পরিচিত বলে তার সহকর্মী ও  আইনজীবীরা জানান। বরিশালের গণমানুষের দাবী পূরন হওয়ার মধ্য দিয়ে  বরিশালবাসী দুর্নীতি, ঘুষ ও কেলেংকারীর হাত হতে রক্ষা পাওয়ার উপায় খুজে পেয়েছে। আইন মন্ত্রীর মহানুভবতার কারনেই এটা সম্ভব হয়েছে।

ফেইসবুকে আমরা

পুরনো সংখ্যা

জুলাই ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১